পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬১: দ্বিতীয় পরিকল্পনা
ঘড়িতে সকাল ১১টা ২০।
গবেষণাগারের বাতাস যেন হঠাৎ আরও ভারী হয়ে উঠেছে।
টেবিলের ওপর রাখা ছবিটির পেছনের তারিখটির দিকে সবাই আবার তাকাল।
২৮ জুলাই, ২০২৬।
অর্থাৎ...
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।
---
মারুফ নীরবতা ভেঙে বললেন,
"আমাদের হাতে সময় খুব কম।"
"কামরানের দ্বিতীয় পরিকল্পনা কী, সেটা এখনই জানতে হবে।"
---
মেহেদী ছবিটি আবার হাতে নিল।
সে অনেকক্ষণ ছবির চারজন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ বলল,
"কিছু একটা ঠিক নেই।"
---
মিতু এগিয়ে এল।
"কী?"
---
"এই ছবিতে চারজন মানুষই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে।"
"শুধু কামরান ছাড়া।"
"সে তাকিয়ে আছে জানালার বাইরে।"
---
সৌরভ বিরক্ত হয়ে বলল,
"এতে কী বোঝা যায়?"
---
মেহেদী জানালার দিকে হাঁটতে লাগল।
ঠিক ছবিতে যেমন দেখা যাচ্ছিল।
জানালার সামনে দাঁড়াতেই সে লক্ষ্য করল, দূরের পাহাড়ের ওপর একটি পুরোনো পানির ট্যাংক দেখা যাচ্ছে।
ট্যাংকের গায়ে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটি নম্বর।
B-12
---
মিতু বলল,
"এটা কি কোনো সংকেত?"
---
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"নিশ্চিত নই।"
"কিন্তু কামরানের মতো মানুষ কোনো ছবিতে অকারণে এমনভাবে তাকিয়ে থাকবে না।"
---
ঠিক তখনই শাহীনুর দৌড়ে এল।
"স্যার!"
"এই অফিসে একটা লুকানো ড্রয়ার পেয়েছি।"
---
ড্রয়ার খুলতেই দেখা গেল একটি পুরোনো মানচিত্র।
মানচিত্রে শহরের বিভিন্ন স্থানে লাল চিহ্ন।
কিন্তু এবার কোনো ত্রিভুজ নয়।
সব চিহ্নই একটি বড় বৃত্ত তৈরি করেছে।
বৃত্তের মাঝখানে লেখা...
CENTRE NODE
---
মারুফ বললেন,
"এটা কি কোনো যোগাযোগ কেন্দ্র?"
---
মিতু মানচিত্রটি স্ক্যান করে দ্রুত বিশ্লেষণ করল।
কিছুক্ষণ পর সে বলল,
"অদ্ভুত!"
"সব স্থানই শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।"
বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র।
পানি সরবরাহ কেন্দ্র।
টেলিযোগাযোগ টাওয়ার।
জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক।
---
মেহেদীর মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল।
"এগুলো আলাদা লক্ষ্য নয়।"
"এগুলো একটি নেটওয়ার্ক।"
---
"মানে?"
---
"যদি এই কেন্দ্রগুলো একসঙ্গে অচল হয়ে যায়..."
"...তাহলে পুরো শহরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।"
---
ঠিক তখনই রাশেদের ফোন বেজে উঠল।
সে কথা শুনে আতঙ্কিত চোখে মেহেদীর দিকে তাকাল।
"স্যার..."
"শহরের উত্তর উপকেন্দ্রে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ঢোকার চেষ্টা করেছে।"
---
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে ওয়্যারলেস হাতে নিলেন।
"সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করো!"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"না..."
---
সবাই তার দিকে তাকাল।
---
"এটাই কামরানের পরিকল্পনা।"
"সে চায় আমরা সব জায়গায় লোক ছড়িয়ে দিই।"
"তাহলে আসল লক্ষ্য দুর্বল হয়ে যাবে।"
---
মিতু জিজ্ঞেস করল,
"তাহলে আসল লক্ষ্য কোথায়?"
---
মেহেদী আবার মানচিত্রের মাঝখানে আঙুল রাখল।
CENTRE NODE
---
"সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।"
"যেখান থেকে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়।"
---
ঠিক তখনই গবেষণাগারের একটি পুরোনো কম্পিউটার নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।
স্ক্রিনে একটি মাত্র বাক্য ভেসে উঠল।
«'অভিনন্দন, মেহেদী।'»
তার নিচে আরেকটি লাইন।
«'তুমি অবশেষে সঠিক প্রশ্নটি করেছ।'»
এরপর স্ক্রিনে একটি লাইভ ভিডিও দেখা গেল।
একটি বড় কন্ট্রোল রুম।
সারি সারি মনিটর।
আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ।
প্রথমবার...
কোনো মুখোশ ছাড়া।
ড. কামরান হক।
তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বললেন,
"স্বাগতম।"
"রুদ্র ছিল পরীক্ষার প্রথম ধাপ।"
"এবার শুরু হচ্ছে..."
তিনি হালকা হাসলেন।
«'Project Mirror: Phase Two.'»
ভিডিওটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।
ঘরের সবাই নিঃশব্দ।
মেহেদী শুধু একবার ঘড়ির দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
"আমাদের হাতে আর খুব বেশি সময় নেই।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।