Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ২০: যে মানুষটি নিজের নাম ভুলে গেল ( কেস ২: স্মৃতি চোর)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (11,421 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
কেস ২: স্মৃতি চোর

পর্ব ২০: যে মানুষটি নিজের নাম ভুলে গেল

কালোছায়া গ্রামের ঘটনায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে।

সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি "পরিত্যক্ত গবেষণাগারের রহস্য" নামেই পরিচিত হয়েছে। পুলিশের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি অবৈধ গবেষণাকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং কয়েকজন অপহৃত মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু প্রজেক্ট নির্বাণ, ASTER কিংবা ড. আরিফ সালেহ সম্পর্কে একটি শব্দও প্রকাশ করা হয়নি।

মেহেদীও বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু বলেনি।

কারণ সে জানত, রহস্যের মাত্র দশ শতাংশই উন্মোচিত হয়েছে।

---

কলেজে সেদিন ছিল ইন্টার পরীক্ষার প্রস্তুতি ক্লাস।

অনেক দিন পর মেহেদী, সৌরভ, শাহীনুর আর মিতু একসঙ্গে ক্লাসে বসেছে।

শিক্ষক বোর্ডে গণিতের একটি জটিল সমস্যা লিখে সমাধান করছেন।

হঠাৎ পেছনের বেঞ্চ থেকে একটি অদ্ভুত শব্দ শোনা গেল।

একজন ছাত্র হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়েছে।

তার চোখ স্থির।

মুখে ভয়ের ছাপ।

শিক্ষক বিরক্ত হয়ে বললেন,

"রাকিব, কী হয়েছে?"

ছেলেটি চারদিকে তাকাল।

তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,

"স্যার..."

"...আমি কে?"

পুরো ক্লাস স্তব্ধ হয়ে গেল।

শিক্ষক প্রথমে ভেবেছিলেন ছেলেটা হয়তো মজা করছে।

"বসো।"

"না স্যার..."

"...আমি সত্যিই মনে করতে পারছি না আমি কে।"

সে নিজের ব্যাগের দিকে তাকাল।

বইয়ের দিকে তাকাল।

চারপাশের বন্ধুদের দিকে তাকাল।

কিন্তু তার চোখে কোনো পরিচয়ের ছাপ নেই।

---

দশ মিনিটের মধ্যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।

ডাক্তাররা ধারণা করলেন, হয়তো সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ।

কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেল...

সে নিজের নাম জানে না।

বাবা-মাকে চিনতে পারছে না।

কিন্তু গণিতের জটিল সূত্র মুখস্থ বলতে পারছে।

ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলতে পারছে।

সাইকেল চালাতে পারছে।

অর্থাৎ...

তার দক্ষতাগুলো ঠিক আছে। হারিয়ে গেছে শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি।

---

সন্ধ্যায় মারুফ ফোন করলেন।

"মেহেদী, হাসপাতালে আসতে পারবি?"

"কী হয়েছে?"

"আজকের ছেলেটা একা না।"

মেহেদীর বুক ধক করে উঠল।

---

হাসপাতালে পৌঁছে সে দেখল, আরও তিনজন রোগী ভর্তি।

একজন ব্যাংকের কর্মকর্তা।

একজন স্কুলশিক্ষিকা।

একজন রিকশাচালক।

তিনজনের বয়স, পেশা, জীবন সম্পূর্ণ আলাদা।

কিন্তু সমস্যাটা একই।

তারা নিজেদের পরিচয় ভুলে গেছে।

---

মিতু প্রত্যেকের রিপোর্ট দেখছিল।

হঠাৎ সে বলল,

"অদ্ভুত।"

"কী?"

"চারজনেরই ব্রেন স্ক্যান প্রায় স্বাভাবিক।"

"কোনো আঘাত নেই।"

"স্ট্রোক নেই।"

"টিউমার নেই।"

"তাহলে স্মৃতি গেল কীভাবে?"

কেউ উত্তর দিতে পারল না।

---

মেহেদী রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল।

সে প্রথমে রাকিবকে জিজ্ঞেস করল,

"এটা কী?"

সে একটি কলম দেখাল।

"কলম।"

"এটা?"

"ঘড়ি।"

"বাংলাদেশের রাজধানী?"

"ঢাকা।"

"দুই আর দুই যোগ করলে?"

"চার।"

সব ঠিক।

তারপর মেহেদী জিজ্ঞেস করল,

"তোমার বাবার নাম কী?"

রাকিবের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

"জানি না।"

"তোমার বাড়ি কোথায়?"

"...জানি না।"

---

মেহেদী কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর পকেট থেকে একটি ছোট আয়না বের করে রাকিবের হাতে দিল।

"নিজের মুখটা দেখো।"

রাকিব আয়নায় তাকাল।

প্রায় এক মিনিট।

তারপর ফিসফিস করে বলল,

"...এই মানুষটাকে আমি চিনি না।"

ঘরে উপস্থিত সবাই শিউরে উঠল।

---

ঠিক তখনই একজন নার্স দৌড়ে এল।

"স্যার!"

"আরেকজন রোগী এসেছে!"

সবাই দ্রুত জরুরি বিভাগে গেল।

স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন প্রায় ষাট বছরের এক বৃদ্ধ।

তিনি জ্ঞান ফেরার পর প্রথম কথাই বললেন,

"আমার নাম..."

তিনি থেমে গেলেন।

তারপর মাথা চেপে ধরে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,

"আমি... আমি..."

বাকিটা বলতে পারলেন না।

---

মারুফ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"এটা কি কোনো নতুন রোগ?"

মিতু মাথা নাড়ল।

"এক দিনে পাঁচজন?"

"অসম্ভব নয়, কিন্তু খুব অস্বাভাবিক।"

---

ঠিক তখনই হাসপাতালের এক জুনিয়র ডাক্তার এগিয়ে এলেন।

"স্যার, একটা কথা বলব?"

"বলুন।"

"আজ বিকেলে পাঁচজন রোগীর শরীরেই একটা জিনিস পেয়েছি।"

তিনি একটি ছোট স্বচ্ছ শিশি টেবিলে রাখলেন।

ভেতরে নীলাভ রঙের তরল।

মেহেদীর চোখ হঠাৎ স্থির হয়ে গেল।

সে ধীরে শিশিটা হাতে নিল।

আলোর নিচে ঘুরিয়ে দেখল।

তারপর খুব আস্তে বলল,

"...না..."

"...এটা হতে পারে না।"

মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,

"কী হয়েছে?"

মেহেদী শিশিটা টেবিলে রেখে বলল,

"এই নীল রাসায়নিক..."

"...আমরা আগের কেসেও পেয়েছিলাম।"

ঘরের বাতাস যেন এক মুহূর্তে ঠান্ডা হয়ে গেল।

ASTER আবার ফিরে এসেছে।

চলবে...
আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 566 টি লেখা ও 10 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 11421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4374
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ২২: যে ছবি সময়কে লুকিয়ে রেখেছিল ল্যাবের টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো সাদাকালো ছবিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল মেহেদী। ছবির কাগজ হলদেটে হয়ে গেছে। কোণাগ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ২১: যে স্মৃতি চুরি হয় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে টেবিলের মাঝখানে রাখা ছোট কাঁচের শিশিটির দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। নীলাভ তরল। ঠিক আগের কেসে পাওয়া রাসায়নিকের মতোই। মে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩৩: ডিরেক্টরের ডায়েরি কাঁচের বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড কেউ একটি কথাও বলল না। বাক্সের ভেতরে রাখা কালো চামড়ার ডায়েরিটি সময়ের ভারে কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩২: প্রজেক্ট ০০১ ধাতব করিডোরে পা রাখতেই মেহেদীর জুতোর শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। টক... টক... টক... করিডোরের দুই পাশের দেয়াল কংক্রিটের হলেও তার ওপর আধুনিক ধাতব আবর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩১: মৃত মানুষের লগইন ডাটা সেন্টারের অ্যালার্ম একটানা বেজেই চলেছে। বিপ... বিপ... বিপ... সার্ভারের সবুজ ও নীল আলো লাল হয়ে উঠেছে। সৌরভ কীবোর্ডে দ্রুত হাত চালাচ্ছে। তার কপাল�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    3531 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    176 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2162 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    107 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...