পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৭: R-9
মেহেদী মেঝে থেকে হাসপাতালের পরিচয়পত্রটি তুলে নিল।
কার্ডের সামনের অংশে নাম ছিঁড়ে ফেলা।
পেছনে শুধু একটি শব্দ।
R-9
সে কার্ডটি আলোতে ধরল।
ল্যামিনেশনের নিচে খুব ক্ষীণ একটি জলছাপ দেখা যাচ্ছে।
NRI
মিতু কার্ডটি হাতে নিয়ে বলল,
"এটা সাধারণ হাসপাতালের আইডি নয়।"
"এই কার্ড অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়েছে।"
---
মারুফ দ্রুত বললেন,
"National Research Institute?"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"সম্ভবত।"
"কেউ এই কার্ড ব্যবহার করে হাসপাতালে ঢুকেছিল।"
---
ঠিক তখনই হাসপাতালের সিসিটিভি কক্ষ থেকে খবর এল।
"স্যার, কয়েক মিনিট আগে যে নারীকে দেখেছেন, তার ভিডিও পেয়েছি।"
সবাই দ্রুত মনিটরের সামনে গেল।
ভিডিওতে দেখা গেল, সাদা কোট পরা নারীটি করিডোর দিয়ে হাঁটছেন।
তার মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সব সময় ক্যামেরার কোণের বাইরে থাকছেন।
---
মিতু বিস্মিত হয়ে বলল,
"তিনি জানতেন ক্যামেরা কোথায় আছে।"
---
ভিডিওর শেষ ফ্রেমে নারীটি একবার মুখ ঘুরালেন।
মাত্র এক সেকেন্ড।
কিন্তু সেই এক সেকেন্ডই যথেষ্ট ছিল।
ফ্রেম থামিয়ে বড় করা হলো।
মুখ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট।
তার ডান গালের পাশে একটি লম্বা পুরোনো কাটা দাগ।
---
আফসার রহমান ছবিটি দেখেই কেঁপে উঠলেন।
"এই দাগ..."
"আমি এই দাগ চিনি।"
---
মেহেদী তাকাল।
"কার?"
আফসার ধীরে বললেন,
"ড. নাদিয়া রহমান।"
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
এতদিন যাকে মৃত বা নিখোঁজ ভাবা হচ্ছিল...
তিনি সম্ভবত জীবিত।
---
ঠিক তখনই ফরেনসিক বিশ্লেষক রাশেদ নতুন একটি তথ্য নিয়ে এলেন।
"স্যার, পরিচয়পত্রে আঙুলের ছাপ পেয়েছি।"
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"কার?"
"অদ্ভুত ব্যাপার হলো..."
"ছাপটি কোনো সরকারি ডাটাবেসে নেই।"
---
মেহেদী হালকা হাসল।
"যদি সত্যিই নাদিয়া এত বছর আত্মগোপনে থাকেন, তাহলে নিজের পরিচয়ের রেকর্ড মুছে ফেলাই স্বাভাবিক।"
---
হঠাৎ মিতুর চোখ পড়ল পরিচয়পত্রের নিচের কোডে।
R9-04-21
সে বলল,
"এটা শুধু R-9 নয়।"
"এর সঙ্গে আরও তিনটি সংখ্যা আছে।"
---
মেহেদী কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল।
তারপর হাসপাতালের মানচিত্র, NRI-এর পুরোনো নকশা এবং হার্ডড্রাইভের তথ্য পাশাপাশি রাখল।
হঠাৎ তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
"R-9 কোনো ব্যক্তি নয়।"
"কোনো ঘরও নয়।"
"এটা একটি গবেষণা নথির সংস্করণও নয়।"
---
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"তাহলে?"
---
"R মানে..."
Research Wing.
"আর ৯ মানে..."
নবম ল্যাব।
"R9-04-21 সম্ভবত সেই ল্যাবের অভ্যন্তরীণ নথির কোড।"
---
আফসার রহমান আস্তে বললেন,
"Research Wing-9..."
"ওটা তো..."
তিনি বাক্য শেষ করতে পারলেন না।
---
"কী?"
মেহেদী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
আফসার গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
"ওটা এমন একটি ল্যাব ছিল..."
"...যেখানে অফিসিয়ালি কোনো গবেষণা কখনোই হয়নি।"
---
ঠিক সেই মুহূর্তে রাশেদের কম্পিউটার থেকে সতর্ক সংকেত বেজে উঠল।
স্ক্রিনে একটি নতুন ই-মেইল এসেছে।
প্রেরক অজানা।
বিষয়:
WELCOME TO R-9
মিতু বলল,
"খুলব?"
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"খুলো।"
ই-মেইলের ভেতরে মাত্র একটি ছবি।
অন্ধকার একটি ল্যাবরেটরি।
দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা।
R-9
ছবির এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী।
তার মুখ ছায়ায় ঢাকা।
কিন্তু ডান গালের পুরোনো দাগটি স্পষ্ট।
ছবির নিচে একটি মাত্র বাক্য।
«"তোমরা দেরি করে ফেলেছ। পরীক্ষা আবার শুরু হয়ে গেছে।"»
মেহেদী ছবির দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,
"না..."
"এবার আমরাই আগে পৌঁছাব।"
কিন্তু সে জানত না...
ছবিটি তোলা হয়েছিল মাত্র দশ মিনিট আগে।
আর সেই ল্যাবটি তাদের অবস্থান থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।