পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৬: নাদিয়ার ছায়া
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে মেহেদী, মারুফ আর মিতু।
অচেতন মহিলাকে চিকিৎসকরা ভেতরে নিয়ে গেছেন।
দরজার ওপরে লাল বাতি জ্বলছে।
অপেক্ষার প্রতিটি মিনিট যেন এক ঘণ্টার সমান।
---
কিছুক্ষণ পর একজন চিকিৎসক বেরিয়ে এলেন।
"রোগী আপাতত স্থিতিশীল।"
মারুফ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
"আমরা কি ওনার সঙ্গে কথা বলতে পারব?"
চিকিৎসক মাথা নাড়লেন।
"এখনই নয়।"
"ওনার শরীর খুব দুর্বল।"
---
ঠিক তখনই মিতুর ফোনে একটি ই-মেইল এল।
প্রেরকের নাম নেই।
ঠিকানাটিও এনক্রিপ্টেড।
মেইলে মাত্র একটি সংযুক্ত ফাইল।
Nadia_Final.mp4
---
মিতু সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"ফাইলটা এখনই খোলা ঠিক হবে না।"
"আগের মতো এটাও ফাঁদ হতে পারে।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"আগের নিয়মই অনুসরণ করো।"
"আলাদা সিস্টেমে পরীক্ষা করা হবে।"
---
এক ঘণ্টা পরে ভিডিওটি নিরাপদ কম্পিউটারে চালানো হলো।
স্ক্রিনে ধীরে ধীরে ভেসে উঠল একজন নারীর মুখ।
চল্লিশের কাছাকাছি বয়স।
চোখে তীক্ষ্ণ আত্মবিশ্বাস।
তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"আমার নাম..."
"ড. নাদিয়া রহমান।"
ঘরে সবাই নিঃশব্দ।
---
নাদিয়া বলতে শুরু করলেন,
"যদি এই ভিডিও কেউ দেখে..."
"...তাহলে বুঝব আমি আর স্বাধীন নই।"
"হয়তো আমি মৃত।"
"অথবা..."
"...এমন কোথাও আছি, যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়।"
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"এটা কত বছরের পুরোনো?"
মিতু ভিডিওর তথ্য দেখে উত্তর দিল,
"প্রায় আট বছর।"
---
ভিডিওতে নাদিয়া আবার বললেন,
"PROJECT MIRROR-এর সবচেয়ে বড় ভুল ছিল প্রযুক্তি নয়।"
"সবচেয়ে বড় ভুল ছিল..."
"...আমরা ভুল মানুষকে বিশ্বাস করেছিলাম।"
---
মেহেদী মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
তার চোখ একবারও স্ক্রিন ছাড়ছে না।
---
নাদিয়া একটি সাদা বোর্ডের সামনে দাঁড়ালেন।
বোর্ডে চারটি বৃত্ত আঁকা।
প্রতিটির নিচে একটি নাম।
আরিফ।
আফসার।
নাদিয়া।
চতুর্থ বৃত্তটি ফাঁকা।
কোনো নাম নেই।
---
তিনি বললেন,
"চতুর্থ ব্যক্তি কখনো নিজের নাম ব্যবহার করত না।"
"প্রতিবার নতুন পরিচয় নিত।"
"এই কারণেই..."
"...তার বিরুদ্ধে কোনো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়নি।"
---
মিতু ফিসফিস করে বলল,
"তাহলে কামরানও আসল নাম নাও হতে পারে।"
মেহেদী উত্তর দিল,
"সম্ভব।"
---
ভিডিওর শেষ অংশে নাদিয়া একটি ছোট চাবি ক্যামেরার সামনে ধরলেন।
চাবির গায়ে খোদাই করা।
R-9
---
তিনি বললেন,
"যদি সত্য জানতে চাও..."
"...R-9 খুঁজে বের করো।"
"কিন্তু মনে রেখো..."
"ওটা কোনো কক্ষ নয়।"
"কোনো লকারও নয়।"
---
ভিডিও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।
---
সৌরভ বিরক্ত হয়ে বলল,
"আবার ধাঁধা!"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর হাসপাতালের দেয়ালে ঝোলানো একটি পুরোনো ভবনের নকশার দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ তার মুখে হালকা হাসি ফুটল।
"R-9..."
---
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"কিছু বুঝেছ?"
---
"সম্ভবত।"
"R মানে Room নয়।"
"Research নয়।"
"Repository-ও নয়।"
"এটা সম্ভবত..."
"...Revision-9।"
---
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"Revision?"
---
"গবেষণায় একই নথির একাধিক সংস্করণ থাকে।"
"Revision-9 মানে হতে পারে নবম সংস্করণ।"
"নাদিয়া হয়তো কোনো ফাইলের কথা বলছে, কোনো জায়গার নয়।"
---
ঠিক তখনই হাসপাতালের করিডোরে একজন নার্স দৌড়ে এলেন।
"গোয়েন্দা মেহেদী কে?"
"আমি।"
নার্স একটি ছোট খাম তার হাতে দিলেন।
"যে মহিলাকে ভর্তি করা হয়েছে..."
"...জ্ঞান ফেরার আগেই তিনি এটা আপনার জন্য লিখে রেখেছিলেন।"
মেহেদী দ্রুত খাম খুলল।
ভেতরে মাত্র একটি লাইন।
«"নাদিয়াকে খুঁজতে যেও না।"»
তার নিচে আরেকটি বাক্য।
«"কারণ... নাদিয়া তোমাদের আগেই খুঁজে পেয়েছে।"»
মেহেদী ধীরে মাথা তুলল।
হাসপাতালের কাচের ওপাশে, করিডোরের শেষ প্রান্তে...
সাদা কোট পরা একজন নারী কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন।
মিতু বিস্ময়ে বলল,
"ওই নারীটা..."
"তিনি কি..."
মেহেদী কোনো উত্তর দিল না।
সে শুধু দ্রুত করিডোরের দিকে দৌড়ে গেল।
কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখল...
করিডোর ফাঁকা।
শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটি হাসপাতালের পরিচয়পত্র।
নামের জায়গাটা ছিঁড়ে ফেলা।
আর পেছনে হাতে লেখা একটি শব্দ।
"R-9"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।