কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ২৫: আমি কে?
বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষের ভেতর শুধু সার্ভারের শব্দ।
হাজার হাজার ছোট আলো একসঙ্গে জ্বলছে।
মনে হচ্ছে, অন্ধকারের মধ্যে কোনো বিশাল যন্ত্র নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
মেহেদী মনিটরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
স্ক্রিনে দুটি অপশন।
M-7
অথবা
MEHEDI HASAN
---
সৌরভ উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,
"এটা একটা ফাঁদ হতে পারে।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"সম্ভবত।"
"কিন্তু ফাঁদ বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে এটা কী ধরনের ফাঁদ।"
---
মিতু কম্পিউটার সিস্টেম পরীক্ষা করতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর সে বলল,
"এটা সাধারণ অপশন না।"
"মানে?"
"সিস্টেম তোমার কাছ থেকে কোনো পাসওয়ার্ড চাইছে না।"
"তোমার পরিচয় নির্বাচন করতে বলছে।"
---
মাহির ধীরে বললেন,
"এটাই ECHO-এর শেষ পরীক্ষা।"
মেহেদী তার দিকে তাকাল।
"শেষ পরীক্ষা?"
"হ্যাঁ।"
"তারা দেখতে চেয়েছিল..."
"...একজন মানুষ নিজের পরিচয় নিয়ে সন্দেহের মুখে পড়লে কী সিদ্ধান্ত নেয়।"
---
M-8 হেসে উঠল।
"আর এটাই প্রমাণ করে, মানুষ কতটা দুর্বল।"
সবাই তার দিকে তাকাল।
সে বলল,
"একটা প্রশ্ন করলেই একজন মানুষ নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে।"
---
মেহেদী তার দিকে তাকিয়ে বলল,
"তুমি কোনটা বেছে নিয়েছিলে?"
M-8 কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"M-8।"
---
মেহেদী অবাক হলো।
"তুমি নিজের নাম হিসেবে পরীক্ষার কোড বেছে নিয়েছিলে?"
M-8 উত্তর দিল,
"কারণ সেটাই আমার সত্য।"
"আমাকে তৈরি করা হয়েছে একটি উদ্দেশ্যের জন্য।"
"আমি সেটাকে অস্বীকার করি না।"
---
মেহেদী ধীরে বলল,
"আর আমি?"
M-8 বলল,
"তুমি সমস্যায় আছ।"
"কারণ তুমি দুটো জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।"
"তুমি M-7..."
"আবার মেহেদী হাসানও।"
---
ঘরের সবাই চুপ।
কারণ কথাটা সত্য।
মেহেদীর সামনে সবচেয়ে বড় রহস্য কোনো খুনি বা তান্ত্রিক নয়।
এবার রহস্যটা সে নিজেই।
---
হঠাৎ সার্ভারের শব্দ বেড়ে গেল।
মিতু চিৎকার করে বলল,
"সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে!"
স্ক্রিনে লেখা উঠল—
> MEMORY SYNC: 99%
---
মারুফ বললেন,
"মেহেদী, এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
"কিন্তু কীভাবে?"
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর চোখ বন্ধ করল।
---
তার মাথায় একের পর এক ছবি ভেসে উঠতে লাগল।
একটি ছোট ছেলে।
একটি ল্যাব।
একটি আয়না।
ড. আরিফ।
মাহির।
M-8।
তারপর...
তার নিজের বাড়ি।
তার পরিবার।
তার স্কুল।
তার বন্ধুরা।
---
হঠাৎ সে চোখ খুলল।
"আমি বুঝেছি।"
সবাই তাকাল।
---
মেহেদী বলল,
"ECHO-এর সবচেয়ে বড় ভুল কী জানো?"
কেউ উত্তর দিল না।
সে বলল,
"তারা ভেবেছিল পরিচয় মানে শুধু স্মৃতি।"
"কিন্তু মানুষ শুধু স্মৃতির সমষ্টি নয়।"
---
M-8 চুপ করে শুনছিল।
---
"যদি আমার কিছু স্মৃতি তৈরি করা হয়েও থাকে..."
"তবুও আমি যে মানুষটি হয়েছি..."
"সেটা আমার সিদ্ধান্ত, আমার অভিজ্ঞতা, আমার সম্পর্ক দিয়ে তৈরি।"
---
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
তারপর টাইপ করল—
MEHEDI HASAN
---
এক মুহূর্তের জন্য সব আলো নিভে গেল।
তারপর...
পুরো সিস্টেমে একটি সতর্কবার্তা।
> IDENTITY ACCEPTED
> M-7 AND MEHEDI HASAN MERGED
---
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"মার্জ?"
মেহেদী বলল,
"কারণ তারা ভুল প্রশ্ন করেছিল।"
"প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল না..."
"আমি M-7 নাকি মেহেদী।"
"প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল..."
"...আমি এই দুই অভিজ্ঞতা নিয়ে কে হব।"
---
হঠাৎ সার্ভারের একটি অংশ খুলে গেল।
ভেতরে একটি পুরোনো ভিডিও ফাইল।
নাম:
ARIF_FINAL_MESSAGE
---
মাহিরের মুখ বদলে গেল।
"না..."
"এই ভিডিও..."
মেহেদী চালু করল।
স্ক্রিনে ড. আরিফ সালেহ।
বয়স বেশি।
চোখে ক্লান্তি।
তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"যদি তুমি এই ভিডিও দেখো..."
"তাহলে বুঝবে ECHO সফল হয়েছে।"
---
তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
"কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল..."
"আমি ভেবেছিলাম আমি মানুষের স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করছি।"
"আসলে..."
"মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো..."
"...নিজেকে নতুন করে তৈরি করার ক্ষমতা।"
---
ড. আরিফ আরও বললেন,
"M-7 যদি এই ভিডিও দেখে..."
"তাহলে তাকে একটা কথা বলো।"
"তাকে তৈরি করা হয়নি।"
"তাকে খুঁজে পাওয়া হয়েছে।"
---
ভিডিও থেমে গেল।
মেহেদীর চোখে অদ্ভুত এক শান্তি।
কিন্তু ঠিক তখনই...
সার্ভারের শেষ স্ক্রিনে আরেকটি ফাইল খুলে গেল।
নাম:
NEXUS MASTER
---
মিতু বলল,
"এটা কী?"
মেহেদী ফাইল খুলল।
প্রথম লাইন পড়ে তার মুখের ভাব বদলে গেল।
> "ECHO ছিল শুধু প্রথম ধাপ।"
তার নিচে—
> "পরবর্তী ধাপ: মানুষের বিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ।"
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"মানে..."
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,
"এই কেস শেষ হয়নি।"
"আমরা শুধু প্রথম স্তর ভেঙেছি।"
---
ঠিক তখনই পুরো সার্ভার রুমের স্ক্রিনে একটি নতুন প্রতীক ভেসে উঠল।
তিনটি বৃত্ত।
মাঝখানে চোখ।
কিন্তু এবার নিচে নতুন লেখা।
NEXUS: CASE FILE 01 CLOSED
তার নিচে—
CASE FILE 02 ACTIVATED
---
আর স্ক্রিনের কোণে একটি নাম জ্বলজ্বল করছে।
তান্ত্রিক অঘোরী রুদ্র।
মেহেদী ধীরে বলল,
"তাহলে..."
"আমাদের পরের রহস্য শুরু হলো।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।