পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬৪: আসল লক্ষ্য
সাইরেনের শব্দে রাতের নীরবতা ভেঙে গেছে।
মেহেদীর গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে থানার দিকে ছুটছে।
ইয়ারপিসে একের পর এক বার্তা আসছে।
"প্রধান প্রবেশদ্বার নিরাপদ!"
"পশ্চিম দিকের গেটও অক্ষত!"
"কিন্তু..."
"...প্রমাণ সংরক্ষণাগারের অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে গেছে!"
---
মারুফ দাঁত চেপে বললেন,
"ওরা ভেতরে ঢুকেছে।"
---
পাঁচ মিনিট পর পুলিশের গাড়ি থানার সামনে থামল।
অদ্ভুত ব্যাপার...
কোনো গুলির শব্দ নেই।
কোনো ভাঙচুরও নেই।
সবকিছু স্বাভাবিক।
এতটাই স্বাভাবিক যে সেটাই অস্বাভাবিক লাগছে।
---
মেহেদী দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণাগারের দিকে দৌড়ে গেল।
দরজা ভাঙা নয়।
তালা অক্ষত।
কার্ড-অ্যাক্সেসও ঠিক আছে।
---
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"তাহলে অ্যালার্ম বন্ধ হলো কীভাবে?"
---
মিতু কন্ট্রোল প্যানেল পরীক্ষা করে বলল,
"কেউ জোর করে বন্ধ করেনি।"
"সঠিক অনুমতি ব্যবহার করেই বন্ধ করা হয়েছে।"
---
মারুফ থমকে গেলেন।
"ভেতরের কেউ?"
---
মেহেদী কিছু বলল না।
সে ধীরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।
সব তাক ঠিকঠাক।
সব বাক্স জায়গামতো।
কালো হার্ডড্রাইভও আছে।
Project Mirror-এর ফাইলও আছে।
---
সৌরভ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
"কিছুই তো চুরি হয়নি!"
---
মেহেদী ফাইলটি হাতে নিল।
তারপর অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ সে বলল,
"না..."
"একটা জিনিস নেই।"
---
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"কী?"
---
মেহেদী তাকের ওপর আঙুল রাখল।
ধুলোর ওপর একটি ছোট গোল দাগ।
"এখানে একটা ধাতব কৌটা ছিল।"
---
মিতু বিস্মিত।
"আপনি জানলেন কীভাবে?"
---
"ধুলোর দাগ।"
"অনেক দিন ধরে এখানে কিছু একটা রাখা ছিল।"
"আজ সেটা সরানো হয়েছে।"
---
রাশেদ দ্রুত রেকর্ড পরীক্ষা করল।
"ঠিকই বলেছেন।"
"তিন বছর আগে উদ্ধার হওয়া একটি সিল করা টাইটেনিয়ামের কন্টেইনার এখানে সংরক্ষিত ছিল।"
---
মারুফ ভ্রু কুঁচকে বললেন,
"ভেতরে কী ছিল?"
---
রাশেদ মাথা নাড়ল।
"কেউ জানে না।"
"কন্টেইনারটি কখনো খোলা হয়নি।"
---
ঠিক তখনই মেহেদীর চোখ পড়ল তাকের কোণে।
একটি সাদা দাবার রাজা গুটি।
তার নিচে ভাঁজ করা কাগজ।
সে ধীরে কাগজটি খুলল।
তাতে লেখা।
«"তুমি আবারও ভাবলে, আমি তথ্য চুরি করতে এসেছি।"»
«"আমি তথ্য নিতে আসিনি..."»
«"...আমি আমার সম্পত্তি ফিরিয়ে নিতে এসেছি।"»
নিচে একটি স্বাক্ষর।
K
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
---
মিতু ধীরে বলল,
"তাহলে টাইটেনিয়ামের কন্টেইনারটাই ছিল আসল লক্ষ্য।"
---
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"আর আমরা নিজেরাই সারাক্ষণ ভুল জিনিস পাহারা দিয়েছি।"
---
ঠিক সেই মুহূর্তে থানার বাইরে প্রচণ্ড শব্দ হলো।
সবাই দৌড়ে বেরিয়ে এল।
আকাশে একটি ছোট ড্রোন উড়ছে।
ড্রোনটি কয়েক সেকেন্ড থানার ওপর স্থির থাকল।
তারপর নিচে একটি ছোট প্যাকেট ফেলে উড়ে চলে গেল।
---
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল দ্রুত প্যাকেটটি পরীক্ষা করল।
কোনো বিস্ফোরক নেই।
মেহেদী নিজেই প্যাকেটটি খুলল।
ভেতরে একটি কাঁচের শিশি।
শিশির ভেতরে স্বচ্ছ তরল।
আর একটি চিঠি।
চিঠিতে লেখা।
«"তুমি জানতে চেয়েছিলে Project Mirror-এর দ্বিতীয় ধাপ কী।"»
«"উত্তর তোমার হাতেই আছে।"»
«"কিন্তু শিশিটি খুলবে না।"»
«"কারণ এর ভেতরে যা আছে..."»
«"...তা কোনো বিষ নয়।"»
«"...তার থেকেও বিপজ্জনক।"»
মেহেদী শিশিটির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
এবার তার মনে হলো...
কামরান হয়তো মানুষ হত্যা করতে চায় না।
সে চাইছে...
মানুষকে বদলে দিতে।
আর সেই পরিবর্তনের চাবিকাঠি এখন মেহেদীর হাতের কাঁচের শিশির ভেতর বন্দী।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।