কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৪৮: মুখোশের আড়ালে
করিডোরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়ামূর্তিটি এক পা, এক পা করে সামনে এগিয়ে আসছে।
জরুরি লাল আলোয় তার মুখ স্পষ্ট নয়।
কিন্তু তার হাঁটার ভঙ্গি...
মেহেদীর মনে কোথায় যেন আগে দেখা।
মারুফ পিস্তল তাক করলেন।
"এক ইঞ্চিও এগোবে না!"
লোকটি থামল।
তারপর শান্ত গলায় বলল,
"আপনার গুলি আমার জন্য নয়, অফিসার মারুফ।"
"কারণ আপনি ভুল মানুষকে লক্ষ্য করেছেন।"
---
মারুফ আর এক সেকেন্ডও দেরি করলেন না।
তিনি ট্রিগার চাপলেন।
ধাম!
গুলিটি লোকটির বাম কাঁধ ছুঁয়ে পাশের দেয়ালে লাগল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়...
লোকটি পড়ে গেল না।
সে শুধু দুই কদম পিছিয়ে দাঁড়াল।
---
শাহীনুর ও সৌরভ দৌড়ে তাকে ঘিরে ফেলল।
মুখোশ খুলে ফেলতেই সবাই হতবাক।
সে অঘোরী রুদ্র নয়।
সে সেই যুবকও নয়, যাকে আগের রাতে ধরা হয়েছিল।
সে একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ।
মুখে আতঙ্ক।
চোখে পানি।
---
লোকটি কাঁপা গলায় বলল,
"আমাকে মারবেন না।"
"আমি শুধু নির্দেশ মেনে চলেছি।"
---
মেহেদী এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
"তুমি কে?"
লোকটি উত্তর দিল,
"আমার নাম আজিজ।"
"আমি এই গবেষণা কেন্দ্রের নিরাপত্তারক্ষী ছিলাম।"
---
মারুফ বিস্মিত।
"এত বছর পরও?"
আজিজ মাথা নাড়ল।
"আমি চাকরি ছাড়িনি..."
"...আমাকে ছাড়তে দেওয়া হয়নি।"
---
মিতু চারদিকে তাকিয়ে বলল,
"তুমি এখানে একা থাকো?"
"না।"
"তাহলে আর কে আছে?"
আজিজ কিছু বলল না।
শুধু করিডোরের শেষ মাথার দিকে তাকাল।
---
মেহেদী বিষয়টি লক্ষ্য করল।
সে শান্ত গলায় বলল,
"তুমি কাউকে ভয় পাচ্ছ।"
আজিজের ঠোঁট কেঁপে উঠল।
"ওরা..."
"...সব জায়গায় আছে।"
---
"ওরা কারা?"
আজিজ উত্তর দিল না।
বরং নিজের পকেট থেকে একটি ছোট চাবি বের করে মেহেদীর হাতে দিল।
চাবির সঙ্গে বাঁধা একটি ট্যাগ।
Archive-B
---
ঠিক তখনই ভবনের লাউডস্পিকারে আবার সেই পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।
«"আজিজ..."»
«"তুমি আবার নিয়ম ভাঙলে।"»
আজিজের মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সে চিৎকার করে উঠল,
"না! আমি কিছু বলিনি!"
---
পরের মুহূর্তেই...
ফুসস!
করিডোরের ছাদের ভেন্টিলেশন থেকে সাদা ধোঁয়া বের হতে শুরু করল।
মিতু চিৎকার করে বলল,
"সবাই নিচু হন!"
"এটা কী?"
"জানি না!"
"বাতাসে কিছু মেশানো হয়েছে!"
---
মেহেদী দ্রুত নিজের রুমাল ভিজিয়ে নাকের সামনে চেপে ধরল।
"সবাই মুখ ঢাকো!"
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো করিডোর ধোঁয়ায় ভরে গেল।
দৃষ্টিসীমা এক মিটারেরও কম।
---
ধোঁয়া একটু পাতলা হওয়ার পর...
আজিজ আর সেখানে নেই।
সে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে।
মারুফ চারদিকে তাকিয়ে বললেন,
"অসম্ভব!"
---
মেহেদী মাটির দিকে তাকাল।
ধুলোর ওপর স্পষ্ট জুতার ছাপ।
সে ছাপগুলো অনুসরণ করতে শুরু করল।
দশ মিটার এগিয়ে...
ছাপগুলো হঠাৎ শেষ।
সামনে শুধু একটি দেয়াল।
---
সৌরভ হতাশ হয়ে বলল,
"এখানে তো আর যাওয়ার রাস্তা নেই!"
মেহেদী দেয়ালে হাত বুলিয়ে দেখল।
একটি ইট অন্যগুলোর তুলনায় সামান্য উঁচু।
সে ইটটি চাপ দিতেই...
ঘড়ঘড়...
দেয়ালের একটি অংশ ধীরে ধীরে সরে গেল।
ভেতরে অন্ধকার একটি গোপন পথ।
---
মারুফ টর্চ জ্বালালেন।
সুড়ঙ্গটি অনেক দূর পর্যন্ত গেছে।
দেয়ালে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার।
আর মাঝেমধ্যে নম্বর লেখা।
১০৯
১১২
১১৫
তারপর...
১১৭
---
মেহেদী আস্তে বলল,
"আমরা ঠিক পথেই আছি।"
---
সুড়ঙ্গের শেষে একটি গোলাকার ধাতব দরজা।
দরজার ওপরে ইংরেজিতে লেখা।
MEMORY ARCHIVE
দরজার নিচে একটি ইলেকট্রনিক লক।
চাবির ছিদ্র।
মেহেদী আজিজের দেওয়া Archive-B চাবিটি বের করল।
চাবি ঘোরাতেই দরজা খুলে গেল।
ঘরের ভেতরে সারি সারি ধাতব আলমারি।
প্রতিটি আলমারির ওপর মানুষের নাম।
হঠাৎ মিতু একটির সামনে থেমে গেল।
তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
"মেহেদী..."
মেহেদী এগিয়ে গেল।
আলমারির গায়ে স্পষ্ট লেখা।
Subject-17
তার পাশের আলমারিতে লেখা।
Subject-19
আর ঠিক নিচে...
একটি তৃতীয় আলমারি।
যেটার কথা তারা আগে কখনো শোনেনি।
কালো অক্ষরে লেখা মাত্র দুটি শব্দ।
Subject-0
ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।
মেহেদী ধীরে ফিসফিস করে বলল,
"তাহলে..."
"সবকিছুর শুরু..."
"...শূন্য থেকে।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।