Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ২৩ : ডায়েরির প্রথম পৃষ্ঠা ( কেস ২: স্মৃতি চোর)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
34 বার প্রদর্শিত
করেছেন (12,333 পয়েন্ট)   25 জুলাই "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
কেস ২: স্মৃতি চোর

পর্ব ২৩: ডায়েরির প্রথম পৃষ্ঠা

ভূগর্ভস্থ কক্ষের বাতাস ভারী হয়ে আছে।

মেহেদীর হাতে ধরা পুরোনো চামড়ার ডায়েরিটা যেন শুধু কাগজের নয়, বহু বছরের গোপন সত্যের ভার বহন করছে।

প্রথম পাতায় স্পষ্ট লেখা,

"যদি আমি মারা যাই, তাহলে সত্যটা এই ডায়েরির ভেতর আছে।"

নিচে স্বাক্ষর।

ড. রাশেদ কবির।

মারুফ ধীরে বললেন,

"এটা এখানেই পড়বি?"

মেহেদী মাথা নাড়ল।

"না। আগে নিশ্চিত হতে হবে এটা আসল ডায়েরি কি না।"

---

থানার ফরেনসিক ল্যাবে ফিরে ডায়েরির কাগজ, কালি আর বাঁধাই পরীক্ষা করা হলো।

রিপোর্ট আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।

মিতু ফাইলটা টেবিলে রেখে বলল,

"কাগজ অন্তত পঁচিশ থেকে তিরিশ বছরের পুরোনো।"

"কালিও সেই সময়ের।"

"নকল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।"

মেহেদী দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

"তাহলে পড়া শুরু করা যাক।"

---

সে প্রথম পৃষ্ঠা খুলল।

ডায়েরির লেখা ছিল সুন্দর, পরিপাটি।

> ১৫ মার্চ, ১৯৯৮

> "আজ আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছি। আমি ভেবেছিলাম আমরা স্মৃতিভ্রংশ রোগীদের সাহায্য করার প্রযুক্তি তৈরি করছি। কিন্তু আজ বুঝলাম, আমাদের গবেষণাকে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।"

ঘরে কেউ কথা বলল না।

মেহেদী পড়তে লাগল।

> "ড. আরিফ আমাকে বলেছিলেন, মানুষের স্মৃতি কখনোই জোর করে পরিবর্তন করা উচিত নয়। আমি তখন তাঁর সঙ্গে একমত হইনি। আজ বুঝতে পারছি, তিনিই ঠিক ছিলেন।"

মারুফ ধীরে বললেন,

"তাহলে শুরুতে রাশেদই ভুল পথে ছিল।"

"হ্যাঁ।"

মেহেদী উত্তর দিল।

"কিন্তু মনে হচ্ছে পরে সে মত বদলায়।"

---

পরের পাতায় লেখা,

> "আজ প্রথমবার আটজন শিশুর ওপর পরীক্ষা চালানো হলো। আমাকে বলা হয়েছিল, এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু পরীক্ষা শেষে তিনজন তাদের বাবা-মায়ের নাম মনে করতে পারেনি। একজন নিজের নামও ভুলে গেছে।"

মিতু চোখ বন্ধ করে ফেলল।

"এটা চিকিৎসা নয়।"

"এটা অপরাধ।"

---

আরও কয়েক পৃষ্ঠা এগিয়ে মেহেদী হঠাৎ থেমে গেল।

একটি লাইন তার চোখ আটকে দিল।

> "প্রকল্পের প্রকৃত পরিচালককে আমরা কখনো নাম ধরে ডাকতাম না। সবাই শুধু একটি নাম ব্যবহার করত..."

পরের লাইন।

> "ডিরেক্টর।"

সৌরভ বিরক্ত হয়ে বলল,

"আবার নতুন রহস্য!"

মেহেদী শান্তভাবে বলল,

"বরং এটা গুরুত্বপূর্ণ।"

"যদি সবাই শুধু 'ডিরেক্টর' বলত, তাহলে হয়তো খুব কম মানুষই তার আসল পরিচয় জানত।"

---

ঠিক তখনই শাহীনুর বলল,

"পরের পাতাটা দেখ।"

পাতার মাঝখানে একটি ছবি আটকানো।

ছবিতে পাঁচজন মানুষ দাঁড়িয়ে।

ড. আরিফকে চেনা যাচ্ছে।

ড. রাশেদও আছেন।

বাকি তিনজনের মুখ কালো কালি দিয়ে ঘষে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু একজনের হাত দেখা যাচ্ছে।

সেই হাতে...

ASTER-এর আংটি।

---

মেহেদী ছবিটা অনেকক্ষণ ধরে দেখল।

তারপর বলল,

"অদ্ভুত।"

মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,

"কী?"

"যে লোক ছবিটা নষ্ট করেছে, সে মুখগুলো মুছে দিয়েছে।"

"কিন্তু আংটিটা রেখে দিয়েছে।"

"ইচ্ছা করেই।"

---

ডায়েরির শেষের দিকের একটি পাতায় বড় অক্ষরে লেখা ছিল,

> "যদি কেউ এই ডায়েরি খুঁজে পায়, তাহলে হাসপাতালের পুরোনো শিশু বিভাগে যাবে।"

নিচে একটি ঠিকানা।

ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতাল।

আরও নিচে মাত্র একটি বাক্য।

> "সেখানে এমন একজন আছে, যে সবকিছু জানে। কিন্তু সে নিজের নামটাই ভুলে গেছে।"

---

পরদিন সকাল।

মেহেদীরা হাসপাতালে পৌঁছাল।

শিশু বিভাগ বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

দেয়ালের রং উঠে গেছে।

জানালায় ধুলো জমেছে।

কিন্তু এক কোণের ছোট কক্ষে এখনও একজন বৃদ্ধ বসে আছেন।

সাদা চুল।

পাতলা শরীর।

চোখে শূন্য দৃষ্টি।

একজন নার্স বললেন,

"উনি প্রায় পঁচিশ বছর ধরে এখানে আছেন।"

মারুফ অবাক হয়ে বললেন,

"কোনো আত্মীয় নেই?"

"না।"

"নাম?"

নার্স দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"উনি নিজের নাম বলতে পারেন না।"

---

মেহেদী ধীরে ধীরে বৃদ্ধের সামনে গিয়ে বসল।

"আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?"

বৃদ্ধ তার দিকে তাকালেন।

কোনো উত্তর নেই।

মেহেদী পকেট থেকে ASTER-এর প্রতীক খোদাই করা ধাতব মুদ্রাটি বের করে টেবিলে রাখল।

অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল।

বৃদ্ধের নিস্তেজ চোখ হঠাৎ বড় হয়ে গেল।

তার হাত কাঁপতে শুরু করল।

তিনি ফিসফিস করে মাত্র একটি শব্দ বললেন।

"...ASTER..."

তারপর আরও আস্তে বললেন,

"...পালাও..."

মেহেদী কিছু বলার আগেই বৃদ্ধ হঠাৎ তার কব্জি শক্ত করে চেপে ধরলেন।

তার কণ্ঠ কাঁপছে।

কিন্তু এবার কথাগুলো একদম স্পষ্ট।

> "ডিরেক্টর এখনও বেঁচে আছে..."

ঠিক সেই মুহূর্তে হাসপাতালের পুরো ভবনের বিদ্যুৎ হঠাৎ নিভে গেল।

করিডোর অন্ধকারে ডুবে গেল।

আর অন্ধকারের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ভেসে এল...

কারও হাঁটার শব্দ।

চলবে...
আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 611 টি লেখা ও 10 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 12333। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4377
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩৩: ডিরেক্টরের ডায়েরি কাঁচের বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড কেউ একটি কথাও বলল না। বাক্সের ভেতরে রাখা কালো চামড়ার ডায়েরিটি সময়ের ভারে কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩২: প্রজেক্ট ০০১ ধাতব করিডোরে পা রাখতেই মেহেদীর জুতোর শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। টক... টক... টক... করিডোরের দুই পাশের দেয়াল কংক্রিটের হলেও তার ওপর আধুনিক ধাতব আবর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
36 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩১: মৃত মানুষের লগইন ডাটা সেন্টারের অ্যালার্ম একটানা বেজেই চলেছে। বিপ... বিপ... বিপ... সার্ভারের সবুজ ও নীল আলো লাল হয়ে উঠেছে। সৌরভ কীবোর্ডে দ্রুত হাত চালাচ্ছে। তার কপাল�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ৩০: জন্মসনদের গোপন সত্য ছোট কক্ষটায় তখন শুধু কম্পিউটারের মৃদু শব্দ। মেহেদীর হাত স্থির। তার চোখ জন্মসনদের ওপর আটকে আছে। সে আবার পড়ল। আবার। তারপর তৃতীয়বার। না। ভু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ২৯: টিউরিং পরীক্ষা লোহার দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পুরো ডাটা সেন্টারে কয়েক সেকেন্ড ধরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। ধাম... ধাম... ধাম... সৌরভ দৌড়ে দরজার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিল। কোন�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...