পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৪৪: মধ্যরাতের ফাঁদ
রাত ১১টা ৪৫।
থানার ভেতর অস্বাভাবিক নীরবতা।
মেহেদী ইচ্ছা করেই সবাইকে ব্যস্ত থাকার অভিনয় করতে বলেছে।
কেউ ফাইল গুছাচ্ছে।
কেউ কম্পিউটারের সামনে বসে আছে।
কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনা জানে মাত্র চারজন।
মেহেদী।
মারুফ।
মিতু।
শাহীনুর।
---
টেবিলের ওপর রাখা সেই ক্ষুদ্র ট্রান্সমিটারটি এখনো চালু।
মেহেদী ইচ্ছে করেই জোরে জোরে বলল,
"সব প্রস্তুত?"
মারুফও অভিনয় করে উত্তর দিলেন,
"হ্যাঁ। রাত বারোটায় আমরা উত্তর মহাসড়ক দিয়ে শহর ছাড়ব।"
ডিভাইসটির ছোট সবুজ আলো একবার জ্বলে উঠল।
মিতু নিচু গলায় বলল,
"ওপাশে কেউ সিগন্যাল গ্রহণ করেছে।"
---
কিন্তু বাস্তবে...
তারা শহর ছাড়ার কোনো পরিকল্পনাই করেনি।
বরং থানার পেছনের একটি পরিত্যক্ত গুদামে অবস্থান নিল।
সেখানে আগে থেকেই ক্যামেরা, ড্রোন এবং কয়েকজন সাদাপোশাকের পুলিশ মোতায়েন ছিল।
---
রাত ১২টা।
উত্তর মহাসড়কে পুলিশের একটি খালি গাড়ি ধীরে ধীরে এগোতে লাগল।
দূর থেকে দেখলে মনে হবে, মেহেদীর দল সেটিতেই আছে।
দশ মিনিট কেটে গেল।
কিছুই ঘটল না।
---
হঠাৎ...
মহাসড়কের পাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ।
ধাম!
আগুনের গোলা আকাশে উঠে গেল।
খালি গাড়িটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ল।
দূর থেকে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
মারুফ দাঁত চেপে বললেন,
"ওরা সত্যিই আক্রমণ করেছে!"
মেহেদী শান্তভাবে বলল,
"এটাই দরকার ছিল।"
---
ঠিক তখনই ড্রোন অপারেটর চিৎকার করে উঠল।
"স্যার!"
"দুইজন লোক বিস্ফোরণের জায়গা থেকে দক্ষিণের জঙ্গলের দিকে পালাচ্ছে!"
---
মারুফ নির্দেশ দিলেন,
"সব ইউনিট এগিয়ে যাও!"
---
অন্ধকার জঙ্গলের ভেতর ধাওয়া শুরু হলো।
একজন দ্রুত পালিয়ে গেল।
অন্যজন কাঁটাঝোপে আটকে পড়ল।
পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলল।
লোকটির মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা।
হাতকড়া পরানো হলো।
---
মারুফ মুখোশ খুলতেই সবাই অবাক।
লোকটি অঘোরী রুদ্র নয়।
সে মাত্র বিশ-বাইশ বছরের এক যুবক।
ভয়ে কাঁপছে।
---
মারুফ কঠিন গলায় বললেন,
"রুদ্র কোথায়?"
যুবক মাথা নাড়ল।
"আমি জানি না।"
---
মেহেদী ধীরে তার সামনে বসল।
"তোমার নাম?"
"ইমরান।"
"কত দিন ধরে কাজ করছ?"
"ছয় মাস।"
---
"তোমার কাজ কী ছিল?"
"শুধু নির্দেশ পালন করা।"
"কার নির্দেশ?"
যুবক চুপ।
---
মেহেদী তার হাতে তাকাল।
আঙুলে পোড়ার দাগ।
নখের নিচে কালো রাসায়নিকের চিহ্ন।
মিতু ফিসফিস করে বলল,
"বিস্ফোরক বানানোর উপাদানের সংস্পর্শে এলে এমন দাগ হতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত করতে হবে।"
---
মেহেদী আবার বলল,
"তোমাকে কি বলা হয়েছিল গাড়িটা উড়িয়ে দিতে?"
ইমরান ধীরে মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"কেন?"
"কারণ..."
"ওরা বলেছিল, গোয়েন্দা মেহেদী আজ রাতেই মারা যাবে।"
---
ঘরে আবার নীরবতা।
মারুফ বললেন,
"ওরা তোমাকে ব্যবহার করেছে।"
---
ইমরানের চোখে পানি চলে এল।
"আমি কাউকে মারতে চাইনি।"
"ওরা বলেছিল গাড়িতে কেউ থাকবে না।"
---
মেহেদী এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর জিজ্ঞেস করল,
"তোমার সঙ্গে যোগাযোগ কীভাবে হতো?"
ইমরান উত্তর দিল,
"আমি কাউকে কখনো দেখিনি।"
"প্রতি বৃহস্পতিবার একটি লকারে নতুন নির্দেশ পেতাম।"
---
"কোন লকার?"
"নম্বর..."
সে কিছুক্ষণ ভাবল।
"...৩২৩।"
---
মেহেদী আর মারুফ একে অপরের দিকে তাকালেন।
আবার সেই সংখ্যা।
৩২৩।
---
ঠিক তখনই থানা থেকে জরুরি ফোন এল।
শাহীনুরের কণ্ঠ কাঁপছে।
"স্যার!"
"একটা বড় সমস্যা হয়েছে!"
মারুফ বললেন,
"কী হয়েছে?"
"আমরা যে ট্রান্সমিটারটা টেবিলে রেখেছিলাম..."
"...ওটা আসল ট্রান্সমিটার ছিল না।"
মেহেদীর মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
"মানে?"
---
"আসল ট্রান্সমিটার অনেক আগেই বদলে ফেলা হয়েছিল।"
"আমরা যে ডিভাইসটা খুঁজে পেয়েছিলাম..."
"...সেটা ছিল শুধু আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য।"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড কিছু বলল না।
তারপর ধীরে হাসল।
মারুফ বিস্মিত হয়ে বললেন,
"হাসছিস কেন?"
মেহেদী উত্তর দিল,
"কারণ এবার নিশ্চিত হলাম..."
"আমাদের প্রতিপক্ষ শুধু আমাদের পরিকল্পনা জানে না।"
"...সে জানে আমরা কীভাবে চিন্তা করি।"
ঠিক সেই মুহূর্তে ইমরানের পকেটের ভেতর থেকে একটি ক্ষুদ্র ডিভাইস বিপ... বিপ... শব্দ করতে শুরু করল।
মিতু চিৎকার করে উঠল,
"সবাই দূরে সরে যান!"
ডিভাইসটি কি শুধু একটি ট্র্যাকার...
নাকি আরও ভয়ংকর কিছু?
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।