পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৭৬: ছায়ার আড়ালের ছায়া
হেলিকপ্টারের শব্দে পুরো অনাথ আশ্রম কেঁপে উঠছে।
রোটরের বাতাসে ভাঙা জানালার কাচ ছিটকে পড়ছে মেঝেতে।
মারুফ ও তার দল দ্রুত আশ্রমের চারপাশে অবস্থান নিল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়...
হেলিকপ্টার থেকে কেউ গুলি চালাল না।
কেউ নামলও না।
শুধু সেটি আশ্রমের ওপর স্থির হয়ে ভাসছে।
---
মেহেদী কামরানের দিকে তাকাল।
"ওরা কারা?"
---
কামরান জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন,
"যাদের আমি বহু বছর ধরে এড়িয়ে বেড়াচ্ছি।"
---
রুদ্র তিক্ত হেসে উঠল।
"আজ সত্যি কথা বলতে শুরু করেছ?"
---
কামরান শান্তভাবে উত্তর দিলেন,
"আজ আর মিথ্যা বলার কোনো লাভ নেই।"
---
ঠিক তখনই হেলিকপ্টার থেকে একটি ধাতব সিলিন্ডার নিচে পড়ল।
সবাই ভেবেছিল এটি বোমা।
কিন্তু না।
মাটিতে পড়েই সিলিন্ডারটি খুলে গেল।
ঘন সাদা ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
---
মারুফ চিৎকার করে উঠলেন,
"গ্যাস!"
"সবাই মাস্ক পরো!"
---
মিতু দ্রুত একটি নমুনা সংগ্রহ করে পোর্টেবল বিশ্লেষক চালু করল।
মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর ফলাফল এল।
"এটা বিষাক্ত গ্যাস নয়!"
---
মেহেদী জিজ্ঞেস করল,
"তাহলে?"
---
"এটা উচ্চমাত্রার ধোঁয়া তৈরির যৌগ।"
"দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।"
---
ধোঁয়ার আড়ালে আশ্রমের মূল দরজা ভেঙে কয়েকজন কালো পোশাক পরা লোক ঢুকে পড়ল।
তাদের মুখ ঢাকা।
হাতে আধুনিক অস্ত্র।
কিন্তু তারা কাউকে লক্ষ্য করে গুলি করছে না।
তারা যেন...
কিছু একটা খুঁজছে।
---
একজন চিৎকার করে বলল,
"রেকর্ডারটা উদ্ধার করো!"
---
মেহেদীর চোখ সরু হয়ে এল।
"ওরা সত্যটা মুছে ফেলতে এসেছে।"
---
রুদ্র দুর্বল শরীর নিয়েও সামনে দাঁড়াল।
"মেহেদী..."
"রেকর্ডারটা নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যা।"
---
"আর তুই?"
---
রুদ্র হালকা হাসল।
"বিশ বছর আগে তুই আমাকে খুঁজতে এসেছিলি।"
"আজ..."
"আমি তোকে বাঁচিয়ে পাঠাব।"
---
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"না।"
"এবার কাউকে ফেলে যাব না।"
---
ঠিক সেই মুহূর্তে কামরান হঠাৎ সামনে এগিয়ে এলেন।
তিনি নিজের দুই হাত ওপরে তুললেন।
তারপর কালো পোশাকের লোকদের উদ্দেশে চিৎকার করলেন,
"যেটা চাইছ, সেটা আমার কাছে!"
---
সব অস্ত্র একসঙ্গে তার দিকে ঘুরে গেল।
একজন গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
"ডক্টর কামরান হক।"
"আপনি আমাদের অনেক ক্ষতি করেছেন।"
---
কামরান শান্ত গলায় বললেন,
"না।"
"আমি শুধু তোমাদের পরিকল্পনা শেষ হতে দিইনি।"
---
লোকটি ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
"শেষ সুযোগ।"
"রেকর্ডারটা দিন।"
---
কামরান ধীরে হাসলেন।
"তোমরা এখনও বুঝতে পারনি।"
তিনি মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
"রেকর্ডারটা শুধু প্রমাণ নয়..."
"এটা চাবি।"
---
"কিসের চাবি?"
---
"Project Mirror-এর আসল সার্ভারের।"
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
---
কামরান খুব আস্তে বললেন,
"যে এই রেকর্ডারের ভেতরের এনক্রিপশন খুলতে পারবে..."
"...সে Project Mirror-এর বাকি সব গোপন তথ্যেও পৌঁছে যাবে।"
---
কালো পোশাকের লোকদের নেতা আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না।
সে ট্রিগারে আঙুল রাখল।
ঠিক তখনই...
ধাম!
একটি গুলি ছুটে এল।
কিন্তু গুলিটি মেহেদীর দিকে নয়।
রুদ্রের দিকেও নয়।
কামরান হকের বুকে।
তিনি ধীরে ধীরে পিছিয়ে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গেলেন।
তার সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে উঠল।
মেহেদী দৌড়ে তার পাশে বসে পড়ল।
কামরান কষ্ট করে শ্বাস নিতে নিতে বললেন,
«"রেকর্ডারটা... কাউকে দিও না..."»
«"সত্য প্রকাশ করো..."»
«"...কিন্তু এই প্রযুক্তি নয়..."»
তার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে এলো।
ঘরের সবাই নিথর।
বাইরে এখনও হেলিকপ্টারের শব্দ।
ভেতরে রক্তাক্ত কামরান।
আর মেহেদীর হাতে সেই রেকর্ডার...
যেটি এখন শুধু একটি মামলার প্রমাণ নয়,
সম্ভবত কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা বহন করছে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।