কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ৫: তিনটি তার
ধাতব বাক্সের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে সময় দ্রুত কমছে।
00:05
00:04
চারদিকে নিস্তব্ধতা।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামের শত শত মানুষ নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে আছে।
মারুফ বন্দুক শক্ত করে ধরে চিৎকার করলেন,
"মেহেদী! বের হয়ে আয়!"
সৌরভও চেঁচিয়ে উঠল,
"ওটা ফেলে দে!"
কিন্তু মেহেদী নড়ল না।
তার চোখ শুধু সার্কিট বোর্ডের ওপর।
---
সে খুব দ্রুত বাক্সটির ভেতর পর্যবেক্ষণ করতে লাগল।
তিনটি তার।
লাল।
নীল।
কালো।
কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়...
তিনটি তারের পুরুত্ব এক নয়।
লাল তারটি মোটা।
নীলটি মাঝারি।
কালোটি সবচেয়ে পাতলা।
মেহেদী ফিসফিস করে বলল,
"না..."
"এটা সাধারণ বোমা না।"
---
00:03
তার চোখ পড়ল ক্যাপাসিটরের ওপর।
উচ্চ ভোল্টেজ জমা রাখার জন্য ব্যবহৃত বড় ক্যাপাসিটর।
কিন্তু বিস্ফোরক নেই।
কোনো ডেটোনেটরও নেই।
সে হঠাৎ হেসে ফেলল।
---
মিতু দূর থেকে অবাক হয়ে বলল,
"ও হাসছে কেন?"
মারুফের বুক কেঁপে উঠল।
---
00:02
মেহেদী বাক্সটা বন্ধই করল না।
বরং দুই হাতে তুলে নিয়ে বৃত্তের একেবারে মাঝখানে রেখে দিল।
তারপর দ্রুত পিছিয়ে এল।
---
00:01
...
00:00
---
পরের মুহূর্তে...
ঝসসসসস!
একটি তীব্র নীলচে স্ফুলিঙ্গ পুরো বৃত্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
মাটির নিচে পোঁতা তামার তার দিয়ে বিদ্যুৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য পুরো বৃত্তে ছুটে গেল।
একসঙ্গে চারদিকে ছোট ছোট আগুনের ফুলকি দেখা দিল।
গ্রামের মানুষ ভয়ে চিৎকার করে উঠল।
কিন্তু...
কোনো বিস্ফোরণ হলো না।
কেউ আহতও হলো না।
মাত্র তিন সেকেন্ড পর সবকিছু আবার শান্ত।
---
সৌরভ দৌড়ে এসে বলল,
"তুই কোনো তার কাটলি না কেন?"
মেহেদী বাক্সটা তুলে দেখাল।
"কারণ..."
"...এটা নিষ্ক্রিয় করার কিছুই ছিল না।"
"মানে?"
"তিনটা তারই ছিল বিভ্রান্ত করার জন্য।"
"যদি আমি কোনো একটা কাটতাম..."
"...সার্কিটের ভেতরে থাকা মেমোরি চিপ নষ্ট হয়ে যেত।"
মিতু বাক্সটা পরীক্ষা করে বিস্মিত হয়ে বলল,
"ঠিক বলেছিস।"
"এখানে বিস্ফোরকের চেয়ে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা অনেক বেশি।"
---
মারুফ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
"অর্থাৎ..."
"...খুনি জানতে চাইছিল আমরা ভয় পেয়ে কী সিদ্ধান্ত নিই।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"ঠিক তাই।"
"এটা ছিল আরেকটা মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা।"
---
ঠিক তখনই বাক্সের ভেতরের ছোট্ট স্ক্রিনে নতুন লেখা ভেসে উঠল।
> CONGRATULATIONS
তার নিচে,
> SUBJECT M-4 PASSED
সৌরভ বিরক্ত হয়ে বলল,
"আবার পরীক্ষা!"
---
হঠাৎ বাক্সের ভেতর থেকে খুব ছোট একটি প্রজেক্টর চালু হলো।
আলো পড়তেই মাটির ওপর একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র ভেসে উঠল।
মানচিত্রে পুরো ময়নাপুর অঞ্চল দেখা যাচ্ছে।
তার মধ্যে তিনটি লাল বিন্দু জ্বলছে।
প্রথম খুন।
দ্বিতীয় খুন।
তৃতীয় বৃত্ত।
তারপর...
মানচিত্রে চতুর্থ একটি বিন্দুও জ্বলে উঠল।
কিন্তু সেটা লাল নয়।
সবুজ।
---
মেহেদী গভীর মনোযোগ দিয়ে মানচিত্র দেখল।
হঠাৎ সে বুঝতে পারল।
তিনটি লাল বিন্দু আর একটি সবুজ বিন্দু যোগ করলে...
একটি নিখুঁত সমদ্বিবাহু ট্রাপিজিয়ামের মতো জ্যামিতিক আকৃতি তৈরি হচ্ছে।
সে নিচু স্বরে বলল,
"এগুলো এলোমেলো না।"
"কেউ নির্দিষ্ট হিসাব করে স্থানগুলো বেছে নিয়েছে।"
---
ঠিক তখনই প্রজেক্টর থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
এবার কণ্ঠটি আগের কালো পোশাকের লোকটির।
"মেহেদী..."
"তুমি আমার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত শিখছ।"
"কিন্তু মনে রেখো..."
"আমি মানুষ মারছি না।"
"আমি মানুষকে দেখাচ্ছি..."
"...ভয় কত সহজে ছড়ায়।"
মারুফ রাগে বললেন,
"দুজন মানুষ মারা গেছে!"
কণ্ঠটি শান্তভাবেই উত্তর দিল,
"আর তাদের মৃত্যুর আগেই হাজার মানুষ বিশ্বাস করেছে, এটা অভিশাপ।"
"বলুন তো..."
"...আমি বেশি শক্তিশালী, নাকি মানুষের গুজব?"
ঘরে আবার নীরবতা।
---
ভিডিও শেষ হওয়ার আগে কালো পোশাকের মানুষটি একবার হাত তুলল।
তার ডান কব্জিতে একটি অদ্ভুত উল্কি।
তিনটি সমকেন্দ্রিক বৃত্তের ভেতরে একটি চোখ।
কিন্তু এবার তার নিচে ছোট্ট একটি ইংরেজি শব্দও দেখা গেল।
NEXUS
ভিডিও সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল।
---
মিতু ধীরে বলল,
"নেক্সাস..."
"এটাই কি সংগঠনের নাম?"
মেহেদী কোনো উত্তর দিল না।
সে বাক্সের ভেতর থেকে মেমোরি চিপটি বের করছিল।
ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল...
চিপের নিচে ভাঁজ করা একটি কাগজ।
সে খুলতেই মাত্র একটি লাইন পড়তে পেল।
> "চতুর্থ বৃত্তে যদি সূর্য ডোবার আগে পৌঁছাতে না পারো... তাহলে প্রথমবারের মতো অভিশাপ নয়, শত শত মানুষ একসঙ্গে মরবে।"
সবাই একসঙ্গে একে অপরের দিকে তাকাল।
কারণ ঘড়িতে তখন বিকেল ৪টা ১২ মিনিট।
আর মানচিত্র অনুযায়ী...
চতুর্থ বৃত্ত তাদের থেকে অন্তত দুই ঘণ্টার পথ।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।