কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ৮: মৃত্যুর আগের ভিডিও
মারুফের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে মেহেদী আবার ভিডিওটি চালাল।
মাত্র তিন সেকেন্ড।
অন্ধকার ঘর।
চেয়ারে বাঁধা একজন মানুষ।
মুখে কাপড়।
শেষ মুহূর্তে সে মাথা তুলছে।
মুখটা স্পষ্ট দেখা যায়।
আবদুল কাদের।
প্রথম ভিকটিম।
ভিডিও শেষ।
---
সৌরভ ধীরে বলল,
"তাহলে..."
"...লোকটাকে অপহরণ করার পর ভিডিও করেছে।"
মিতু মাথা নাড়ল।
"হতে পারে।"
"কিন্তু ভিডিওটা আজ পাঠানো হলো কেন?"
মেহেদী কোনো উত্তর দিল না।
সে ভিডিওটি ফ্রেম বাই ফ্রেম দেখতে শুরু করল।
---
প্রথম ফ্রেম।
কিছুই নেই।
দ্বিতীয় ফ্রেম।
দেয়ালের এক কোণে সাদা রঙের দাগ।
তৃতীয় ফ্রেম।
ছাদের সঙ্গে ঝুলে থাকা একটি বাল্ব।
চতুর্থ ফ্রেম।
মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ভাঙা মাটির কলস।
পঞ্চম ফ্রেম।
আবদুল কাদের মাথা তুলছে।
হঠাৎ মেহেদী ভিডিও থামিয়ে দিল।
---
"পিছিয়ে দে।"
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"কোথায়?"
"আরও এক ফ্রেম।"
ভিডিও আবার পিছিয়ে নেওয়া হলো।
এইবার মেহেদী মোবাইলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিল।
মিতু বিস্ময়ে বলল,
"ওটা কী?"
দেয়ালের ওপর খুব ক্ষীণভাবে কিছু লেখা।
খালি চোখে প্রায় দেখা যায় না।
---
মেহেদী স্ক্রিনশট নিয়ে ছবিটা বড় করল।
ধীরে ধীরে অক্ষরগুলো পরিষ্কার হলো।
S-14
শাহীনুর বলল,
"এটা আবার কী?"
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল,
"হয়তো ঘরের নম্বর।"
"হয়তো গুদামের নাম।"
"অথবা..."
"...ইচ্ছা করে রেখে যাওয়া সূত্র।"
---
ঠিক তখনই মারুফের ফোনে ফরেনসিক রিপোর্ট এল।
তিনি পড়তে পড়তে থেমে গেলেন।
"মিতু..."
"হ্যাঁ?"
"আবদুল কাদেরের মৃত্যুর সময় নিয়ে সমস্যা হয়েছে।"
"কেন?"
"প্রথম রিপোর্ট বলেছিল রাত ১২টার দিকে মৃত্যু হয়েছে।"
"নতুন বিশ্লেষণ বলছে..."
"...সম্ভবত মৃত্যু তারও চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আগে।"
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"মানে?"
"মানে আমরা এতক্ষণ ভুল সময় ধরে তদন্ত করছিলাম।"
---
মেহেদীর মাথায় যেন হঠাৎ বিদ্যুৎ খেলে গেল।
"এক মিনিট..."
সে দ্রুত প্রথম অপরাধস্থলের সব ছবি বের করল।
তারপর দ্বিতীয় কেসের নোট।
তারপর ভিডিও।
সব পাশাপাশি রাখল।
---
"আমি একটা জিনিস এতক্ষণ খেয়াল করিনি।"
সৌরভ এগিয়ে এল।
"কী?"
"প্রথম ভিকটিমের হাতঘড়ি।"
"কী হয়েছে?"
"সব ছবিতে সময় আটকে আছে..."
৬টা ৪০ মিনিটে।
---
মিতু বলল,
"ঘড়ি তো আঘাতে নষ্ট হতে পারে।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হতে পারে।"
"কিন্তু..."
"দ্বিতীয় ভিকটিমের পকেট ঘড়িও থেমেছিল..."
৬টা ৪০ মিনিটে।
সবাই চুপ।
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"এটা কাকতালীয়?"
মেহেদী উত্তর দিল,
"দুইবার হলে হয়তো।"
"কিন্তু আমি নিশ্চিত..."
"...তৃতীয় ঘটনাতেও ৬টা ৪০-এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে।"
---
ঠিক তখনই শাহীনুর ব্যাগ থেকে তৃতীয় ঘটনাস্থলে পাওয়া ধাতব বাক্সটি বের করল।
মেহেদী সেটার ডিজিটাল ঘড়ি চালু করার চেষ্টা করল।
ডিসপ্লে একবার জ্বলে উঠল।
তারপর নিভে গেল।
কিন্তু নিভে যাওয়ার আগে মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য যে সংখ্যা দেখা গেল...
18:40
সৌরভ ফিসফিস করে বলল,
"সন্ধ্যা ছয়টা চল্লিশ..."
---
মেহেদী ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে গেল।
"না..."
"খুনি সময় বেছে নিচ্ছে না।"
"সে আমাদের একটা সময় মনে রাখতে বাধ্য করছে।"
---
ঠিক তখনই তার ফোনে আরেকটি বার্তা এল।
কোনো নম্বর নেই।
কোনো নাম নেই।
শুধু একটি অডিও ফাইল।
সে প্লে করতেই একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।
কালো পোশাকের লোকটি।
"মেহেদী..."
"তুমি অবশেষে সময়টা খুঁজে পেয়েছ।"
"এখন প্রশ্ন হলো..."
"...১৮:৪০ কি মৃত্যুর সময়?"
"...নাকি জন্মের?"
অডিও শেষ।
---
সবার মুখে বিস্ময়।
মারুফ ধীরে বললেন,
"জন্ম?"
মেহেদী দূরে অস্ত যাওয়া সূর্যের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে পড়ল...
কেস ২-এ ড. আরিফের ভিডিও।
জন্মসনদ।
চারটি নবজাতক।
হাসপাতালের আগুন।
সে ধীরে ফিসফিস করে বলল,
"এটা শুধু এই কেসের রহস্য না..."
"...কেউ অতীতের একটি ঘটনার দিকে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"
ঠিক তখনই মিতুর ল্যাপটপে একটি নতুন তথ্য ভেসে উঠল।
NEXUS ENGINEERING SERVICES নামে কোনো নিবন্ধিত কোম্পানি নেই।
কিন্তু...
১৮ বছর আগে একই নামে একটি গবেষণা প্রকল্প ছিল।
আর সেই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন...
ড. আরিফ সালেহ।
মেহেদী স্থির হয়ে গেল।
কারণ এতদিন সে ভেবেছিল...
ড. আরিফ শুধু ASTER-এর বিরোধী ছিলেন।
কিন্তু যদি...
NEXUS-ও তারই সৃষ্টি হয়?
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।