Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ৩৩: ডিরেক্টরের ডায়েরি ( কেস ২: স্মৃতি চোর)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (11,421 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
কেস ২: স্মৃতি চোর

পর্ব ৩৩: ডিরেক্টরের ডায়েরি

কাঁচের বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড কেউ একটি কথাও বলল না।

বাক্সের ভেতরে রাখা কালো চামড়ার ডায়েরিটি সময়ের ভারে কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গেছে।

মলাটে খোদাই করা দুটি শব্দ এখনও স্পষ্ট।

Director's Journal

মারুফ ধীরে বললেন,

"এত সহজে এটা এখানে রাখা থাকবে?"

সৌরভও মাথা নাড়ল।

"আমারও তাই মনে হচ্ছে।"

"এটা নিশ্চয়ই কোনো ফাঁদ।"

মেহেদী কাঁচের বাক্সটির চারপাশে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল।

সে বাক্সের নিচের অংশ, পাশের ধাতব ফ্রেম, এমনকি মেঝের টাইলসও খুঁটিয়ে দেখতে লাগল।

হঠাৎ সে হাঁটু গেড়ে বসল।

"দেখেছ?"

সবাই নিচু হয়ে তাকাল।

মেঝের ওপর ধুলোর পাতলা স্তর।

কিন্তু কাঁচের বাক্সের সামনে মাত্র দেড় ফুট জায়গায় ধুলো নেই।

শাহীনুর বলল,

"এতে কী বোঝা যায়?"

মেহেদী উত্তর দিল,

"সম্প্রতি কেউ এখানে দাঁড়িয়েছিল।"

"অথবা..."

"...বাক্সটি সম্প্রতি খোলা হয়েছে।"

---

মিতু কাঁচের পাশে ছোট্ট একটি সেন্সর দেখতে পেল।

"ইনফ্রারেড বিম।"

"বাক্সটা জোর করে খুললেই অ্যালার্ম বাজবে।"

মেহেদী চারদিকে তাকিয়ে দেয়ালের কোণে একটি পুরোনো বৈদ্যুতিক প্যানেল দেখতে পেল।

সে হাসল।

"এরা প্রযুক্তিতে খুব আত্মবিশ্বাসী।"

পাঁচ মিনিটের মধ্যে সৌরভ সেন্সরের বিদ্যুৎ সরাসরি বন্ধ না করে একটি বাইপাস সার্কিট তৈরি করল।

মিতু নিশ্চিত হওয়ার পর মেহেদী খুব ধীরে বাক্সের ঢাকনা তুলল।

কোনো অ্যালার্ম বাজল না।

---

ডায়েরিটি খুলতেই প্রথম পাতায় মাত্র একটি বাক্য।

> "যদি তুমি এই ডায়েরি পড়ছ, তাহলে আমার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।"

নিচে কোনো নাম নেই।

শুধু একটি তারিখ।

৫ জুন, ১৯৯৪

---

পরের পাতায় লেখা,

> "মানুষ সত্যকে অনুসরণ করে না। মানুষ অনুসরণ করে এমন গল্পকে, যেটা তাকে নিরাপত্তা দেয়।"

> "এই কারণেই ভণ্ড তান্ত্রিক, মিথ্যা নবী, প্রতারক এবং গুজব ছড়ানো মানুষ বারবার সফল হয়। তারা অলৌকিক কিছু সৃষ্টি করে না। তারা মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক দুর্বলতাকে ব্যবহার করে।"

মেহেদী ধীরে বইটা বন্ধ করল।

"এটা..."

"...একজন বিজ্ঞানীর ভাষা।"

---

আরও কয়েকটি পাতা উল্টাতেই গবেষণার নোট পাওয়া গেল।

একটি অংশে লেখা,

> "আমরা দেখেছি, যদি একটি গ্রামে ধারাবাহিকভাবে তিনটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে, তাহলে চতুর্থ ঘটনাটিকে মানুষ প্রমাণ ছাড়াই অতিপ্রাকৃত বলে মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।"

মিতু বলল,

"এটা সামাজিক মনোবিজ্ঞানের একটি পরিচিত ধরণের প্রভাবের সঙ্গে মিল আছে। আগে থেকে ভয় ও প্রত্যাশা তৈরি হলে মানুষ পরের ঘটনাগুলোকেও সেই কাঠামোয় ব্যাখ্যা করতে শুরু করতে পারে।"

মারুফ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"মানে..."

"...আমাদের প্রথম গ্রামের ঘটনাগুলোও হয়তো এভাবেই সাজানো হয়েছিল।"

মেহেদী মাথা নাড়ল।

"ঠিক তাই।"

---

হঠাৎ ডায়েরির মাঝখান থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ পড়ে গেল।

কাগজটি খুলতেই একটি মানচিত্র দেখা গেল।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় লাল কালি দিয়ে বারোটি বৃত্ত আঁকা।

প্রতিটি বৃত্তের পাশে একটি নম্বর।

০০১

০০২

...

০১২

সৌরভ ফিসফিস করে বলল,

"এগুলোই কি বারোটা প্রকল্প?"

মেহেদী উত্তর দিল,

"সম্ভবত।"

"আর আমরা এখন শুধু দ্বিতীয় কেসে আছি।"

---

ঠিক তখনই ডায়েরির শেষের দিকে ভাঁজ করা আরেকটি পাতায় একটি নাম লেখা দেখতে পেল সে।

সবাই নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে রইল।

ডিরেক্টর: ______ রহমান

নামের প্রথম অংশটি কেটে ফেলা হয়েছে।

শুধু শেষ অংশ...

"রহমান"

মারুফ বললেন,

"ইচ্ছা করে নাম নষ্ট করা হয়েছে।"

মেহেদী বলল,

"হ্যাঁ।"

"কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করেছেন?"

"কী?"

"যে ব্যক্তি নাম কেটেছে, সে 'রহমান' অংশটা কাটেনি।"

"মানে..."

"...হয় সে তাড়াহুড়ো করেছে, নয়তো ইচ্ছা করেই একটি সূত্র রেখে গেছে।"

---

ঠিক সেই সময় পুরো লাইব্রেরির স্পিকার থেকে আবার সেই ডিজিটাল কণ্ঠ ভেসে এল।

"মেহেদী..."

"তুমি কি বুঝতে পারছ..."

"...কেন আমি তোমাকে এখানে এনেছি?"

মেহেদী উত্তর দিল,

"তুমি চাও আমি অতীতটা জানি।"

"না।"

কণ্ঠটি শান্তভাবে বলল।

"আমি চাই তুমি সিদ্ধান্ত নাও..."

"...অতীত প্রকাশ করবে, নাকি লুকিয়ে রাখবে।"

---

হঠাৎ লাইব্রেরির অপর পাশের একটি বিশাল স্ক্রিন জ্বলে উঠল।

সেখানে একটি লাইভ ভিডিও।

একটি গ্রামের দৃশ্য।

মানুষ দৌড়াচ্ছে।

চিৎকার করছে।

একটি বাড়ির সামনে ভিড়।

মারুফ বিস্ময়ে বললেন,

"এটা তো..."

মিতু ফিসফিস করে বলল,

"...নতুন অপরাধস্থল।"

স্ক্রিনের নিচে লেখা উঠল।

> "কেস ৩ শুরু হয়েছে।"

আর ভিডিওতে ধীরে ধীরে ক্যামেরা এগিয়ে গেল একটি ভয়াবহ দৃশ্যের দিকে।

একটি মানুষের দেহ মাটিতে পড়ে আছে।

চারপাশে অদ্ভুত বৃত্ত আঁকা।

গ্রামের সবাই চিৎকার করছে,

"তান্ত্রিকের অভিশাপ!"

মেহেদী গভীরভাবে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

সে জানে...

এবারও সবাই অলৌকিক শক্তিকে দোষ দেবে।

আর তার কাজ হবে...

বিজ্ঞানের সাহায্যে সত্যকে খুঁজে বের করা।

কেস ২ সমাপ্ত।

পরবর্তী: কেস ৩ — অভিশপ্ত বৃত্ত
আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 566 টি লেখা ও 10 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 11421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4387
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩২: প্রজেক্ট ০০১ ধাতব করিডোরে পা রাখতেই মেহেদীর জুতোর শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। টক... টক... টক... করিডোরের দুই পাশের দেয়াল কংক্রিটের হলেও তার ওপর আধুনিক ধাতব আবর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩১: মৃত মানুষের লগইন ডাটা সেন্টারের অ্যালার্ম একটানা বেজেই চলেছে। বিপ... বিপ... বিপ... সার্ভারের সবুজ ও নীল আলো লাল হয়ে উঠেছে। সৌরভ কীবোর্ডে দ্রুত হাত চালাচ্ছে। তার কপাল�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩০: জন্মসনদের গোপন সত্য ছোট কক্ষটায় তখন শুধু কম্পিউটারের মৃদু শব্দ। মেহেদীর হাত স্থির। তার চোখ জন্মসনদের ওপর আটকে আছে। সে আবার পড়ল। আবার। তারপর তৃতীয়বার। না। ভু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ২৯: টিউরিং পরীক্ষা লোহার দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পুরো ডাটা সেন্টারে কয়েক সেকেন্ড ধরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। ধাম... ধাম... ধাম... সৌরভ দৌড়ে দরজার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিল। কোন�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ২৮: স্টেশন-২ থানার তদন্তকক্ষে বড় ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর জিপিএস স্থানাঙ্কটি বসাতেই সবাই চুপ হয়ে গেল। সৌরভ কয়েকবার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল, "লোকেশনটা ঠিক দেখাচ্�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    3531 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    176 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2162 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    107 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...