পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৩: হার্ডড্রাইভ
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে।
কগনিটিভ রিসার্চ সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া এখনো উঠছে।
মেহেদী কালো হার্ডড্রাইভটি হাতে নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে।
তার মনে বারবার একটি প্রশ্ন ঘুরছে।
এটা কি সত্যিই প্রমাণ... নাকি আরেকটি ফাঁদ?
---
মারুফ বললেন,
"থানায় নিয়ে গিয়ে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করি।"
মিতু সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
"না।"
"যদি এতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার থাকে, তাহলে আমাদের পুরো নেটওয়ার্ক আক্রান্ত হতে পারে।"
মেহেদী বলল,
"ঠিক।"
"প্রথমে এটাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি কম্পিউটারে পরীক্ষা করা হবে।"
---
কয়েক ঘণ্টা পর...
একটি পুরোনো, ইন্টারনেটবিহীন ফরেনসিক ওয়ার্কস্টেশনে হার্ডড্রাইভটি সংযুক্ত করা হলো।
স্ক্রিনে মাত্র একটি ফোল্ডার দেখা গেল।
MIRROR_FINAL
---
সৌরভ বলল,
"খুলো!"
মিতু সতর্ক গলায় বলল,
"একটু দাঁড়াও।"
সে প্রথমে হার্ডড্রাইভের কপি তৈরি করল।
তারপর আসল ড্রাইভ আলাদা করে রেখে কপি থেকে ফাইল খুলল।
মারুফ মুচকি হেসে বললেন,
"ভালোই করেছ।"
---
ফোল্ডারের ভেতরে তিনটি জিনিস।
Research.pdf
Subjects.db
ReadMe.txt
---
মেহেদী প্রথমে ReadMe.txt খুলল।
ভেতরে মাত্র একটি লাইন।
«"সত্য জানতে চাইলে শেষ ফাইলটি আগে খুলো না।"»
---
সৌরভ হেসে বলল,
"এটা পড়ার পর তো শেষ ফাইলটাই আগে খুলতে ইচ্ছা করছে!"
মেহেদীও হালকা হাসল।
"এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা।"
"কেউ যখন বলে 'এটা করো না', তখন অনেকেই সেটাই আগে করতে চায়।"
---
তারা প্রথমে Research.pdf খুলল।
ড. আরিফ সালেহর গবেষণার নোট।
প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা ছিল মানুষের শেখা, স্মৃতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে।
সবকিছুই বৈজ্ঞানিকভাবে লেখা।
কিন্তু শেষের দিকে একটি অংশ আলাদা।
শিরোনাম...
Risk Assessment
---
সেখানে লেখা ছিল,
«"যদি গবেষণা ভুল মানুষের হাতে পড়ে, তাহলে এটি অপরাধ তদন্ত, রাজনৈতিক প্রভাব, জিজ্ঞাসাবাদ এবং সামাজিক প্রতারণায় অপব্যবহার হতে পারে।"»
মারুফ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
"তিনি বিপদটা বুঝেছিলেন।"
---
এবার Subjects.db খোলা হলো।
স্ক্রিনে একটি তালিকা ভেসে উঠল।
Subject-01
Subject-02
...
ক্রমশ এগিয়ে...
Subject-17
Subject-19
তারপর...
তালিকা শেষ হয়ে গেল।
---
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"Subject-0 নেই!"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"কারণ Subject-0 মানুষ ছিল না।"
"ওটা ছিল প্রকল্পের মূল ধারণা।"
---
তারা Subject-17 খুলল।
বেশিরভাগ তথ্য কালো করে ঢেকে দেওয়া।
শুধু একটি মন্তব্য দেখা গেল।
«'প্রশ্ন করতে থামে না। কোনো তথ্য সহজে বিশ্বাস করে না।'»
---
এরপর Subject-19।
ফাইল খুলতেই পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
কারণ সেখানে কোনো নাম নেই।
কোনো ছবি নেই।
শুধু একটি বাক্য।
«'Identity intentionally removed.'»
তার নিচে আরেকটি লাইন।
«'যে নিজের পরিচয় মুছে ফেলতে পারে, তাকে খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে কঠিন।'»
---
ঠিক তখনই স্ক্রিনে একটি নতুন উইন্ডো নিজে থেকেই খুলে গেল।
কেউ কিছু চাপেনি।
কালো পর্দায় সাদা অক্ষর ভেসে উঠল।
«"ভালো করেছ, মেহেদী।"»
মিতু সঙ্গে সঙ্গে হার্ডড্রাইভ খুলে ফেলতে গেল।
কিন্তু উইন্ডোটি ততক্ষণে পূর্ণ পর্দায় ছড়িয়ে গেছে।
---
একটি ভিডিও চালু হলো।
মুখোশধারী মানুষটি এবার একটি চেয়ারে বসে আছে।
তার সামনে দাবার বোর্ড।
সে একটি কালো ঘোড়ার গুটি সামনে এগিয়ে দিল।
তারপর বলল,
"তুমি কি খেয়াল করেছ..."
"আমি কখনো তোমাকে মিথ্যা বলিনি।"
"আমি শুধু সব সত্য একসঙ্গে বলিনি।"
---
মেহেদী মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
লোকটি আবার বলল,
"তুমি ভাবছ, তুমি আমাকে খুঁজছ।"
"আসলে..."
"...আমি তোমাকে পরীক্ষা করছি।"
---
সে টেবিলের ওপর একটি পুরোনো ছবি রাখল।
ক্যামেরা ধীরে ধীরে ছবিটির দিকে এগোল।
ছবিতে তিনজন মানুষ।
ড. আরিফ সালেহ।
অধ্যাপক আফসার রহমান।
আর...
একজন নারী।
মিতু বিস্ময়ে বলল,
"এ কে?"
ছবির নিচে লেখা ছিল,
ড. নাদিয়া রহমান
---
আফসার রহমান ছবিটি দেখে ফ্যাকাশে হয়ে গেলেন।
তিনি ফিসফিস করে বললেন,
"অসম্ভব..."
"ওর সব রেকর্ড তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল..."
ভিডিওর শেষে মুখোশধারী শান্ত গলায় বলল,
«"তোমরা দুইজন বিজ্ঞানীকে খুঁজে পেয়েছ।"»
«"এখন তৃতীয়জনকে খুঁজে বের করো।"»
«"কারণ PROJECT MIRROR-এর প্রকৃত স্থপতি আরিফ নয়..."»
«"...নাদিয়া।"»
ভিডিও থেমে গেল।
ঘরের সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।
এতদিন তারা যাকে মূল পরিকল্পনাকারী মনে করছিল...
সম্ভবত তিনি ছিলেন না।
আর রহস্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি...
এখনই প্রথমবার তাদের সামনে এল।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।