কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৪৬: দ্বিতীয় খেলা
ধাতব বাক্সের ঢাকনাটি ধীরে ধীরে খুলে গেল।
ঘরের সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু ভেতরে কোনো বোমা নেই।
কোনো অস্ত্রও নেই।
শুধু একটি ট্যাবলেট কম্পিউটার।
আর তার পাশে একটি সাদা দাবার গুটি।
রানী।
---
ট্যাবলেটের স্ক্রিন নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
কালো পর্দায় সাদা অক্ষর ভেসে উঠল।
«"তুমি এখন এমন এক খেলায় প্রবেশ করেছ, যেখানে প্রতিটি উত্তর একটি নতুন প্রশ্ন তৈরি করবে।"»
কয়েক সেকেন্ড পর একটি ভিডিও চালু হলো।
ভিডিওতে সেই পরিচিত মুখোশধারী মানুষ।
কিন্তু এবার তার কণ্ঠ আগের চেয়ে শান্ত।
"স্বাগতম, মেহেদী।"
"তুমি কি জানো..."
"তদন্তের সবচেয়ে বড় শত্রু কে?"
ভিডিও কয়েক সেকেন্ড থেমে গেল।
তারপর সে নিজেই উত্তর দিল।
"অপরাধী নয়।"
"নিশ্চয়তা।"
---
মেহেদী চুপচাপ ভিডিওটি দেখছে।
মুখোশধারী আবার বলল,
"যে তদন্তকারী খুব দ্রুত নিশ্চিত হয়ে যায়..."
"...সে নিজের চোখেই সত্যকে হত্যা করে।"
---
ভিডিও শেষ হওয়ার আগে স্ক্রিনে একটি মানচিত্র ভেসে উঠল।
শহরের তিনটি স্থান লাল রঙে চিহ্নিত।
১. পুরোনো আদালত ভবন।
২. পরিত্যক্ত জল শোধনাগার।
৩. শহরের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।
তার নিচে লেখা।
«"আমি তিনটি দরজা খুলে দিলাম।"»
«"কিন্তু সত্য লুকিয়ে আছে মাত্র একটিতে।"»
«"তোমার হাতে সময় মাত্র তিন ঘণ্টা।"»
ভিডিও বন্ধ হয়ে গেল।
---
সৌরভ উৎফুল্ল হয়ে বলল,
"তিন ভাগে ভাগ হয়ে যাই!"
মারুফও মাথা নাড়লেন।
"এতে সময় বাঁচবে।"
---
"না।"
মেহেদীর কণ্ঠ দৃঢ়।
সবাই তার দিকে তাকাল।
---
"এটাই ওদের প্রত্যাশা।"
"আমরা যদি তিন ভাগে ভাগ হয়ে যাই..."
"...আমাদের শক্তিও তিন ভাগে ভাগ হয়ে যাবে।"
---
মিতু বলল,
"তাহলে কোন জায়গায় যাব?"
---
মেহেদী ট্যাবলেটটি আবার চালু করল।
মানচিত্রটি বড় করল।
তারপর তিনটি লাল বিন্দুর দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ সে হেসে ফেলল।
---
"ওরা একটা ভুল করেছে।"
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"কী ভুল?"
---
"মানচিত্রে উত্তর দিক দেখানোর চিহ্ন নেই।"
---
মিতু বলল,
"তাতে কী?"
---
"যারা সাধারণ মানুষ, তারা এটা খেয়াল করবে না।"
"কিন্তু যারা নিজেরা মানচিত্র তৈরি করে..."
"...তারা প্রায় সব সময় উত্তর দিকের চিহ্ন দিতে ভুলে যায় না।"
---
সে আরও জুম করল।
দেখা গেল তিনটি বিন্দু সরলরেখায় নয়।
একটি ত্রিভুজ তৈরি করেছে।
ত্রিভুজের ঠিক মাঝখানে একটি ছোট ফ্যাকাশে দাগ।
এত ক্ষীণ যে প্রথমে বোঝাই যায় না।
---
মিতু বিস্মিত।
"ওটা কী?"
---
মেহেদী বলল,
"এটাই আসল লক্ষ্য।"
"তিনটি লাল বিন্দু শুধু আমাদের দৃষ্টি সরানোর জন্য।"
---
মারুফ দ্রুত মানচিত্রে স্থানাঙ্ক মিলিয়ে দেখলেন।
ত্রিভুজের মাঝখানে...
একটি বহু বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি ভবন।
নাম...
কগনিটিভ রিসার্চ সেন্টার।
---
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"এই নাম তো আগে কোথাও পাইনি!"
---
মারুফ ফাইল খুঁজে বললেন,
"এটা মাত্র পাঁচ বছর চালু ছিল।"
"তারপর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।"
---
মেহেদীর চোখে অদ্ভুত এক দৃষ্টি।
"আমি নিশ্চিত..."
"PROJECT MIRROR এখানেই শেষ হয়নি।"
"এখান থেকেই নতুন রূপে শুরু হয়েছে।"
---
দলটি দ্রুত গাড়িতে উঠল।
রাত বাড়ছে।
ঘড়িতে ২টা ১৭।
বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।
গাড়ি যখন কগনিটিভ রিসার্চ সেন্টারের সামনে পৌঁছাল...
তখন তারা দেখল প্রধান দরজাটি খোলা।
ভেতরে সব আলো জ্বলছে।
যেন কেউ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
মারুফ পিস্তল শক্ত করে ধরলেন।
মেহেদী ধীরে দরজার ভেতরে পা রাখল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ভবনের সব আলো একসঙ্গে নিভে গেল।
অন্ধকারের মধ্যে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
«"স্বাগতম, বিষয় নম্বর ১৭।"»
মেহেদীর শরীর হঠাৎ স্থির হয়ে গেল।
কারণ...
এই প্রথম কেউ তাকে "গোয়েন্দা মেহেদী" নয়,
"বিষয় নম্বর ১৭" বলে সম্বোধন করল।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।