কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ২৪: শেষ পরীক্ষার নিয়ম
ভিডিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ঘরে কয়েক মুহূর্ত কেউ কথা বলল না।
মেহেদী নিজের দিকে তাকিয়ে থাকা সবার চোখ অনুভব করতে পারছিল।
কিন্তু তার মাথার ভেতর শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরছিল।
সে আট বছর বয়সে কীভাবে বুঝেছিল যে এটা একটি পরীক্ষা?
সে তো তখন শুধু একটি শিশু ছিল।
---
M-8 ধীরে ধীরে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
তার মুখে আগের মতো আত্মবিশ্বাস নেই।
"এটা অসম্ভব।"
আদনান শান্ত গলায় বলল,
"না।"
"এটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রমাণ।"
---
M-8 ঘুরে তাকাল।
"তুমি জানো না, সে কী করেছিল।"
আদনান বলল,
"আমি জানি।"
"কারণ সেই দিন আমি সেখানে ছিলাম।"
---
মেহেদী অবাক হয়ে বলল,
"তাহলে বলুন।"
"সেদিন কী হয়েছিল?"
---
আদনান ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল।
"শেষ পরীক্ষার দিন..."
"তোমাদের দুজনকে আলাদা ঘরে রাখা হয়েছিল।"
"দুজনের সামনে একই ধরনের সমস্যা দেওয়া হয়।"
"উদ্দেশ্য ছিল দেখা..."
"কে দ্রুত সমাধান করে।"
---
"কিন্তু তুমি..."
সে মেহেদীর দিকে তাকাল।
"তুমি সমস্যার উত্তর খোঁজোনি।"
"তুমি প্রথমে প্রশ্ন করেছিলে..."
"কেন এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে?"
---
সৌরভ হালকা অবাক হয়ে বলল,
"মানে?"
আদনান বলল,
"অন্য শিশুরা সাধারণত পুরস্কার বা শাস্তির কথা ভাবে।"
"কিন্তু মেহেদী জানতে চেয়েছিল উদ্দেশ্য।"
---
মেহেদী চুপ করে শুনছিল।
তার নিজেরও কিছু মনে পড়ছে না।
কিন্তু কথাগুলো যেন কোথাও পরিচিত লাগছে।
---
আদনান আবার বলল,
"তুমি তখন বলেছিলে..."
সে কিছুক্ষণ থামল।
তারপর বলল,
"‘যে মানুষ আমাকে পরীক্ষা করছে, সে নিজেই কেন পরীক্ষার বাইরে থাকবে?’"
---
ঘরের সবাই অবাক।
মেহেদী নিজেও।
কারণ এই চিন্তাটা আজও তার স্বভাবের অংশ।
---
M-8 ধীরে বলল,
"কিন্তু তারপরও তুমি হেরেছিলে।"
মেহেদী তার দিকে তাকাল।
"হেরেছিলাম?"
M-8 বলল,
"হ্যাঁ।"
"কারণ তুমি নিয়ম ভেঙেছিলে।"
"তুমি পরীক্ষার উত্তর না দিয়ে..."
"...পরীক্ষার উদ্দেশ্য বের করার চেষ্টা করেছিলে।"
---
মেহেদী শান্তভাবে বলল,
"তাহলে আমি হেরেছিলাম?"
M-8 কিছু বলল না।
---
মেহেদী এগিয়ে গেল।
"না।"
"আমি শুধু তোমাদের খেলার অংশ হতে অস্বীকার করেছিলাম।"
---
এই কথায় M-8-এর চোখে প্রথমবারের মতো বিরক্তি দেখা গেল।
"তুমি এখনো নিজেকে আলাদা ভাবো।"
"তুমি ভাবো তুমি স্বাধীন।"
"কিন্তু সত্য হলো..."
সে ECHO সিস্টেমের দিকে তাকাল।
"...তোমার মাথার ভেতরেও তাদের তৈরি জিনিস আছে।"
---
মেহেদী থেমে গেল।
কারণ কথাটা পুরোপুরি মিথ্যা নয়।
তার স্মৃতি নিয়ে প্রশ্ন আছে।
তার অতীত নিয়ে প্রশ্ন আছে।
---
M-8 ধীরে বলল,
"তুমি জানো না, কোনটা তোমার নিজের চিন্তা..."
"আর কোনটা পরীক্ষার ফল।"
---
মেহেদীর মুখে কোনো পরিবর্তন হলো না।
সে বলল,
"হতে পারে।"
"কিন্তু একটা বিষয় আমি জানি।"
"কী?"
"আমি এখন যে সিদ্ধান্ত নেব..."
"সেটা আমার।"
---
M-8 কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে বলল,
"এটাই তোমার দুর্বলতা।"
"তুমি সব সময় বিশ্বাস করতে চাও যে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা আছে।"
---
মিতু তখন কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল,
"থামো!"
সবাই তার দিকে তাকাল।
"কী হয়েছে?"
"Memory Sync ৯৮ শতাংশ!"
---
ঘরের বাতাস বদলে গেল।
লাল আলো দ্রুত জ্বলতে শুরু করল।
কম্পিউটার স্ক্রিনে লেখা উঠল—
> FINAL STAGE STARTED
> TARGET: CENTRAL MEMORY NETWORK
---
মাহির দ্রুত বললেন,
"আমাদের এখনই মূল সার্ভারে যেতে হবে।"
মারুফ বললেন,
"কোথায়?"
মাহির মাটির দিকে তাকালেন।
"আমাদের নিচে।"
---
একটি গোপন দরজা খুলে গেল।
নিচে অন্ধকার সিঁড়ি।
দেয়ালে পুরোনো বৈজ্ঞানিক চিহ্ন।
আর প্রতিটি ধাপে একই প্রতীক।
তিনটি বৃত্ত।
মাঝখানে চোখ।
---
মেহেদী নামতে শুরু করল।
তার সঙ্গে সৌরভ, শাহীনুর, মিতু, মারুফ, মাহির এবং আদনান।
কিন্তু M-8 দাঁড়িয়ে রইল।
মেহেদী পেছনে তাকাল।
"তুমি আসবে না?"
M-8 বলল,
"আমি আসব।"
"কারণ শেষ সিদ্ধান্তটা নিচেই হবে।"
---
তারা নিচে পৌঁছাল।
সামনে বিশাল কাচের ঘর।
ভেতরে অসংখ্য সার্ভার।
মাঝখানে একটি চেয়ার।
চেয়ারের পাশে একটি মনিটর।
মনিটরে লেখা:
> WELCOME BACK, M-7
---
মেহেদী ধীরে এগিয়ে গেল।
হঠাৎ মনিটরে আরেকটি বার্তা ভেসে উঠল।
> FINAL QUESTION
> WHO ARE YOU?
---
তার নিচে দুটি অপশন।
M-7
অথবা
MEHEDI HASAN
---
ঘরের সবাই অবাক হয়ে গেল।
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
কারণ প্রথমবারের মতো...
ECHO তাকে কোনো তথ্য খুঁজতে বলছে না।
কোনো প্রমাণ দিচ্ছে না।
শুধু একটি প্রশ্ন করছে।
সে আসলে কে?
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।