কেস ২: স্মৃতি চোর
পর্ব ৩১: মৃত মানুষের লগইন
ডাটা সেন্টারের অ্যালার্ম একটানা বেজেই চলেছে।
বিপ... বিপ... বিপ...
সার্ভারের সবুজ ও নীল আলো লাল হয়ে উঠেছে।
সৌরভ কীবোর্ডে দ্রুত হাত চালাচ্ছে।
তার কপালে ঘাম।
"ডাউনলোড স্পিড প্রতি সেকেন্ডে বাড়ছে!"
মারুফ বললেন,
"সংযোগ বিচ্ছিন্ন কর!"
"পারছি না!"
"কেন?"
"কারণ..."
সৌরভ গভীর শ্বাস নিল।
"...কেউ বাইরে থেকে ঢোকেনি।"
"ভেতরের মূল সার্ভার থেকেই ডেটা কপি হচ্ছে।"
---
মিতু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"USER LOGIN: M-17"
"কিন্তু এটা তো অসম্ভব।"
মেহেদী শান্ত গলায় বলল,
"অসম্ভব নয়।"
সবাই তার দিকে তাকাল।
"কেউ মারা গেলেই তার ডিজিটাল পরিচয় সঙ্গে সঙ্গে অকার্যকর হয়ে যায় না।"
"পাসওয়ার্ড, এনক্রিপশন কী, নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট বা আগেই তৈরি করা নির্দেশনা পরে চালু হতে পারে।"
"তাই শুধু 'M-17' লেখা দেখেই ধরে নেওয়া যাবে না যে মানুষটা বেঁচে আছে।"
মারুফ মাথা নাড়লেন।
"অর্থাৎ..."
"...এটা হতে পারে মৃত্যুর পর সক্রিয় হওয়ার জন্য রেখে যাওয়া পরিকল্পনা।"
---
ঠিক তখনই সব স্ক্রিন কালো হয়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ড পর একটি নতুন ভিডিও চালু হলো।
স্ক্রিনে আবার M-17।
কিন্তু এবার ভিডিওর নিচে লেখা,
AUTO RELEASE AFTER DEATH
মেহেদী ধীরে বলল,
"আমি ঠিকই ভেবেছিলাম।"
---
ভিডিওতে M-17 বলছে,
"যদি এই বার্তাটি চালু হয়ে থাকে..."
"...তাহলে আমার বায়োমেট্রিক সিগন্যাল আর সক্রিয় নেই।"
"অর্থাৎ আমি মারা গেছি।"
সে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
"আমি মৃত্যুর আগেই এই প্রোগ্রাম তৈরি করেছি।"
"আমার পরিচয় ব্যবহার করে সিস্টেমে লুকিয়ে থাকা তথ্য মুক্ত করার জন্য।"
---
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"মানে লোকটা নিজের মৃত্যুকেই ট্রিগার বানিয়েছে?"
মেহেদী উত্তর দিল,
"হ্যাঁ।"
"কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন 'ডেড ম্যান সুইচ' ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আগে থেকে প্রস্তুত করা কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয়।"
---
ভিডিওতে M-17 আবার বলতে শুরু করল,
"ASTER-এর সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রযুক্তি নয়।"
"তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র..."
"...মানুষের ভয়।"
"তারা অলৌকিক শক্তির গল্প ছড়ায়।"
"তারপর বিজ্ঞানের সাহায্যে সেই গল্পকে সত্যি বলে বিশ্বাস করায়।"
মেহেদীর চোখে যেন আগুন জ্বলে উঠল।
সে ফিসফিস করে বলল,
"এটাই তো..."
"...প্রথম কেস থেকে আমরা দেখছি।"
---
ঠিক তখনই সার্ভারের একটি অংশ খুলে গেল।
একটি নতুন ফোল্ডার তৈরি হলো।
CASE ARCHIVE
ভেতরে অসংখ্য ফাইল।
প্রতিটি ফাইলের নাম সংখ্যা দিয়ে লেখা।
০০১...
০০২...
০০৩...
এভাবে চলতে চলতে...
০১২।
সৌরভ বিস্ময়ে বলল,
"বারোটা ফাইল!"
মেহেদী ধীরে বলল,
"মানে..."
"...ASTER-এর মোট বারোটি বড় প্রকল্প ছিল।"
---
সে প্রথম ফাইল খুলতে গেল।
কিন্তু স্ক্রিনে একটি সতর্কবার্তা ভেসে উঠল।
> একবার খুললে ফাইলটি স্থায়ীভাবে মুছে যাবে।
মিতু বলল,
"এটা আবার কেমন ব্যবস্থা?"
মেহেদী কয়েক মুহূর্ত ভেবে উত্তর দিল,
"যাতে তথ্য একাধিকবার কপি করা না যায়।"
"অর্থাৎ..."
"...আমাদের প্রতিটি ফাইল পড়ার একটাই সুযোগ।"
---
মারুফ বললেন,
"সব কপি করে রাখ।"
সৌরভ চেষ্টা করল।
ব্যর্থ।
স্ক্রিনে লেখা এল,
> Copy Function Disabled
---
হঠাৎ পুরো ঘরের আলো কয়েকবার টিমটিম করে উঠল।
তারপর ডাটা সেন্টারের ডিজিটাল মুখ আবার দেখা দিল।
সে আগের চেয়ে অনেক শান্ত।
"অভিনন্দন, মেহেদী।"
"তুমি M-17-এর শেষ পরিকল্পনা সক্রিয় করেছ।"
মেহেদী ঠান্ডা গলায় বলল,
"তুমি এটা থামাচ্ছ না কেন?"
ডিজিটাল মুখ উত্তর দিল,
"কারণ আমি শিখছি।"
"মানুষ তথ্য পেলে কী সিদ্ধান্ত নেয়..."
"...সেটাও আমার পরীক্ষার অংশ।"
---
ঠিক তখনই ডাটা সেন্টারের ভেতর থেকে ধাতব দরজা খুলে যাওয়ার শব্দ শোনা গেল।
একটি অন্ধকার করিডোর।
দেয়ালের ওপর বড় অক্ষরে লেখা।
> PROJECT 001
মেহেদী ধীরে ধীরে সেই করিডোরের দিকে এগিয়ে গেল।
তার মুখে দৃঢ়তা।
সে জানে...
এখন থেকে প্রতিটি "প্রজেক্ট" আসলে একটি নতুন রহস্য।
আর সেই রহস্যগুলিই ধীরে ধীরে উন্মোচন করবে ASTER-এর পুরো ইতিহাস।
কিন্তু করিডোরে পা রাখার আগমুহূর্তে তার চোখ পড়ল দেয়ালের একটি ছবিতে।
সেখানে বারোজন বিজ্ঞানীর দলগত ছবি।
এগারোজনের মুখ দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু...
দ্বাদশ ব্যক্তির মুখটি ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে।
ছবির নিচে মাত্র একটি বাক্য লেখা।
> "যে মানুষটির মুখ তুমি দেখতে পাচ্ছ না... তিনিই সবকিছুর শুরু।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।