পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫২: আগুনের ভেতরের সত্য
নিচতলা থেকে কালো ধোঁয়া দ্রুত ওপরে উঠতে শুরু করল।
ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠল।
পিঁ... পিঁ... পিঁ...
শাহীনুর চিৎকার করল,
"সবাই নিচে চলুন!"
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে ওয়্যারলেসে খবর দিলেন,
"ফায়ার সার্ভিসকে জানাও! ভবনের চারপাশ ঘিরে ফেলো।"
---
দলটি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই গরম বাতাস মুখে এসে লাগল।
গোপন আর্কাইভের লোহার দরজা আধখোলা।
ভেতর থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে।
কাগজ পুড়ে যাওয়ার তীব্র গন্ধে নিঃশ্বাস নেওয়াই কঠিন।
---
মিতু চারদিকে তাকিয়ে বলল,
"এটা স্বাভাবিক আগুন নয়।"
মেহেদী জিজ্ঞেস করল,
"কেন?"
"আগুন একসঙ্গে চারটি আলমারি থেকে শুরু হয়েছে।"
"এটা পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে।"
---
ঠিক তখনই একজন দমকলকর্মী দৌড়ে এসে বললেন,
"স্যার, ভেতরে যাওয়া খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।"
---
মেহেদী ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
"রুদ্র চায় সব প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাক।"
মারুফ মাথা নাড়লেন।
"তাই হলে আমাদের অন্তত কিছু উদ্ধার করতেই হবে।"
---
মেহেদী, মিতু এবং শাহীনুর অগ্নিনির্বাপণ পোশাক পরে ভেতরে ঢুকল।
তাপ এত বেশি যে কয়েক সেকেন্ডের বেশি এক জায়গায় দাঁড়ানো যাচ্ছে না।
চারদিকে জ্বলছে ফাইলের আলমারি।
কিন্তু ঘরের এক কোণে একটি ধাতব সিন্দুক আগুনের মধ্যেও অক্ষত।
---
সিন্দুকটির দরজায় লেখা।
MASTER RECORD
মেহেদী বলল,
"ওটাই লক্ষ্য।"
---
মিতু দ্রুত সিন্দুক পরীক্ষা করল।
"ইলেকট্রনিক লক।"
"বিদ্যুৎ চলে গেছে, তবু ব্যাকআপ পাওয়ার চলছে।"
---
মেহেদী সিন্দুকের পাশে কালো ধোঁয়ার মধ্যে একটি ছোট কীপ্যাড দেখতে পেল।
স্ক্রিনে মাত্র তিনটি সংখ্যা জ্বলছে।
৩
২
৩
---
সৌরভ ওয়্যারলেসে বলল,
"আবার ৩২৩!"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করল।
তারপর বলল,
"না..."
"এটা শুধু সংখ্যা নয়।"
সে মনে করার চেষ্টা করল।
Experiment-323।
Locker-323।
একই সংখ্যা বারবার ফিরে আসছে।
হঠাৎ তার মনে পড়ল ড. আরিফের পুরোনো ভিডিও।
পরীক্ষার রেকর্ডে ৩২৩ কখনো একটি ব্যক্তি নয়, একটি প্রকল্প বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
---
সে কীপ্যাডে লিখল:
P-323
এক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর...
বিপ!
লাল আলো জ্বলে উঠল।
ভুল।
---
আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।
ছাদের কংক্রিটে ফাটল ধরেছে।
মিতু চিৎকার করল,
"আর এক মিনিটের বেশি সময় নেই!"
---
মেহেদী চোখ বন্ধ করল।
তারপর ধীরে বলল,
"৩২৩..."
"৩..."
"দুইজন বিষয়..."
"একটি প্রকল্প..."
সে দ্রুত কীপ্যাডে লিখল:
17-19
আবারও লাল আলো।
ভুল।
---
ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল সিন্দুকের নিচে খোদাই করা একটি ছোট বাক্যে।
"Truth is never a number."
সে মৃদু হাসল।
"বুঝেছি..."
---
কীপ্যাডে সংখ্যা নয়, শব্দ টাইপ করা যায়।
সে লিখল একটাই শব্দ।
MIRROR
এক সেকেন্ড...
দুই সেকেন্ড...
তারপর সবুজ আলো জ্বলে উঠল।
ক্লিক!
সিন্দুক খুলে গেল।
---
ভেতরে মাত্র একটি কালো হার্ডড্রাইভ।
আর একটি সিল করা খাম।
খামের ওপর লেখা।
"যদি সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়, এখান থেকেই আবার শুরু করো।"
স্বাক্ষর...
ড. আরিফ সালেহ।
---
ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ল।
ধড়াম!
মেহেদী হার্ডড্রাইভ আর খামটি তুলে নিল।
"সবাই বের হও!"
চারজন প্রাণপণে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এল।
তারা বের হওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই পুরো আর্কাইভের ছাদ ধসে পড়ল।
---
বাইরে দাঁড়িয়ে সবাই হাঁপাচ্ছে।
মারুফ হার্ডড্রাইভটির দিকে তাকিয়ে বললেন,
"হয়তো এটার ভেতরেই পুরো সত্য লুকিয়ে আছে।"
মেহেদী ধীরে মাথা নাড়ল।
"হয়তো..."
"আবার এটাও হতে পারে..."
"...রুদ্র চাইছিল আমরা এটা উদ্ধার করি।"
সবাই চুপ হয়ে গেল।
কারণ যদি সেটাই সত্যি হয়...
তাহলে তারা এতক্ষণ ধরে রুদ্রের পরিকল্পনা ভেঙে দেয়নি।
বরং তার পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।