পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬৬: A-0
রাত ১টা ১৫।
জাতীয় আর্কাইভ ভবনের চারপাশ নীরবে ঘিরে ফেলেছে পুলিশ।
কোনো সাইরেন নেই।
কোনো হইচই নেই।
মেহেদীর নির্দেশ পরিষ্কার।
"কামরান যদি ভেতরে থাকে, তাহলে সে আমাদের আসার খবর আগে থেকেই জানবে।"
---
ভবনের পরিচালক কাঁপা হাতে প্রধান দরজার তালা খুললেন।
তিনি নিচু গলায় বললেন,
"পঁচিশ বছর ধরে এখানে চাকরি করছি।"
"কিন্তু A-0 নামে কোনো কক্ষের কথা কখনো শুনিনি।"
---
মিতু কাঁচের শিশির ওপর খোদাই করা মানচিত্রটি আবার স্ক্যান করল।
সে ভবনের আসল নকশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে।
কিছুক্ষণ পর সে থেমে গেল।
"পেয়েছি!"
---
মেহেদী এগিয়ে এল।
"কোথায়?"
---
"এখানে একটা অমিল আছে।"
সে নকশার একটি দেয়ালে আঙুল রাখল।
"সরকারি নকশায় এই দেয়ালটির পুরুত্ব দেড় ফুট।"
"কিন্তু বাস্তবে..."
"...এটা প্রায় চার ফুট।"
---
মারুফ বললেন,
"মানে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা আছে?"
---
"ঠিক তাই।"
---
পুলিশ দেয়ালটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করল।
ফলাফল স্পষ্ট।
দেয়ালের ওপাশে একটি ফাঁপা কক্ষ।
---
কিন্তু কোনো দরজা নেই।
কোনো সুইচও নেই।
---
মেহেদী দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে রইল।
তার মনে পড়ল R-9-এর দরজার কথা।
সেখানেও কোনো দরজা চোখে পড়েনি।
---
সে চারপাশে তাকাতে লাগল।
দেয়ালের পাশে একটি পুরোনো ঘড়ি।
১৯৪৮ সালের তৈরি।
বহু বছর ধরে বন্ধ।
---
মেহেদী ঘড়িটি খুলে দেখল।
পেছনে ছোট্ট একটি লিভার।
লিভারটি নামাতেই...
ঘড়ররর...
দেয়ালটি ধীরে ধীরে সরে গেল।
---
সামনে অন্ধকার একটি সরু সিঁড়ি।
নিচে নেমে গেছে।
---
মারুফ অস্ত্র তুলে বললেন,
"সাবধানে।"
---
সবাই নিচে নামল।
প্রায় ত্রিশ ধাপ পরে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষে পৌঁছাল তারা।
ঘরটি ধুলোয় ঢাকা।
কিন্তু মাঝখানে একটি অংশ একেবারে পরিষ্কার।
মনে হচ্ছে...
সম্প্রতি কেউ এখানে ছিল।
---
সেখানে একটি লোহার টেবিল।
টেবিলের ওপর রাখা টাইটেনিয়ামের কন্টেইনার।
সেই কন্টেইনার...
যেটি থানা থেকে চুরি হয়েছিল।
---
সৌরভ আনন্দে বলে উঠল,
"আমরা পেয়ে গেছি!"
---
মেহেদী সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে সবাইকে থামাল।
"কেউ ছুঁবে না।"
---
ঠিক তখনই স্পিকারে কামরানের কণ্ঠ ভেসে এল।
"ভালো, মেহেদী।"
"তুমি আগের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্যশীল হয়েছ।"
---
মেহেদী শান্ত গলায় বলল,
"তুমি জানতেই আমরা এখানে আসব।"
---
"অবশ্যই।"
"কারণ A-0 কোনো লুকানোর জায়গা নয়।"
"এটা ছিল..."
"...তোমাদের জন্য রেখে যাওয়া একটি পরীক্ষা।"
---
মিতু কন্টেইনারটি স্ক্যান করল।
তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
"মেহেদী..."
"এটার ভর ঠিক নেই।"
---
"মানে?"
---
"ফাইল অনুযায়ী কন্টেইনারের ওজন হওয়ার কথা ১২.৮ কেজি।"
"এখন..."
"...এটা মাত্র ৭.১ কেজি।"
---
ঘরের সবাই থমকে গেল।
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"অর্থাৎ..."
---
মেহেদী বাকিটা বলল।
"ভেতরের জিনিস আগেই বের করে নেওয়া হয়েছে।"
---
স্পিকারে আবার কামরানের কণ্ঠ শোনা গেল।
"অবশেষে বুঝতে পারলে।"
"তোমরা যা উদ্ধার করেছ..."
"...সেটা শুধু একটি খালি খোলস।"
---
হঠাৎ টেবিলের পাশে একটি ছোট মনিটর জ্বলে উঠল।
সেখানে লাইভ ভিডিও।
একটি অজানা কক্ষ।
সাদা দেয়াল।
উজ্জ্বল আলো।
মাঝখানে একটি চেয়ারে বসে আছেন...
ড. নাদিয়া রহমান।
তার হাত বাঁধা নয়।
তিনি শান্তভাবে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন।
তারপর ধীরে বললেন,
"মেহেদী..."
"এবার আর আমার কথা শুনবে না।"
"কামরান ঠিক এটাই চায়।"
ভিডিও হঠাৎ কেটে গেল।
তার জায়গায় একটি মাত্র বাক্য ভেসে উঠল।
«"Phase Two has already begun."»
মেহেদী বুঝতে পারল...
তারা আবারও এক ধাপ পিছিয়ে পড়েছে।
কামরানের আসল পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
আর এখন...
শুধু তাকে ধরা নয়,
সময়ের সঙ্গেও লড়াই করতে হবে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।