কেস ২: স্মৃতি চোর
পর্ব ২৭: মৃত মানুষের শেষ বার্তা
পুরোনো রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সময় যেন থেমে গেল।
M-17 মাটিতে পড়ে আছে।
তার বুক থেকে ধীরে ধীরে রক্ত বের হচ্ছে।
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে ওয়্যারলেসে চিৎকার করলেন,
"স্নাইপারকে অনুসরণ করো!"
দুইজন পুলিশ দ্রুত দৌড়ে গেল।
কিন্তু দূরের পরিত্যক্ত ভবনে পৌঁছে তারা শুধু একটি খোলা জানালা পেল।
স্নাইপার নেই।
শুধু জানালার পাশে পড়ে আছে একটি লম্বা কালো কাপড়।
আর একটি ভাঙা রাইফেলের অংশ।
সৌরভ সেটি হাতে নিয়ে বলল,
"ইচ্ছা করেই ভেঙে রেখে গেছে।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ব্যালিস্টিক প্রমাণ না রাখার জন্য।"
---
এদিকে মিতু M-17-এর ক্ষত পরীক্ষা করছিল।
তার মুখের ভাব বদলে গেল।
"এক মিনিট..."
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"কি হয়েছে?"
"গুলিটা অদ্ভুত।"
"কেন?"
"এটা শরীর ভেদ করেনি।"
মেহেদী নিচু হয়ে ক্ষতটা দেখল।
প্রবেশপথ আছে।
কিন্তু বের হওয়ার চিহ্ন নেই।
সে বলল,
"গুলিটা শরীরের ভেতরেই আছে।"
---
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই M-17 শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।
তার মুখে আশ্চর্য রকমের শান্তি।
যেন বহু বছরের পালিয়ে বেড়ানো জীবনের অবসান হয়েছে।
---
দুপুরে ময়নাতদন্ত শুরু হলো।
মিতু, মারুফ এবং মেহেদী কাচের ওপাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বুকের ভেতর থেকে গুলিটি বের করলেন।
তিনি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে অবাক হয়ে বললেন,
"এটা তো..."
মিতু এগিয়ে গেল।
"কী হয়েছে?"
বিশেষজ্ঞ গুলিটি ট্রেতে রাখলেন।
"এটা সাধারণ বুলেট না।"
সবাই তাকিয়ে রইল।
গুলির ধাতব আবরণের মাঝখানে খুব সূক্ষ্ম একটি কাচের ক্যাপসুল বসানো।
মিতু ধীরে বলল,
"মাইক্রো-ক্যাপসুল..."
"এর ভেতরে কিছু আছে।"
---
অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ক্যাপসুলটি খোলা হলো।
ভেতর থেকে বেরিয়ে এল...
একটি অতি ক্ষুদ্র মেমোরি চিপ।
সৌরভ বিস্ময়ে বলল,
"বুলেটের ভেতরে পেনড্রাইভ?"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"না।"
"এটা সম্ভবত মাইক্রো মেমোরি স্টোরেজ।"
"অর্থাৎ..."
"যদি M-17 ধরা পড়েও যায়, তার কাছে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না।"
"কিন্তু মারা গেলে..."
"...গুলির ভেতরের তথ্য উদ্ধার করা যাবে।"
মারুফ ধীরে বললেন,
"তাহলে গুলিটা তাকে হত্যা করার জন্যই ছোড়া হয়নি।"
"বরং..."
মেহেদী বাকিটা শেষ করল,
"...তার কাছে থাকা তথ্য আমাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও হতে পারে।"
ঘরে আবার নীরবতা নেমে এল।
---
চিপটি একটি বিশেষ রিডারে সংযুক্ত করা হলো।
স্ক্রিনে মাত্র একটি ভিডিও ফাইল।
ফাইলের নাম...
IF_I_DIE.mp4
মেহেদী ভিডিও চালু করল।
স্ক্রিনে M-17।
তবে অনেক কম বয়সী।
সম্ভবত দশ বছর আগের ভিডিও।
সে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে,
"যদি তুমি এই ভিডিও দেখো..."
"...তাহলে আমি বেঁচে নেই।"
ঘরের সবাই নিঃশব্দ।
M-17 বলতে লাগল,
"আমার আসল নাম বলছি না।"
"কারণ নাম গুরুত্বপূর্ণ নয়।"
"আমি পনেরো বছর ধরে ASTER-এর ভেতরে ছিলাম।"
"আমার কাজ ছিল তথ্য বাইরে পাঠানো।"
---
ভিডিওতে সে টেবিলের ওপর একটি পুরোনো নকশা রাখল।
"ASTER-কে থামাতে চাইলে..."
"...মানুষকে খুঁজো না।"
"...সিস্টেমকে খুঁজো।"
মেহেদী ভিডিও থামিয়ে বলল,
"সিস্টেম?"
সে আবার চালু করল।
M-17 বলছে,
"তোমরা সব সময় একজন নেতা খুঁজছ।"
"কিন্তু ASTER একজন মানুষের ওপর নির্ভর করে না।"
"একজন ধরা পড়লে আরেকজন তার জায়গা নেয়।"
"ডিরেক্টর একটি পদবি।"
"একজন ব্যক্তি নয়।"
ঘরে উপস্থিত সবাই একে অপরের দিকে তাকাল।
এটা তাদের তদন্তের সবচেয়ে বড় মোড়।
---
ভিডিওর শেষের দিকে M-17-এর মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
"মেহেদী..."
প্রথমবার সে সরাসরি নাম ধরে ডাকল।
"তুমি যদি এটা দেখো..."
"...তাহলে জেনে রাখো..."
"...তোমাকে তারা পরীক্ষার বিষয় হিসেবে বেছে নেয়নি।"
"...তারা তোমাকে বেছে নিয়েছে কারণ..."
হঠাৎ ভিডিও কেঁপে উঠল।
স্ক্রিন বিকৃত হয়ে গেল।
তারপর সম্পূর্ণ কালো।
সৌরভ হতাশ হয়ে বলল,
"শেষ?"
মিতু দ্রুত চিপ পরীক্ষা করল।
"না।"
"ভিডিওর শেষ অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।"
---
ঠিক তখনই কম্পিউটারের স্ক্রিনে নিজে থেকেই একটি নতুন লেখা ভেসে উঠল।
> "অসম্পূর্ণ তথ্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।"
তার নিচে আরেকটি লাইন।
> "যদি বাকিটা জানতে চাও, তাহলে স্টেশন-২-এ এসো।"
আরও নিচে...
একটি স্থানাঙ্ক।
কোনো নাম নেই।
কোনো ঠিকানা নেই।
শুধু জিপিএস কোঅর্ডিনেট।
মেহেদী ধীরে ধীরে চেয়ারে হেলান দিল।
সে বুঝতে পারল...
দ্বিতীয় কেসটি এখন আরও গভীর হয়ে গেছে।
কারণ এবার তাদের সামনে শুধু স্মৃতি চুরির রহস্য নয়...
বরং এমন একটি সংগঠন দাঁড়িয়ে আছে, যার নেতা একজন মানুষ নয়।
একটি ব্যবস্থা।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।