কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ২৬: নতুন রহস্যের শুরু
স্ক্রিনের আলো ধীরে ধীরে নিভে গেল।
শুধু শেষ শব্দগুলো এখনো মেহেদীর মাথায় ঘুরছে।
NEXUS: CASE FILE 02 ACTIVATED
আর নিচে লেখা নাম...
তান্ত্রিক অঘোরী রুদ্র।
---
মারুফ কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন,
"অঘোরী রুদ্র..."
"এই নামটা আমি আগে শুনেছি।"
মেহেদী তাকাল।
"কোথায়?"
মারুফ বললেন,
"প্রায় দশ বছর আগে।"
"কিছু অদ্ভুত ঘটনার তদন্তে এই নাম এসেছিল।"
"কিন্তু কোনো প্রমাণ না থাকায় কেস বন্ধ হয়ে যায়।"
---
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"তাহলে সে কি সত্যিই তান্ত্রিক?"
মেহেদী হালকা হাসল।
"তান্ত্রিক, জাদুকর, অলৌকিক..."
"এই শব্দগুলো আগে প্রমাণ করতে হয়।"
"অনেক সময় মানুষ যেটাকে জাদু ভাবে, সেটার পেছনে থাকে বিজ্ঞান।"
---
মিতু কম্পিউটারের ডেটা পরীক্ষা করছিল।
হঠাৎ সে বলল,
"এখানে অঘোরী রুদ্র সম্পর্কে কিছু তথ্য আছে।"
সবাই তার চারপাশে জড়ো হলো।
স্ক্রিনে একটি ফাইল।
RUDRA ANALYSIS
---
মিতু পড়তে শুরু করল।
"আসল নাম অজানা।"
"বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০।"
"পরিচিতি: তান্ত্রিক গুরু।"
"বিশেষত্ব: মানুষকে বিশ্বাস করানো যে সে মৃত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।"
---
শাহীনুর অবাক হয়ে বলল,
"মৃত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ?"
"এটা তো অসম্ভব।"
মেহেদী বলল,
"অসম্ভব আর অপ্রমাণিত এক জিনিস না।"
"তবে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে মৃত মানুষের সঙ্গে বাস্তব যোগাযোগের কোনো প্রমাণ নেই।"
---
মিতু পরের লাইন পড়ল।
তারপর হঠাৎ থেমে গেল।
"এটা দেখো।"
স্ক্রিনে লেখা:
> Last Known Location: Chandrapur Village
---
মারুফের মুখ বদলে গেল।
"চন্দ্রপুর?"
"কী হয়েছে?"
"এই গ্রামের কথাই তো গত সপ্তাহে খবরের মধ্যে এসেছিল।"
---
সৌরভ বলল,
"কী খবর?"
মারুফ ধীরে উত্তর দিলেন,
"সেখানে গত এক মাসে পাঁচজন মানুষ মারা গেছে।"
"শরীরে কোনো স্বাভাবিক আঘাত নেই।"
"কিন্তু মৃত্যুর আগে সবাই একই কথা বলেছিল।"
---
মেহেদী জিজ্ঞেস করল,
"কী কথা?"
মারুফ বললেন,
"তারা বলেছিল..."
"...তারা তাদের মৃত আত্মীয়দের দেখেছে।"
---
ঘরের পরিবেশ আবার ভারী হয়ে গেল।
---
মেহেদী ফাইলটা নিল।
"মৃত মানুষ দেখা..."
"তারপর মৃত্যু।"
"এটা কাকতালীয় হতে পারে।"
"কিন্তু পাঁচজন একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছে..."
"...এটা তদন্তের বিষয়।"
---
পরদিন সকাল।
মেহেদী, সৌরভ, শাহীনুর, মিতু এবং মারুফ চন্দ্রপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
গ্রামে ঢোকার আগেই তারা অদ্ভুত একটা জিনিস লক্ষ্য করল।
রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট লাল পতাকা।
প্রতিটি পতাকায় আঁকা...
তিনটি বৃত্ত।
মাঝখানে একটি চোখ।
---
মেহেদী গাড়ি থামাল।
সে ধীরে নামল।
"আবার সেই প্রতীক।"
মারুফ বললেন,
"NEXUS কি তাহলে অঘোরী রুদ্রের সঙ্গে যুক্ত?"
মেহেদী উত্তর দিল,
"হয়তো।"
"অথবা..."
"কেউ ইচ্ছা করে আমাদের এমনটা ভাবাতে চাইছে।"
---
গ্রামের মাঝখানে একটি বিশাল পুরোনো বাড়ি।
লোকজন বলল,
এটাই অঘোরী রুদ্রের আশ্রম।
চারপাশে মানুষ ভিড় করেছে।
কেউ অসুস্থ।
কেউ ভীত।
কেউ মৃত আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলতে এসেছে।
---
একজন বৃদ্ধ মেহেদীর কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,
"আপনারা দেরি করে ফেলেছেন।"
মেহেদী তাকাল।
"কেন?"
বৃদ্ধ কাঁপা গলায় বলল,
"আজ রাতে অঘোরী রুদ্র আরেকজনকে মৃত মানুষের সঙ্গে দেখা করাবে।"
---
মিতু জিজ্ঞেস করল,
"তারপর?"
বৃদ্ধের চোখ ভয়ে বড় হয়ে গেল।
"তারপর..."
"সেই মানুষটাও মারা যাবে।"
---
ঠিক তখনই আশ্রমের ভেতর থেকে ঘণ্টার শব্দ ভেসে এল।
সবাই চুপ হয়ে গেল।
কালো পোশাক পরা কয়েকজন শিষ্য দরজা খুলল।
ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে লাগল।
আর ধোঁয়ার মধ্যে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল একজন মানুষ।
লম্বা চুল।
কপালে ছাই।
চোখে অদ্ভুত স্থিরতা।
সে মেহেদীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
তারপর বলল,
"অবশেষে..."
"তুমি এসেছ, M-7।"
---
মেহেদীর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
কারণ অঘোরী রুদ্রের জানার কথা নয়...
M-7 নামটি।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।