পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬৮: শেষ সমীকরণ
ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় মেহেদীর মুখে অদ্ভুত শান্তভাব।
মারুফ বুঝতে পারছিলেন, সে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
গাড়িতে ওঠার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
"কী ভাবছ?"
মেহেদী জানালার বাইরে তাকিয়েই উত্তর দিল,
"আমরা এতক্ষণ ভুল প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলাম।"
---
মিতু অবাক হয়ে বলল,
"ভুল প্রশ্ন?"
---
"হ্যাঁ।"
"আমরা ভাবছিলাম, কামরান কী চুরি করেছে।"
"আসলে প্রশ্ন হওয়া উচিত..."
"...সে কী ফিরিয়ে দিয়েছে।"
---
সবাই চুপ হয়ে গেল।
এই কথার অর্থ কেউই বুঝতে পারল না।
---
থানায় ফিরে মেহেদী আবার সেই টাইটেনিয়ামের কন্টেইনারটি পরীক্ষা করতে বলল।
রাশেদ বিস্মিত হয়ে বলল,
"স্যার, এটা তো খালি।"
---
"খালি কিনা, সেটা আমি জানতে চাইনি।"
"আমি জানতে চাই..."
"...এটা বানানো হয়েছে কী দিয়ে।"
---
কন্টেইনারটি এক্স-রে, লেজার এবং ধাতব বিশ্লেষক দিয়ে পরীক্ষা করা হলো।
এক ঘণ্টা পর রিপোর্ট এল।
রাশেদের কণ্ঠ কাঁপছে।
"এটা সাধারণ টাইটেনিয়াম নয়।"
---
"তাহলে?"
---
"এর ভেতরের দেয়ালে একটি অতিসূক্ষ্ম স্তর আছে।"
"যেটা চোখে দেখা যায় না।"
---
মিতু রিপোর্ট হাতে নিয়ে বলল,
"এটা ন্যানো-স্তরের মেমরি ফিল্ম।"
---
মারুফ ভ্রু কুঁচকে বললেন,
"মানে?"
---
মিতু ব্যাখ্যা করল,
"কিছু বিশেষ পদার্থ আশপাশে রাখা তথ্য, তাপ, বিকিরণ বা রাসায়নিক চিহ্নের ক্ষুদ্র ছাপ ধরে রাখতে পারে।"
"এটি সরাসরি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ নয়, কিন্তু দীর্ঘদিন ভেতরে রাখা বস্তুর সূক্ষ্ম ভৌত চিহ্ন সংরক্ষণ করতে পারে।"
---
মেহেদী আস্তে বলল,
"তাহলে কামরান ভেতরের বস্তু নেওয়ার জন্য কন্টেইনার চুরি করেনি।"
---
"তাহলে?"
---
"সে জানত..."
"...কন্টেইনারের গায়েই অতীতের কিছু চিহ্ন রয়ে গেছে।"
---
ঠিক তখনই ফরেনসিক ল্যাবের আরেকটি কম্পিউটারে একটি নতুন বার্তা ভেসে উঠল।
কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই।
তবুও স্ক্রিনে লেখা উঠছে।
«"ভালো।"»
«"তুমি অবশেষে কন্টেইনারের আসল উদ্দেশ্য বুঝেছ।"»
---
মিতু চমকে উঠল।
"এটা কীভাবে সম্ভব?"
---
মেহেদী কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে বলল,
"এটা হ্যাকিং নয়।"
---
"তাহলে?"
---
"এই বার্তাটা আগে থেকেই সিস্টেমে লুকিয়ে রাখা ছিল।"
"নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি দেখা যেত না।"
---
স্ক্রিনে নতুন লেখা ভেসে উঠল।
«"যদি তুমি এতদূর পৌঁছাও..."»
«"...তাহলে তুমি আমার যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী।"»
তারপর ধীরে ধীরে একটি ছবি ফুটে উঠল।
ছবিতে একটি ছোট ছেলে।
বয়স দশ বা এগারো।
তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ড. আরিফ সালেহ।
ছবির পেছনে হাতে লেখা একটি লাইন।
«"প্রথম দিন। Subject-17."»
---
ঘরের সবাই একসঙ্গে মেহেদীর দিকে তাকাল।
মেহেদীর চোখ স্থির হয়ে গেল।
সে ছবিটির দিকে এগিয়ে গেল।
ছেলেটির মুখ ঝাপসা।
কিন্তু গলায় ঝুলছে একটি ছোট লকেট।
ঠিক একই ধরনের লকেট...
যেটি মেহেদী ছোটবেলা থেকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে।
সে ধীরে নিজের গলার লকেটটি খুলে ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখল।
একই নকশা।
একই আঁচড়।
একই ভাঙা কোণা।
তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
"এটা..."
"...অসম্ভব।"
ঠিক তখনই স্ক্রিনে শেষ লাইনটি ভেসে উঠল।
«"এবার নিজের অতীতের তদন্ত শুরু করো, মেহেদী।"»
«"কারণ Project Mirror-এর সবচেয়ে বড় রহস্য কোনো ফাইলে নেই।"»
«"সেটা তোমার ভেতরেই লুকিয়ে আছে।"»
ঘরের নীরবতা আরও গভীর হয়ে গেল।
এতদিন মেহেদী একজন অপরাধীকে খুঁজছিল।
এখন প্রথমবার...
তাকে নিজের হারিয়ে যাওয়া অতীতের মুখোমুখি হতে হবে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।