পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬০: একই আয়নার দুই মুখ
মেহেদী কালো ফাইলটি ধীরে ধীরে বন্ধ করল।
ঘরের সবাই তার মুখের দিকে তাকিয়ে।
কেউ কোনো কথা বলছে না।
কারণ ফাইলের শেষ লাইনটি পুরো তদন্তের অর্থই বদলে দিয়েছে।
Subject-17 এবং Subject-19...
একই পরীক্ষার দুই বিপরীত ফলাফল।
---
মারুফ নীরবতা ভাঙলেন।
"তাহলে..."
"তোমাকে ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল?"
মেহেদী ধীরে মাথা নাড়ল।
"না।"
"আমার নিজেরও তা মনে নেই।"
"সম্ভবত পরীক্ষার পর আমার স্মৃতির একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছিল।"
---
মিতু ফাইলের পরের পাতাগুলো দেখতে লাগল।
সেখানে একটি বাক্য লাল কালিতে দাগানো।
«'স্মৃতি মুছে ফেলা যায়, কিন্তু শেখা দক্ষতা পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।'»
সে নিচু গলায় বলল,
"এই কারণেই তুমি অনেক সময় এমন কিছু লক্ষ্য করো, যা অন্যরা দেখে না।"
---
ঠিক তখনই ফাইলের ভেতর থেকে একটি ছোট মেমোরি কার্ড মেঝেতে পড়ে গেল।
মেমোরি কার্ডের গায়ে লেখা।
FINAL INTERVIEW
---
সৌরভ দ্রুত সেটি একটি নিরাপদ রিডারে ঢুকিয়ে চালু করল।
ভিডিও শুরু হলো।
একটি ছোট ঘর।
সামনে বসে আছে দুই কিশোর।
তাদের মুখ ঝাপসা করা।
একজনের গায়ে লেখা 17।
অন্যজনের 19।
---
ড. আরিফ সালেহ প্রশ্ন করলেন,
"তোমাদের সামনে যদি একজন নির্দোষ মানুষ আর একজন অপরাধী দাঁড়ায়..."
"কাকে আগে বাঁচাবে?"
---
Subject-17 উত্তর দিল,
"যার জীবন এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।"
---
Subject-19 কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
"অপরাধীকে।"
---
ড. আরিফ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
"কেন?"
---
Subject-19 শান্তভাবে বলল,
"কারণ সে বেঁচে থাকলে..."
"...আমি বুঝতে পারব সে কেন অপরাধী হয়েছে।"
"আর সেই জ্ঞান দিয়ে ভবিষ্যতের আরও অপরাধ থামাতে পারব।"
---
ঘরের সবাই নিস্তব্ধ।
উত্তরটি ভুলও নয়।
আবার পুরোপুরি সঠিকও নয়।
---
ভিডিওতে ড. আরিফ বললেন,
"তুমি কি মনে করো..."
"উদ্দেশ্য ভালো হলে সব উপায় গ্রহণযোগ্য?"
---
Subject-19 মৃদু হেসে উত্তর দিল,
"ইতিহাস বিজয়ীদের নৈতিকতা মনে রাখে না।"
"ফলাফলটাই মনে রাখে।"
---
ভিডিও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।
---
মিতু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
"এখানেই পার্থক্য।"
"দুজনই বুদ্ধিমান ছিল।"
"কিন্তু একজন মানুষের মর্যাদাকে আগে রেখেছে।"
"আর অন্যজন ফলাফলকে।"
---
ঠিক তখনই গবেষণাগারের ভেতরে একটি লুকানো দরজা খুলে গেল।
ভেতরে ছোট একটি অফিস।
দেয়ালে ধুলো জমা নামফলক।
ড. নাদিয়া রহমান
---
মেহেদী ধীরে ঘরে ঢুকল।
টেবিলের ওপর একটি ফ্রেমবন্দী ছবি।
ছবিতে চারজন মানুষ।
আরিফ।
আফসার।
নাদিয়া।
আর...
একজন তরুণ।
মুখে শান্ত হাসি।
ছবির নিচে লেখা,
ড. কামরান হক
---
মারুফ ছবিটি হাতে তুলে বললেন,
"অবশেষে..."
"আমরা তার মুখ পেলাম।"
---
কিন্তু মেহেদীর চোখ ছবির ওপর নয়।
সে তাকিয়ে আছে ছবির পেছনে।
সেখানে হাতে লেখা একটি বাক্য।
«"যদি এই ছবিটি পাও, তাহলে বুঝবে কামরান ইতিমধ্যে তার দ্বিতীয় পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।"»
তার নিচে একটি তারিখ।
২৮ জুলাই, ২০২৬
মিতু দ্রুত ক্যালেন্ডার বের করল।
তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
"মেহেপেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬০: একই আয়নার দুই মুখ
মেহেদী কালো ফাইলটি ধীরে ধীরে বন্ধ করল।
ঘরের সবাই তার মুখের দিকে তাকিয়ে।
কেউ কোনো কথা বলছে না।
কারণ ফাইলের শেষ লাইনটি পুরো তদন্তের অর্থই বদলে দিয়েছে।
Subject-17 এবং Subject-19...
একই পরীক্ষার দুই বিপরীত ফলাফল।
---
মারুফ নীরবতা ভাঙলেন।
"তাহলে..."
"তোমাকে ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল?"
মেহেদী ধীরে মাথা নাড়ল।
"না।"
"আমার নিজেরও তা মনে নেই।"
"সম্ভবত পরীক্ষার পর আমার স্মৃতির একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছিল।"
---
মিতু ফাইলের পরের পাতাগুলো দেখতে লাগল।
সেখানে একটি বাক্য লাল কালিতে দাগানো।
«'স্মৃতি মুছে ফেলা যায়, কিন্তু শেখা দক্ষতা পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।'»
সে নিচু গলায় বলল,
"এই কারণেই তুমি অনেক সময় এমন কিছু লক্ষ্য করো, যা অন্যরা দেখে না।"
---
ঠিক তখনই ফাইলের ভেতর থেকে একটি ছোট মেমোরি কার্ড মেঝেতে পড়ে গেল।
মেমোরি কার্ডের গায়ে লেখা।
FINAL INTERVIEW
---
সৌরভ দ্রুত সেটি একটি নিরাপদ রিডারে ঢুকিয়ে চালু করল।
ভিডিও শুরু হলো।
একটি ছোট ঘর।
সামনে বসে আছে দুই কিশোর।
তাদের মুখ ঝাপসা করা।
একজনের গায়ে লেখা 17।
অন্যজনের 19।
---
ড. আরিফ সালেহ প্রশ্ন করলেন,
"তোমাদের সামনে যদি একজন নির্দোষ মানুষ আর একজন অপরাধী দাঁড়ায়..."
"কাকে আগে বাঁচাবে?"
---
Subject-17 উত্তর দিল,
"যার জীবন এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।"
---
Subject-19 কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
"অপরাধীকে।"
---
ড. আরিফ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
"কেন?"
---
Subject-19 শান্তভাবে বলল,
"কারণ সে বেঁচে থাকলে..."
"...আমি বুঝতে পারব সে কেন অপরাধী হয়েছে।"
"আর সেই জ্ঞান দিয়ে ভবিষ্যতের আরও অপরাধ থামাতে পারব।"
---
ঘরের সবাই নিস্তব্ধ।
উত্তরটি ভুলও নয়।
আবার পুরোপুরি সঠিকও নয়।
---
ভিডিওতে ড. আরিফ বললেন,
"তুমি কি মনে করো..."
"উদ্দেশ্য ভালো হলে সব উপায় গ্রহণযোগ্য?"
---
Subject-19 মৃদু হেসে উত্তর দিল,
"ইতিহাস বিজয়ীদের নৈতিকতা মনে রাখে না।"
"ফলাফলটাই মনে রাখে।"
---
ভিডিও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।
---
মিতু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
"এখানেই পার্থক্য।"
"দুজনই বুদ্ধিমান ছিল।"
"কিন্তু একজন মানুষের মর্যাদাকে আগে রেখেছে।"
"আর অন্যজন ফলাফলকে।"
---
ঠিক তখনই গবেষণাগারের ভেতরে একটি লুকানো দরজা খুলে গেল।
ভেতরে ছোট একটি অফিস।
দেয়ালে ধুলো জমা নামফলক।
ড. নাদিয়া রহমান
---
মেহেদী ধীরে ঘরে ঢুকল।
টেবিলের ওপর একটি ফ্রেমবন্দী ছবি।
ছবিতে চারজন মানুষ।
আরিফ।
আফসার।
নাদিয়া।
আর...
একজন তরুণ।
মুখে শান্ত হাসি।
ছবির নিচে লেখা,
ড. কামরান হক
---
মারুফ ছবিটি হাতে তুলে বললেন,
"অবশেষে..."
"আমরা তার মুখ পেলাম।"
---
কিন্তু মেহেদীর চোখ ছবির ওপর নয়।
সে তাকিয়ে আছে ছবির পেছনে।
সেখানে হাতে লেখা একটি বাক্য।
«"যদি এই ছবিটি পাও, তাহলে বুঝবে কামরান ইতিমধ্যে তার দ্বিতীয় পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।"»
তার নিচে একটি তারিখ।
২৮ জুলাই, ২০২৬
মিতু দ্রুত ক্যালেন্ডার বের করল।
তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
"মেহেদী..."
"আজকের তারিখ..."
"...২৭ জুলাই।"
ঘরের সবাই একে অপরের দিকে তাকাল।
অর্থাৎ...
চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কামরানের দ্বিতীয় পরিকল্পনা শুরু হওয়ার কথা।
আর তারা এখনো জানেই না...
সেটা কী।
চলবে...দী..."
"আজকের তারিখ..."
"...২৭ জুলাই।"
ঘরের সবাই একে অপরের দিকে তাকাল।
অর্থাৎ...
চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কামরানের দ্বিতীয় পরিকল্পনা শুরু হওয়ার কথা।
আর তারা এখনো জানেই না...
সেটা কী।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।