পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৫: চতুর্থ খেলোয়াড়
ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে সকালের আলো ঢুকছে।
মেঝেতে পড়ে আছে ধাতব ক্যাপসুলটি।
মারুফ সাবধানে সেটি তুলে ফরেনসিক ব্যাগে রাখলেন।
মিতু কাগজটি হাতে নিয়ে বলল,
"কালিটা এখনো পুরো শুকায়নি।"
"মানে?"
"এটা খুব অল্প সময় আগে লেখা হয়েছে।"
---
অপেক্ষা কক্ষে বসে থাকা মহিলাটি তখনও স্থির।
মেহেদী তার দিকে তাকিয়ে বলল,
"আপনি কথাটা শেষ করেননি।"
"চতুর্থ ব্যক্তি কে?"
মহিলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
"আমি যদি নাম বলি..."
"...আমি বাঁচব না।"
---
মারুফ শান্ত গলায় বললেন,
"আপনাকে আমরা নিরাপত্তা দিতে পারি।"
মহিলা মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন।
"যার বিরুদ্ধে আপনারা লড়ছেন..."
"...সে শুধু মানুষকে খুঁজে বের করে না।"
"সে মানুষের সিদ্ধান্তও অনুমান করতে পারে।"
---
মেহেদী বলল,
"তবুও আমাদের জানতে হবে।"
মহিলা ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো ডায়েরির পাতা বের করলেন।
পাতাটির ওপর চারটি আদ্যক্ষর লেখা।
A
F
N
K
---
মিতু আস্তে বলল,
"A... আরিফ।"
"F... আফসার।"
"N... নাদিয়া।"
"তাহলে K কে?"
---
মহিলা নিচু গলায় বললেন,
"কামরান।"
"ড. কামরান হক।"
---
আফসার রহমানের মুখ মুহূর্তেই বিবর্ণ হয়ে গেল।
তিনি ধীরে চেয়ারে বসে পড়লেন।
"অসম্ভব..."
---
মেহেদী তাকাল।
"আপনি তাকে চিনতেন?"
আফসার উত্তর দিলেন,
"চিনতাম..."
"কিন্তু সে কখনো গবেষক ছিল না।"
---
"তাহলে?"
"সে ছিল আচরণ বিশ্লেষক।"
"মানুষের সিদ্ধান্ত কীভাবে বদলানো যায়..."
"...সেটাই ছিল তার গবেষণার বিষয়।"
---
মিতু বলল,
"অর্থাৎ একজন মনোবিজ্ঞানী?"
আফসার মাথা নাড়লেন।
"হ্যাঁ।"
"কিন্তু খুব মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি..."
"...অত্যন্ত বিপজ্জনকও ছিল।"
---
ঠিক তখনই মেহেদীর ফোনে একটি অজানা নম্বর থেকে বার্তা এল।
শুধু একটি ছবি।
ছবিতে একটি দাবার বোর্ড।
সব গুটি উল্টে পড়ে আছে।
শুধু রাজা দাঁড়িয়ে।
তার নিচে লেখা,
«"ঘোড়া তার কাজ শেষ করেছে।"»
---
মেহেদীর চোখ সরু হয়ে এল।
"রুদ্র এতদিন নিজেকে ঘোড়া দিয়ে চিহ্নিত করত।"
"এবার বলছে ঘোড়ার কাজ শেষ।"
---
মারুফ বললেন,
"মানে এখন রাজা খেলবে?"
---
মেহেদী ধীরে মাথা নাড়ল।
"অথবা..."
"আমরা এতদিন ভুল মানুষকে মূল প্রতিপক্ষ ভেবেছি।"
---
ঠিক সেই মুহূর্তে ফরেনসিক ল্যাব থেকে ফোন এল।
মিতু রিসিভ করল।
কিছুক্ষণ শুনে তার মুখের রঙ বদলে গেল।
"কী বলছেন?"
"আপনি নিশ্চিত?"
সে ফোন কেটে মেহেদীর দিকে তাকাল।
"ধাতব ক্যাপসুলে যে আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে..."
"...সেটা রুদ্রের নয়।"
---
"তাহলে কার?"
---
মিতু ধীরে বলল,
"ডাটাবেসে মিল পাওয়া গেছে।"
"ড. কামরান হক।"
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
যে মানুষটির নাম তারা মাত্র কয়েক মিনিট আগে প্রথম শুনেছে...
তার আঙুলের ছাপ এখন তাদের সামনে।
---
মেহেদী ছবিটা, ডায়েরির পাতা আর ফরেনসিক রিপোর্ট পাশাপাশি রাখল।
তারপর শান্ত গলায় বলল,
"এখন চিত্রটা পরিষ্কার হচ্ছে।"
"রুদ্র মাঠে নেমে খেলা খেলেছে।"
"কিন্তু..."
"দাবার চাল হয়তো অন্য কেউ দিচ্ছে।"
---
ঠিক তখনই অপেক্ষা কক্ষে বসে থাকা মহিলাটি হঠাৎ বুক চেপে ধরলেন।
তিনি কষ্টে বললেন,
"ওরা..."
"...আমাকে খুঁজে পেয়েছে..."
তার হাত থেকে একটি ছোট কাচের শিশি মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেল।
মিতু দ্রুত এগিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করল।
সে বলল,
"এটা বিষের শিশি নয়।"
"তাহলে?"
"এটা ইনসুলিন।"
মহিলার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছিল।
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেন।
মহিলা অজ্ঞান হওয়ার আগে মেহেদীর হাত শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বললেন,
«"কামরানকে খুঁজো না..."»
«"সে চাইবে তুমি তাকে খুঁজো..."»
«"নাদিয়াকে খুঁজো..."»
তারপর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।
মেহেদী ধীরে উঠে দাঁড়াল।
তার চোখে আর কোনো দ্বিধা নেই।
সে বোর্ডে বড় অক্ষরে লিখল তিনটি নাম।
রুদ্র।
নাদিয়া।
কামরান।
তারপর একটি নামের নিচে দাগ টানল।
নাদিয়া রহমান।
"পরবর্তী গন্তব্য..."
"...নাদিয়া।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।