পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৭২: শেষ সাক্ষাৎকার
ভিডিওটি শেষ হওয়ার পরও কেউ নড়ল না।
মেহেদী স্থির দৃষ্টিতে কালো হয়ে যাওয়া মনিটরের দিকে তাকিয়ে রইল।
রুদ্রের শেষ কথাটি যেন বারবার ফিরে আসছে।
«"আমাকে থামাতে আয়।"»
এটি কোনো চ্যালেঞ্জের মতো শোনায়নি।
বরং...
একটি অনুরোধের মতো।
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"ও কি আত্মসমর্পণ করতে চায়?"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"না।"
"রুদ্র কখনো এত সহজ হবে না।"
"তবে ও ক্লান্ত।"
---
মিতু আবার ভিডিওটি বিশ্লেষণ করতে শুরু করল।
"একটু দাঁড়াও..."
"ভিডিওর পেছনে একটা শব্দ আছে।"
অডিও পরিষ্কার করা হলো।
দূরে...
বৃষ্টির শব্দ।
তারপর ভারী ধাতব দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ।
আর খুব ক্ষীণভাবে ভেসে এল একটি পুরোনো গান।
---
বৃদ্ধ শিক্ষক হঠাৎ চমকে উঠলেন।
"এই গানটা!"
সবাই তাঁর দিকে তাকাল।
তিনি কাঁপা গলায় বললেন,
"শালবনের পুরোনো অনাথ আশ্রমে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই গান বাজত।"
---
মেহেদীর চোখ বড় হয়ে গেল।
"অনাথ আশ্রম?"
---
"হ্যাঁ।"
"তোমরা দুজন প্রায়ই সেখানে যেত।"
"কারণ..."
তিনি কিছুক্ষণ থামলেন।
"কারণ তোমরা দুজনেই ভাবতে, একদিন যদি তোমাদের বাবা-মা না থাকে, তাহলে ওই আশ্রমেই একসঙ্গে থাকবে।"
---
ঘরের বাতাস আরও ভারী হয়ে উঠল।
---
ঠিক তখনই রাশেদ পুরোনো সরকারি নথি নিয়ে ঢুকল।
"স্যার..."
"খুব অদ্ভুত একটা তথ্য পেয়েছি।"
---
"কী?"
---
"যে অনাথ আশ্রমের কথা বলা হচ্ছে..."
"...সেটা সরকারি কাগজে দশ বছর আগে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে বলে লেখা আছে।"
---
মিতু সঙ্গে সঙ্গে স্যাটেলাইট ছবি খুলল।
কয়েক মুহূর্ত পর সে বিস্মিত হয়ে বলল,
"না!"
"ভবনটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে।"
"শুধু সরকারি মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।"
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"অর্থাৎ..."
---
মেহেদী বাকিটা বলল।
"কেউ ইচ্ছা করে জায়গাটাকে অদৃশ্য করেছে।"
---
হঠাৎ থানার বিদ্যুৎ এক সেকেন্ডের জন্য চলে গেল।
আবার ফিরে এলো।
সব মনিটরে একসঙ্গে একটি নতুন বার্তা ভেসে উঠল।
«FINAL INTERVIEW»
তার নিচে একটি সময়।
আজ রাত ১১:০০।
আর একটি ঠিকানা।
শালবন অনাথ আশ্রম।
---
বার্তার নিচে একটি মাত্র লাইন।
«"এবার কোনো ধাঁধা নয়।"»
«"শুধু সত্য।"»
---
মারুফ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
"আমরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলব।"
---
মেহেদী ধীরে মাথা নাড়ল।
"না।"
---
"কেন?"
---
"কারণ এবার রুদ্র পালাতে চায় না।"
"সে চাইলে এতক্ষণে শতবার অদৃশ্য হয়ে যেতে পারত।"
---
মিতু জিজ্ঞেস করল,
"তাহলে সে কী চায়?"
---
মেহেদী জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
"সে তার গল্প শেষ করতে চায়।"
---
ঠিক তখনই মেহেদীর ফোনে একটি নতুন বার্তা এল।
প্রেরক...
রুদ্র।
বার্তায় মাত্র একটি বাক্য।
«"তুই যদি দেরি করিস... তাহলে আবার একজন বন্ধুকে হারাবি।"»
নিচে একটি পুরোনো ছবি সংযুক্ত।
ছবিতে দুটি ছোট ছেলে।
একজন মেহেদী।
অন্যজন রুদ্র।
দুজনের হাতে একটি কাঠের বাক্স।
বাক্সটির ওপর লেখা।
"খুলবে: ২০ বছর পরে।"
মেহেদীর চোখ স্থির হয়ে গেল।
সে ছবিটি বড় করে দেখল।
তারিখ...
২৮ জুলাই, ২০০৬।
আজকের দিন থেকে ঠিক বিশ বছর আগে।
সে বুঝতে পারল...
আজকের রাত শুধু একটি অপরাধীর সঙ্গে শেষ মুখোমুখি হওয়ার রাত নয়।
আজ খুলতে যাচ্ছে...
বিশ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি প্রতিশ্রুতির বাক্স।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।