পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৭৪: আসল খলনায়ক
বাইরে একের পর এক গুলির শব্দ।
পুরোনো অনাথ আশ্রমের জানালার কাচ ভেঙে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ওয়্যারলেসে মারুফের কণ্ঠ ভেসে এল,
"মেহেদী! চারদিক থেকে সশস্ত্র লোক এগিয়ে আসছে!"
---
মেহেদী দ্রুত রুদ্রের দিকে তাকাল।
"এরা কারা?"
---
রুদ্র শান্ত গলায় বলল,
"কামরানের লোক নয়।"
---
"তাহলে?"
---
"ওরা ভাড়াটে।"
"কামরান কখনো নিজের হাতে যুদ্ধ করে না।"
"সে শুধু দাবার চাল দেয়।"
---
ঠিক তখনই আশ্রমের প্রধান দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
কোনো গুলি নয়।
কোনো বিস্ফোরণ নয়।
শুধু ভারী বুটের শব্দ।
ঠক... ঠক... ঠক...
অন্ধকার করিডোর পেরিয়ে একজন মানুষ ভেতরে এল।
কালো কোট।
সাদা শার্ট।
চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা।
ড. কামরান হক।
---
তিনি চারপাশে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
"অবশেষে..."
"আমার দুই ছাত্র আবার একসঙ্গে।"
---
মেহেদীর চোখ কঠিন হয়ে উঠল।
"আমরা তোমার ছাত্র নই।"
---
কামরান মাথা নাড়লেন।
"স্মৃতি হারালে সত্য বদলে যায় না।"
---
রুদ্র নিচু গলায় বলল,
"আমি তোকে বলেছিলাম..."
"সে আসবেই।"
---
কামরান ধীরে ধীরে তাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
তার হাতে কোনো অস্ত্র নেই।
শুধু একটি ছোট রিমোট।
---
মারুফ ও তার দল ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই রুদ্র চিৎকার করে উঠল,
"কেউ ভেতরে আসবেন না!"
---
মারুফ থমকে গেলেন।
"কেন?"
---
রুদ্র রিমোটটির দিকে তাকিয়ে বলল,
"কারণ ওটা শুধু রিমোট নয়।"
"পুরো ভবন বিস্ফোরকের সঙ্গে সংযুক্ত।"
---
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এল।
---
কামরান হালকা হেসে বললেন,
"ভয় পেও না।"
"আমি ভবন উড়িয়ে দিতে আসিনি।"
"আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাই..."
"...আজকের কথোপকথন কেউ বাধা দেবে না।"
---
তিনি রিমোটটি টেবিলের ওপর রেখে দুই হাত তুলে দেখালেন।
"দেখো।"
"আমি নিরস্ত্র।"
---
মেহেদী ঠান্ডা গলায় বলল,
"তুমি হাজার মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করেছ।"
"আজ কী বলতে চাও?"
---
কামরানের মুখ থেকে হাসি মিলিয়ে গেল।
তিনি ধীরে বললেন,
"আমি কাউকে দানব বানাতে চাইনি।"
"আমি চেয়েছিলাম..."
"...মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা বুঝতে।"
---
"তাহলে রুদ্র?"
---
কামরান রুদ্রের দিকে তাকালেন।
অনেকক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
"আমি ওর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।"
---
রুদ্র তিক্ত হেসে উঠল।
"বিশ বছর পরে?"
---
কামরান নিচু গলায় বললেন,
"ক্ষমা সব ক্ষত সারায় না।"
"আমি সেটা জানি।"
---
মেহেদী বিস্মিত।
এমন উত্তর সে আশা করেনি।
---
ঠিক তখনই রুদ্র হঠাৎ কাশতে শুরু করল।
প্রথমে হালকা।
তারপর প্রবল।
তার হাতের ফাঁক দিয়ে রক্ত মেঝেতে পড়ল।
---
মেহেদী ছুটে গেল।
"রুদ্র!"
---
রুদ্র দুর্বল গলায় বলল,
"আমি অনেক দিন ধরে অসুস্থ।"
"এটাই ছিল..."
"...আমার সময় শেষ হওয়ার আগে সব সত্য বলার শেষ সুযোগ।"
---
মেহেদী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
"কী হয়েছে তোর?"
---
রুদ্র মৃদু হেসে বলল,
"Project Mirror..."
"শুধু স্মৃতি নিয়ে খেলা করেনি।"
"আমার শরীরটাও..."
"...ধীরে ধীরে ভেঙে দিয়েছে।"
---
কামরান চোখ নামিয়ে ফেললেন।
তার মুখে স্পষ্ট অনুশোচনা।
তিনি খুব আস্তে বললেন,
"আমি ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম।"
---
রুদ্র মাথা নাড়ল।
"না।"
"তুমি আমাকে ঠিক করতে চেয়েছিলে।"
"বাঁচাতে নয়।"
---
ঘরের ভেতর আবার নীরবতা।
বিশ বছরের প্রতিশোধ, অপরাধ আর রহস্যের আড়ালে প্রথমবার...
একটি গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ঠিক তখনই রুদ্র মেহেদীর হাতে সেই ছোট রেকর্ডারটি তুলে দিল।
সে ফিসফিস করে বলল,
«"এবার সত্যটা মানুষের সামনে নিয়ে যা..."»
«"যেন আর কোনো শিশুর জীবন এভাবে বদলে না যায়।"»
মেহেদী রেকর্ডারটি শক্ত করে ধরে রইল।
সে বুঝতে পারল...
এই লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচবে কে...
আর সত্যের মূল্য কত বড় হবে...
সেই উত্তর এখনও বাকি।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।