পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬৭: জিরো আওয়ার
ভূগর্ভস্থ কক্ষের বাতাস ভারী হয়ে আছে।
মনিটরের পর্দা আবার কালো হয়ে গেছে।
নাদিয়ার শেষ কথাগুলো এখনও সবার কানে বাজছে।
«"এবার আর আমার কথা শুনবে না..."»
---
মারুফ নিচু গলায় বললেন,
"এর মানে কী?"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"নাদিয়া আমাদের কোনো সংকেত দিয়েছে।"
---
মিতু অবাক হয়ে তাকাল।
"কীভাবে?"
---
"তিনি বলেননি, 'কামরানের কথা শুনবে না।'"
"তিনি বলেছেন, 'আমার কথা শুনবে না।'"
---
"তাতে কী বোঝা যায়?"
---
"এর মানে..."
"ভিডিওতে তিনি যা বলছেন, সেটাই হয়তো তিনি বলতে চাননি।"
"কেউ তাকে বাধ্য করেছে।"
---
ঘরের সবাই আবার ভিডিওটি চালাল।
এবার শুধু নাদিয়ার মুখের দিকে নয়...
তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল মেহেদী।
ভিডিও থামিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিটি ফ্রেম দেখা হলো।
হঠাৎ মিতু চিৎকার করে উঠল।
"একটু থামাও!"
---
নাদিয়ার ডান হাতের তর্জনী কয়েক মুহূর্তের জন্য টেবিলে ঠুকছে।
একবার...
দুবার...
তারপর...
তিনবার।
কিছুক্ষণ বিরতি।
আবার...
দুবার।
---
মেহেদী দ্রুত কাগজে লিখল।
১-২-৩... বিরতি... ২।
---
মারুফ বললেন,
"এটা কি কোনো কোড?"
---
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হতে পারে।"
"কিন্তু এটা সংখ্যা নয়।"
---
মিতু আবার ভিডিওটি ধীরে চালাল।
এবার তারা লক্ষ্য করল...
নাদিয়া শুধু আঙুল নাড়ছেন না।
প্রতিবার নির্দিষ্ট একটি শব্দ বলার সময়ই আঙুল ঠুকছেন।
---
মেহেদী শব্দগুলো লিখে নিল।
এবার।
আমার।
কামরান।
চায়।
---
সে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"না..."
"এটা বাক্যের ভেতরে লুকানো বার্তা।"
---
ঠিক তখনই রাশেদ দৌড়ে এল।
"স্যার!"
"জাতীয় আর্কাইভের পুরোনো নথিতে A-0 সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি।"
---
সবাই তার দিকে তাকাল।
---
"১৯৭৪ সালে এখানে একটি গোপন সরকারি প্রকল্প চলত।"
"কোডনাম..."
ZERO HOUR
---
মেহেদীর চোখ বড় হয়ে গেল।
"Zero Hour..."
---
রাশেদ বলল,
"নথির বেশিরভাগ অংশ মুছে ফেলা হয়েছে।"
"তবে শেষ পাতায় একটি লাইন রয়ে গেছে।"
«'Zero Hour সক্রিয় হলে দেশের সব তথ্য এক জায়গায় স্থানান্তর করা হবে।'»
---
মিতু ফিসফিস করে বলল,
"তথ্য..."
"কোন তথ্য?"
---
ঠিক তখনই থানা থেকে জরুরি কল এল।
"স্যার!"
"জাতীয় নাগরিক ডেটা সেন্টারে অস্বাভাবিক নেটওয়ার্ক কার্যকলাপ ধরা পড়েছে!"
---
মেহেদী হঠাৎ স্থির হয়ে গেল।
তার মাথায় যেন সব টুকরো একসঙ্গে জুড়ে গেল।
সে খুব আস্তে বলল,
"কামরান বিদ্যুৎ চায় না..."
"পানি চায় না..."
"শহর ধ্বংসও করতে চায় না..."
---
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"তাহলে সে কী চায়?"
---
মেহেদী ধীরে উত্তর দিল,
"তথ্য।"
"মানুষের পরিচয়।"
"সিদ্ধান্ত।"
"অভ্যাস।"
"সবকিছু।"
---
মিতুর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
"মানে..."
---
"Project Mirror-এর দ্বিতীয় ধাপ কোনো রাসায়নিক পরীক্ষা নয়।"
"এটা..."
মানুষের আচরণের সবচেয়ে বড় ডেটাবেস তৈরি করার পরিকল্পনা।
---
ঠিক সেই মুহূর্তে ভূগর্ভস্থ কক্ষের সব আলো নিভে গেল।
দূরে কোথাও ভারী দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো।
ধাম!
তারপর স্পিকারে শেষবারের মতো কামরানের কণ্ঠ ভেসে এল।
«"অভিনন্দন, মেহেদী।"»
«"তুমি অবশেষে বুঝেছ আমি কী চাই।"»
«"কিন্তু..."»
«"তুমি এখনও বুঝতে পারোনি..."»
«"...আমি ইতিমধ্যেই সেটা পেয়ে গেছি।"»
স্পিকার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
মেহেদী ধীরে মাথা তুলল।
তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই এখন শুরু হতে যাচ্ছে।
কারণ এবার প্রতিপক্ষের অস্ত্র...
মানুষের মন নয়।
মানুষের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ইতিহাস।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।