কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৪৯: Subject-0
ঘরের ভেতর এমন নীরবতা নেমে এল, যেন বহু বছর ধরে এখানে কোনো মানুষের পা পড়েনি।
মেহেদী ধীরে ধীরে তিনটি আলমারির সামনে দাঁড়াল।
Subject-17
Subject-19
Subject-0
সে প্রথমে ১৭ নম্বর আলমারির হাতল ধরল।
লক করা।
১৯ নম্বরটিও একইভাবে বন্ধ।
কিন্তু...
Subject-0-এর হাতল ঘোরাতেই দরজাটি শব্দ করে খুলে গেল।
---
ভেতরে কোনো ফাইল নেই।
কোনো ছবি নেই।
কোনো পরীক্ষার রিপোর্টও নেই।
শুধু একটি বড় আয়না।
আয়নার ওপরে কালো অক্ষরে লেখা।
«"প্রথম বিষয় ছিল না একজন মানুষ।"»
«"প্রথম বিষয় ছিল একটি ধারণা।"»
---
সৌরভ বিরক্ত হয়ে বলল,
"আবার ধাঁধা!"
মিতু ধীরে বলল,
"না..."
"আমার মনে হচ্ছে এটা গুরুত্বপূর্ণ।"
---
মেহেদী আয়নার সামনে দাঁড়াল।
কয়েক সেকেন্ড নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
"PROJECT MIRROR..."
"Mirror মানে শুধু আয়না নয়।"
"মানুষ অন্য মানুষকে কীভাবে অনুকরণ করে, সেটাও।"
---
ঠিক তখনই আয়নার নিচে একটি ছোট স্ক্যানার জ্বলে উঠল।
সবুজ আলো।
তার নিচে লেখা।
LOOK INTO THE MIRROR
মারুফ বললেন,
"করবি?"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"এতদূর এসেছি। এখন থামলে চলবে না।"
---
সে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই স্ক্যানারটি সক্রিয় হলো।
একটি যান্ত্রিক কণ্ঠ শোনা গেল।
«"Face recognized."»
«"Subject-17 confirmed."»
তারপর...
আয়নাটি ধীরে ধীরে দুই পাশে সরে গেল।
পেছনে লুকানো একটি ছোট কক্ষ দেখা গেল।
---
ঘরের মাঝখানে একটি টেবিল।
টেবিলের ওপর পুরোনো রিল-টু-রিল ভিডিও টেপ।
একটি নোটবুক।
আর একটি খাম।
খামের ওপর লেখা...
"মেহেদীর জন্য। ব্যক্তিগত।"
---
মারুফ বললেন,
"এটা তুমি একাই পড়ো।"
মেহেদী খামটি খুলল।
ভেতরে একটি হাতে লেখা চিঠি।
---
«"মেহেদী,
যদি তুমি এই চিঠি পড়ে থাকো, তাহলে বুঝব আমি ব্যর্থ হয়েছি।
আমি জানি না তুমি আমাকে মনে রেখেছ কি না।
কিন্তু আমি তোমাকে মনে রেখেছি।
আমি ড. আরিফ সালেহ।"»
---
মেহেদীর বুক ধক করে উঠল।
সে পড়তে থাকল।
---
«"PROJECT MIRROR শুরু হয়েছিল মানুষের পরিচয় চুরি করার জন্য নয়।
আমরা জানতে চেয়েছিলাম, মানুষ কীভাবে শেখে, বিশ্বাস করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু গবেষণাটি ধীরে ধীরে অন্য পথে চলে যায়।
কিছু মানুষ জ্ঞান চেয়েছিল।
কিছু মানুষ ক্ষমতা।"»
---
চিঠির শেষ অংশে লেখা।
«"যদি Subject-19 এখনও বেঁচে থাকে...
তাহলে সে শুধু আমার গবেষণার ফল নয়।
সে আমার সবচেয়ে বড় ভুল।"»
---
মিতু নোটবুকটি খুলে দেখছিল।
হঠাৎ সে বলল,
"মেহেদী!"
"এটা দেখো!"
নোটবুকের প্রতিটি পাতায় তারিখ লেখা।
পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ।
আচরণগত নোট।
শেষ পাতায় একটি মাত্র বাক্য।
'Subject-19 learns faster than expected.'
তার নিচে আরও একটি লাইন।
'Subject-17 questions everything.'
---
মেহেদী অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর আস্তে বলল,
"তাহলে..."
"আমাদের দুজনকে একসঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল।"
---
ঠিক তখনই রিল-টু-রিল যন্ত্রটি নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি ভিডিও।
ড. আরিফ সালেহ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে।
তার মুখে ক্লান্তির ছাপ।
তিনি বললেন,
"আজ আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
"PROJECT MIRROR আজই বন্ধ হবে।"
"কারণ..."
"...আমি বুঝতে পেরেছি, মানুষের আচরণ বোঝা আর মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে একটি সীমারেখা আছে।"
ভিডিওতে হঠাৎ দরজা খুলে যাওয়ার শব্দ।
ড. আরিফ ঘুরে তাকালেন।
ক্যামেরায় আরেকজন মানুষের ছায়া দেখা গেল।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
শুধু কণ্ঠ শোনা গেল।
«"অনেক দেরি হয়ে গেছে, আরিফ।"»
ভিডিও কেঁপে উঠল।
তারপর হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।
---
ঘরের আলো একবার নিভে আবার জ্বলে উঠল।
আর সেই মুহূর্তে...
Subject-19 লেখা আলমারিটির ভেতর থেকে খুব ক্ষীণ শব্দ ভেসে এল।
ঠক...
ঠক...
ঠক...
সৌরভ ফিসফিস করে বলল,
"ভেতরে..."
"...কেউ আছে?"
মেহেদী ধীরে আলমারির দিকে এগিয়ে গেল।
তার হাত আলমারির হাতলে।
সে গভীর শ্বাস নিল।
ধীরে ধীরে হাতল ঘোরাতে শুরু করল...
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।