Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ১২: যে মানুষটি এখনও বেঁচে আছে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
28 বার প্রদর্শিত
করেছেন (12,333 পয়েন্ট)   25 জুলাই "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
পর্ব ১২: যে মৃত মানুষটি এখনও বেঁচে আছে

ছবিটার দিকে তাকিয়ে মেহেদীর হাত কেঁপে উঠল।

হুইলচেয়ারে বসা বৃদ্ধের মুখ শুকিয়ে গেছে, গালের হাড় বেরিয়ে এসেছে, মাথার বেশির ভাগ চুল সাদা। কিন্তু চোখ দুটো...

সেই চোখ।

ভিডিওতে দেখা ড. আরিফ সালেহর চোখের সঙ্গে হুবহু মিল।

মারুফ ধীরে বললেন,

"তুই নিশ্চিত?"

মেহেদী ছবিটা জুম করল।

"নিশ্চিত হওয়ার আগে একটা জিনিস যাচাই করতে হবে।"

সে ভিডিও থেকে ড. আরিফের মুখের একটি ফ্রেম বের করল। তারপর ছবির বৃদ্ধের মুখের ওপর সেটি বসিয়ে তুলনা করতে লাগল।

সৌরভ বিস্ময়ে বলল,

"এটা তো প্রায় একই মানুষ!"

মেহেদী মাথা নাড়ল।

"প্রায় না..."

"...একই মানুষ।"

ঘরে আবার নীরবতা নেমে এল।

সরকারি নথি বলছে, মানুষটি আট বছর আগে মারা গেছে।

কিন্তু তিনি জীবিত।

---

মারুফ সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের তথ্য খুঁজতে শুরু করলেন।

ছবিটি তোলা হয়েছিল তিন দিন আগে।

ঢাকার একটি বেসরকারি নিউরোলজি হাসপাতালে।

কিন্তু হাসপাতালের রোগীর তালিকায় 'ড. আরিফ সালেহ' নামে কেউ ভর্তি নেই।

বরং হুইলচেয়ারে থাকা রোগীর নাম লেখা হয়েছে...

"মো. আজিজুর রহমান"

বয়স: ৭৪।

পেশা: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

মিতু ধীরে বলল,

"ভুয়া পরিচয়।"

---

পরদিন ভোরে মেহেদী, মারুফ, সৌরভ, শাহীনুর আর মিতু সাধারণ পোশাকে হাসপাতালে গেল।

রিসেপশনে মারুফ পরিচয় গোপন রেখে বললেন,

"আজিজুর রহমান সাহেবকে দেখতে এসেছি।"

রিসেপশনিস্ট কম্পিউটারে দেখে বলল,

"স্যার, উনাকে গতকাল রাতেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।"

"কে নিয়ে গেছে?"

"একজন ডাক্তার।"

"নাম?"

মেয়েটি স্ক্রিনে তাকিয়ে বলল,

"ড. রাশেদ কবির।"

মারুফের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।

---

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করতে বেশি সময় লাগল না।

ভিডিও চালু হতেই দেখা গেল...

রাত ১টা ১৭ মিনিট।

ড. রাশেদ একটি হুইলচেয়ার ঠেলে করিডোর দিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারে বসে আছেন সেই বৃদ্ধ।

কিন্তু ভিডিওর এক জায়গায় মেহেদী হঠাৎ বলল,

"থামাও!"

সৌরভ ভিডিও থামাল।

"আরও জুম কর।"

হুইলচেয়ারের ডান চাকার পাশে একটা ছোট কালো বাক্স লাগানো।

প্রথম দেখায় সাধারণ যন্ত্রাংশ মনে হয়।

মেহেদী বলল,

"এটা যন্ত্রাংশ না।"

"তাহলে?"

"GPS ট্রান্সমিটার।"

---

হঠাৎ মিতু আরেকটা বিষয় খেয়াল করল।

"এক মিনিট..."

সে বৃদ্ধের ডান হাতের দিকে আঙুল দেখাল।

হাতটা অস্বাভাবিকভাবে শক্ত।

আঙুলগুলো একটুও নড়ছে না।

মিতু বলল,

"এটা স্বাভাবিক পক্ষাঘাতের মতো না।"

মেহেদী জিজ্ঞেস করল,

"কেন?"

"কারণ মুখের পেশি সচল। কিন্তু হাতের পেশি পুরো শক্ত।"

সে কিছুক্ষণ ভেবে বলল,

"সম্ভবত ওনাকে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিউরোমাসকুলার ব্লকার দেওয়া হচ্ছে।"

মারুফ ধীরে বললেন,

"অর্থাৎ..."

"...তিনি হয়তো ইচ্ছা করলেও নড়তে পারছেন না।"

---

হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় একজন বয়স্ক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আস্তে করে মেহেদীর হাতে একটি কাগজ গুঁজে দিল।

"ওই ডাক্তার সাহেব রেখে গেছেন।"

"কোন ডাক্তার?"

লোকটি শুধু বলল,

"যিনি কাল রাতে এসেছিলেন।"

এরপর দ্রুত চলে গেল।

কাগজে একটি ঠিকানা।

ঢাকার বাইরে একটি পুরোনো ওষুধ কারখানা।

নিচে মাত্র একটি বাক্য।

> "যদি সত্য জানতে চাও, আজ রাতের আগে এসো।"

---

সন্ধ্যা নামতেই পুরো টিম কারখানার দিকে রওনা দিল।

কারখানাটি অন্তত পনেরো বছর ধরে বন্ধ।

ভাঙা চিমনি।

মরিচা ধরা গেট।

চারদিকে আগাছা।

কিন্তু ভেতরে ঢুকেই মেহেদী থেমে গেল।

মেঝেতে টাটকা টায়ারের দাগ।

"কেউ কয়েক ঘণ্টা আগেই এসেছে।"

---

ভেতরের একটি কক্ষে পৌঁছাতেই তারা দেখল, চারদিকে অসংখ্য কাঁচের জার।

প্রতিটিতে মানুষের মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক মডেল।

দেয়ালে ঝুলছে নিউরনের বিশাল চিত্র।

মাঝখানে একটি আধুনিক কম্পিউটার।

স্ক্রিন এখনও জ্বলছে।

স্ক্রিনে মাত্র একটি বাক্য।

> "স্বাগতম, মেহেদী।"

ঠিক তার নিচে আরেকটি লাইন নিজে থেকেই টাইপ হতে শুরু করল।

> "তুমি অবশেষে সেই জায়গায় এসেছ, যেখানে প্রজেক্ট নির্বাণের জন্ম।"

হঠাৎ ঘরের স্পিকার থেকে পরিচিত সেই বিকৃত কণ্ঠ ভেসে এল।

"তুমি এখনও ভাবছ, আমি খুনি।"

"এটাই তোমার সবচেয়ে বড় ভুল।"

মেহেদী শান্ত গলায় বলল,

"তাহলে তুমি কে?"

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর উত্তর এল।

> "আমি খুন থামানোর চেষ্টা করছি।"

ঘরে উপস্থিত সবাই একে অপরের দিকে তাকাল।

মারুফ পিস্তল শক্ত করে ধরলেন।

কণ্ঠটি আবার বলল,

> "যাদের তুমি খুনি ভাবছ, তারা আসল খেলোয়াড় নয়।"

> "আর যাদের তুমি ভুক্তভোগী ভাবছ..."

এক মুহূর্ত থেমে সে শেষ কথাটি বলল।

> "...তাদের কয়েকজন এখনও জীবিত।"

মেহেদীর বুকের ভেতর ধক করে উঠল।

প্রথম চারজন নিহত মানুষের কথা তার মাথায় ঘুরতে লাগল।

ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।

লাশও পাওয়া গিয়েছিল।

তবু...

যদি সত্যিই তাদের মধ্যে কেউ জীবিত থাকে, তাহলে এতদিন যাদের কবর দেওয়া হয়েছে... তারা আসলে কারা?

চলবে...
আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 611 টি লেখা ও 10 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 12333। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4366
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


কেস ২: স্মৃতি চোর পর্ব ২০: যে মানুষটি নিজের নাম ভুলে গেল কালোছায়া গ্রামের ঘটনায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি "পরিত্যক্ত গবেষণাগারের রহস্য" নামেই পরিচিত হয়েছে। পুলিশের অফিস[...] বিস্তারিত পড়ুন...
30 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৩৯: আগুন যে সত্য লুকিয়ে রেখেছিল সকালের প্রথম আলো জানালা দিয়ে ঢুকলেও থানার তদন্তকক্ষে কারও চোখে ঘুম নেই। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে পুরোনো ছবি, ফরেনসিক রিপোর্�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
35 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৩৮: যে জীবন কখনো ছিল না মেহেদী দীর্ঘক্ষণ পরিচয়পত্রটার দিকে তাকিয়ে রইল। ছবিটা তারই। অন্তত প্রথম দেখায় তাই মনে হয়। কিন্তু যত ভালো করে দেখছে, ততই ছোট ছোট পা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত পর্ব ১৮: যে স্কুলের অস্তিত্ব ছিল না রাত প্রায় এগারোটা। মেহেদী, সৌরভ, শাহীনুর আর মিতু কলেজের পুরোনো রেকর্ড রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মারুফও সঙ্গে এসেছেন। কারণ এখন বিষ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত পর্ব ১২: যে মানুষটিকে কেউ মনে রাখেনি মেহেদীর হাত থেকে ছবিটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। সে দ্রুত ছবিটা আবার চোখের সামনে তুলে ধরল। ড. আরিফ সালেহ। মাহির রহমান। আর মাঝখানে দাঁড়�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...