পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬২: ফেজ টু
ড. কামরান হকের ভিডিও বন্ধ হওয়ার পরও মনিটরটি কালো হয়ে রইল।
ঘরের ভেতরে এমন নীরবতা, যেন কেউ নিঃশ্বাস নিতেও ভয় পাচ্ছে।
মারুফ ধীরে বললেন,
"এবার আমরা অন্তত জানি, আসল প্রতিপক্ষ কে।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"জানি..."
"কিন্তু সে কোথায়, সেটা এখনো জানি না।"
---
মিতু কম্পিউটারের লগ পরীক্ষা করতে শুরু করল।
কয়েক মিনিট পর সে বলল,
"ভিডিওটা লাইভ ছিল।"
সৌরভ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
"নিশ্চিত?"
"হ্যাঁ।"
"ভিডিও স্ট্রিম শেষ হয়েছে মাত্র আট সেকেন্ড আগে।"
---
মেহেদী দ্রুত বলল,
"লোকেশন?"
মিতু মাথা নাড়ল।
"আইপি লুকানো।"
"কিন্তু..."
"একটা ভুল করেছে।"
---
"কী ভুল?"
---
"স্ট্রিমের সঙ্গে অডিওও এসেছে।"
"আর অডিওতে খুব ক্ষীণ একটি শব্দ আছে।"
---
সে শব্দটি বড় করে শোনানো হলো।
প্রথমে কিছুই বোঝা গেল না।
তারপর...
টিং... টিং...
একটি ধাতব ঘণ্টার শব্দ।
তারপর দূরে ট্রেনের হুইসেল।
---
মেহেদী চোখ বন্ধ করল।
সে শব্দগুলো বারবার শুনতে লাগল।
হঠাৎ বলল,
"এটা কোনো কারখানা নয়।"
"কোনো স্টেশনও নয়।"
---
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"তাহলে?"
---
"এটা রেলওয়ে কন্ট্রোল ইয়ার্ডের সতর্ক ঘণ্টা।"
"আমি কয়েক বছর আগে একটি মামলায় এই শব্দ শুনেছিলাম।"
---
রাশেদ দ্রুত শহরের মানচিত্র খুলল।
"রেলওয়ে কন্ট্রোল ইয়ার্ডের পাশে আর কী আছে?"
---
কিছুক্ষণ পর সে বলল,
"স্যার..."
"ঠিক পাশেই শহরের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক কন্ট্রোল সেন্টার।"
---
মেহেদী শান্তভাবে বলল,
"Centre Node."
"আমরা ঠিকই ধরেছিলাম।"
---
হঠাৎ সব মনিটরে একসঙ্গে একই ছবি ভেসে উঠল।
ড. কামরান।
এবার তিনি কোনো ল্যাবে নন।
বরং একটি বিশাল কন্ট্রোল রুমে দাঁড়িয়ে আছেন।
পেছনে শত শত স্ক্রিন।
---
তিনি ধীরে বললেন,
"মেহেদী..."
"তুমি কি জানো..."
"মানুষের সভ্যতা কতটা ভঙ্গুর?"
---
তিনি একটি বোতাম চাপলেন।
একটি স্ক্রিনে শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড দেখা গেল।
আরেকটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
তৃতীয়টিতে পানি সরবরাহ।
---
"আমি কিছু ধ্বংস করতে চাই না।"
"আমি শুধু প্রমাণ করতে চাই..."
"...একজন মানুষ চাইলে পুরো শহরের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"
---
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"তুমি ভুল করছ, কামরান।"
---
কামরান হালকা হাসলেন।
"না।"
"আমি শুধু সেই পরীক্ষাটাই শেষ করছি..."
"...যেটা তোমরা শুরু করেছিলে।"
---
ভিডিও কেটে গেল।
ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশের জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থায় একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করল।
"উত্তর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সমস্যা!"
"দক্ষিণের যোগাযোগ টাওয়ারে অস্বাভাবিক সিগন্যাল!"
"পশ্চিম পানি শোধনাগারে নিরাপত্তা সতর্কতা!"
---
মারুফ বললেন,
"সবগুলো কি সত্যি ঘটনা?"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
"না।"
"এগুলো একসঙ্গে শুরু হয়েছে।"
"এটা বাস্তব হামলা হতে পারে..."
"আবার আমাদের ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশলও হতে পারে।"
---
মিতু দ্রুত সব বার্তার সময় মিলিয়ে দেখল।
তারপর বলল,
"অদ্ভুত!"
"সব সতর্কতা একই সেকেন্ডে পাঠানো হয়েছে।"
---
মেহেদীর চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফুটে উঠল।
"মানুষ একসঙ্গে তিন জায়গায় হামলা করতে পারে।"
"কিন্তু তিনটি আলাদা সিস্টেম একই সেকেন্ডে সতর্কতা পাঠানো..."
"...এটা পরিকল্পিত সংকেত।"
---
সে টেবিলের ওপর থাকা মানচিত্রে একটি বৃত্ত আঁকল।
তারপর বলল,
"কেউ কোথাও হামলা করছে না।"
"কামরান চাইছে আমরা কোথাও যাই।"
---
ঠিক তখনই তার ফোনে একটি নতুন বার্তা এল।
প্রেরক অজানা।
বার্তায় মাত্র একটি লাইন।
«"যদি সত্যিই আমাকে ধরতে চাও... তাহলে একাই এসো।"»
নিচে একটি স্থানাঙ্ক।
মেহেদী সেটি দেখে ধীরে বলল,
"রেলওয়ে কন্ট্রোল ইয়ার্ড..."
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
"তুমি একা কোথাও যাবে না।"
মেহেদী শান্ত গলায় উত্তর দিল,
"হয়তো..."
"এটাই সে চায়।"
"কিন্তু এবার আমিও চাই, সে ভাবুক আমি তার পরিকল্পনায় পা দিচ্ছি।"
তার চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।
প্রথমবারের মতো...
শিকার আর শিকারির সীমারেখা ঝাপসা হয়ে গেল।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।