কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৪৫: নীরব সংকেত
ইমরানের পকেট থেকে আসা বিপ... বিপ... শব্দ মুহূর্তেই চারপাশের পরিবেশ বদলে দিল।
মিতু হাত তুলে সবাইকে পেছনে সরে যেতে বলল।
"কেউ কাছে আসবেন না!"
পুলিশ দ্রুত একটি নিরাপদ বৃত্ত তৈরি করল।
ইমরান আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
"আমি কিছু জানি না!"
"আমি শপথ করে বলছি, আমার পকেটে কী আছে তাও জানি না।"
---
মেহেদী শান্ত গলায় বলল,
"ওকে মাটিতে বসাও।"
"কেউ ওর শরীরে হাত দেবে না।"
---
মিতু ধীরে ধীরে একটি লম্বা ধাতব গ্রিপার দিয়ে ইমরানের জ্যাকেটের পকেট থেকে ছোট্ট ডিভাইসটি বের করল।
আকারে একটি গাড়ির চাবির থেকেও ছোট।
কালো প্লাস্টিকের কেসিং।
একটি সবুজ আলো জ্বলছে।
প্রতি তিন সেকেন্ড পরপর...
বিপ।
---
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"বোমা?"
মিতু কয়েক সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করে বলল,
"এখনই সেটা বলা যাবে না। আগে পরীক্ষা করতে হবে।"
---
ডিভাইসটি একটি নিরাপদ কন্টেইনারে রাখা হলো।
কয়েক মিনিট পর প্রাথমিক পরীক্ষার ফল এল।
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"এটা বিস্ফোরক নয়।"
---
"তাহলে?"
"এটা একটি ট্রান্সমিটার।"
"কিন্তু সাধারণ ট্রান্সমিটার নয়।"
---
মেহেদী জিজ্ঞেস করল,
"কী ধরনের?"
মিতু উত্তর দিল,
"এটা প্রতি কয়েক সেকেন্ড পরপর নিজের অবস্থান সম্প্রচার করছে।"
---
মেহেদীর চোখে হঠাৎ ঝিলিক দেখা গেল।
"মানে..."
"আমরা এতক্ষণ ওকে অনুসরণ করিনি।"
"...ওর মাধ্যমে কেউ আমাদের অনুসরণ করেছে।"
---
ইমরান মাথা নিচু করে বসে আছে।
তার চোখে সত্যিকারের আতঙ্ক।
মেহেদী তার পাশে গিয়ে বসল।
"ইমরান..."
"শেষবার নির্দেশ কোথায় পেয়েছিলে?"
"পুরোনো রেলওয়ে লকারে।"
"কে দিয়েছিল?"
"আমি কাউকে দেখিনি।"
"লকার খুলতেই খাম ছিল।"
---
মেহেদী বলল,
"তাহলে তুমি শুধু একজন বাহক।"
ইমরান ধীরে মাথা নাড়ল।
"আমি কখনো আসল লোকটাকে দেখিনি।"
---
ঠিক তখনই শাহীনুর দৌড়ে এল।
"স্যার!"
"ডিভাইসটার সিগন্যাল আমরা অনুসরণ করেছি।"
মারুফ বললেন,
"কোথায় যাচ্ছে?"
শাহীনুর থেমে গেল।
তার মুখে অবিশ্বাস।
"স্যার..."
"সিগন্যাল বাইরে যাচ্ছে না।"
---
"মানে?"
---
"সিগন্যালের গ্রহণকারী..."
"...এই থানার ভেতরেই আছে।"
---
সবাই একসঙ্গে চুপ হয়ে গেল।
মিতু দ্রুত ল্যাপটপ খুলে সিগন্যালের শক্তি বিশ্লেষণ করতে লাগল।
স্ক্রিনে একটি বিন্দু ধীরে ধীরে নড়ছে।
তারপর স্থির হলো।
Evidence Archive
প্রমাণ সংরক্ষণাগার।
---
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দিলেন,
"কেউ বাইরে যাবে না!"
"সব দরজা বন্ধ!"
---
দলটি দ্রুত প্রমাণাগারের দিকে দৌড়াল।
দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।
তালা অক্ষত।
কিন্তু ভেতর থেকে খুব ক্ষীণ একটা শব্দ আসছে।
টিক... টিক... টিক...
---
দরজা খুলতেই সবাই থমকে দাঁড়াল।
ঘরের মাঝখানে একটি পুরোনো কাঠের টেবিল।
টেবিলের ওপর একটি ধূসর রঙের ধাতব বাক্স।
তার গায়ে কালো মার্কার দিয়ে লেখা।
"মেহেদীর জন্য।"
---
মারুফ হাত তুলে সবাইকে থামালেন।
"কেউ ছুঁবে না।"
---
মেহেদী কয়েক মুহূর্ত বাক্সটির দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে চারপাশে নজর বুলাল।
দেয়ালে ধুলো জমে আছে।
কিন্তু টেবিলের নিচে...
জুতোর একেবারে নতুন ছাপ।
সে নিচু হয়ে ছাপগুলো দেখল।
একটি নয়।
দুটি নয়।
তিনজন মানুষের ছাপ।
---
মেহেদী ফিসফিস করে বলল,
"একজন বাক্স এনেছে।"
"আর দুজন?"
মিতু নিচু হয়ে দেখল।
"মনে হচ্ছে একজন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল।"
"আর তৃতীয় ব্যক্তি..."
"...শুধু পর্যবেক্ষণ করেছে।"
---
মেহেদীর চোখ গম্ভীর হয়ে উঠল।
"ওরা আমাদের শুধু দেখছে না।"
"ওরা নিজেদের মধ্যেও আলাদা আলাদা ভূমিকা ভাগ করে কাজ করছে।"
---
ঠিক তখনই ধাতব বাক্সটির ওপর ছোট্ট একটি লাল আলো জ্বলে উঠল।
সঙ্গে সঙ্গে একটি যান্ত্রিক কণ্ঠ ভেসে এলো।
«"অভিনন্দন, গোয়েন্দা মেহেদী।"»
«"তুমি প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ।"»
«"এখন শুরু হচ্ছে... দ্বিতীয় খেলা।"»
কণ্ঠ থেমে গেল।
তারপর বাক্সের ঢাকনাটি ধীরে ধীরে নিজে থেকেই খুলতে শুরু করল।
ভেতরে কী আছে, তা এখনো কেউ দেখতে পায়নি।
সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।