কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ১৬: আয়নার ওপারে
বৃষ্টির ফোঁটা ধীরে ধীরে আয়নার ওপর পড়ছে।
মেহেদী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তার হাতের আঙুল কাঁপছে না, কিন্তু চোখের ভেতরে স্পষ্ট বিস্ময়।
আয়নার পেছনে খোদাই করা নামটি সে আবার পড়ল।
"মেহেদী হাসান"।
এক অক্ষরও ভুল নেই।
ঠিক তার নিজের নাম।
---
সৌরভ অবিশ্বাসের সুরে বলল,
"এটা... এটা কীভাবে সম্ভব?"
শাহীনুর ধীরে বলল,
"তোর পুরো নাম তো খুব কম মানুষই জানে।"
মারুফ আয়নাটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন।
"এটা নতুন খোদাই করা না।"
"অনেক বছরের পুরোনো দাগ।"
মিতু আতশ কাচ দিয়ে খোদাইয়ের অংশ দেখল।
"ধাতুর ক্ষয় দেখে মনে হচ্ছে অন্তত দশ-বারো বছর আগের।"
ঘরে আবার নীরবতা।
---
মেহেদী এবার শান্ত গলায় বলল,
"না।"
"আমি আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেব না।"
"প্রথম প্রশ্ন..."
"...এই আয়নাটা আসলেই পুরোনো কি না।"
সে ব্যাগ থেকে একটি অতিবেগুনি আলো বের করে আয়নার গায়ে ফেলল।
সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি লেখা ভেসে উঠল।
যেটা সাধারণ আলোতে দেখা যাচ্ছিল না।
> PROPERTY OF LAB-7
মারুফ বিস্মিত হয়ে বললেন,
"অদৃশ্য কালি..."
মিতু বলল,
"ফ্লুরোসেন্ট নিরাপত্তা কালি। গবেষণাগারে অনেক সময় যন্ত্রপাতি চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হতো।"
---
মেহেদী আয়নাটা টেবিলে রেখে বলল,
"এর মানে একটা জিনিস।"
"কী?"
"এই আয়নাটা সত্যিই কোনো গবেষণাগারের সম্পত্তি ছিল।"
"কিন্তু..."
"...তাতে আমার নাম কেন?"
---
ঠিক তখনই মিতুর ল্যাপটপে আরেকটি ফাইল খুলে গেল।
মাইক্রো এসডি কার্ডের ভেতরে একটি এনক্রিপ্টেড ডিরেক্টরি এতক্ষণ লুকানো ছিল।
নাম...
SUBJECT_LIST
পাসওয়ার্ড চাইছে।
---
সৌরভ বলল,
"পাসওয়ার্ড জানব কীভাবে?"
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড ভাবল।
তারপর লিখল...
1840
সবাই তার দিকে তাকাল।
"এই সংখ্যাই তো বারবার আসছে।"
এন্টার চাপতেই...
Wrong Password.
---
সে আবার লিখল...
LAB7
আবার ভুল।
---
হঠাৎ তার মনে পড়ল বৃদ্ধ রফিকুলের শেষ কথা।
> "LAB-7 কোনো জায়গা নয়..."
সে এবার লিখল...
M7
স্ক্রিন এক সেকেন্ডের জন্য স্থির রইল।
তারপর...
ফোল্ডার খুলে গেল।
---
ভেতরে সাতটি ফাইল।
M-1
M-2
M-3
M-4
M-5
M-6
আর...
M-7
মেহেদীর বুক ধকধক করতে লাগল।
সে M-7 ফাইলটি খুলল।
কিন্তু ভেতরে কোনো ছবি নেই।
কোনো নাম নেই।
শুধু একটি মেডিকেল রিপোর্ট।
---
রিপোর্টের প্রথম লাইন।
> Subject Age: 8 Years
দ্বিতীয় লাইন।
> Cognitive Response: Exceptional
তৃতীয় লাইন।
> Pattern Recognition Score: 99.2%
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"আট বছরের একটা বাচ্চার রিপোর্ট?"
মিতু বলল,
"এটা কোনো বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার অংশ মনে হচ্ছে।"
---
মেহেদী দ্রুত নিচে স্ক্রল করল।
শেষ পাতায় পৌঁছে তার চোখ স্থির হয়ে গেল।
সেখানে লেখা।
> Guardian Name: [REDACTED]
> Child Name: Meh....
বাকি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা।
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"এটা কাকতালীয়ও হতে পারে।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হতে পারে।"
"বাংলাদেশে মেহেদী নামে অনেক মানুষ আছে।"
"এই মুহূর্তে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই যে এটা আমিই।"
তার যুক্তিপূর্ণ উত্তর শুনে মিতু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
---
ঠিক তখনই গবেষণাকক্ষের এক কোণে রাখা পুরোনো প্রিন্টার নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।
ঘরররর...
একটি কাগজ ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল।
কেউ প্রিন্ট কমান্ড দেয়নি।
মারুফ বন্দুক তাক করলেন।
মেহেদী কাগজটা তুলে নিল।
সেখানে মাত্র একটি বাক্য।
> "যদি জানতে চাও Subject M-7 কে... তাহলে তোমার জন্ম সনদ নিয়ে এসো।"
নিচে লাল কালিতে আঁকা ছিল সেই পরিচিত প্রতীক।
তিনটি সমকেন্দ্রিক বৃত্ত।
মাঝখানে একটি চোখ।
NEXUS.
---
মেহেদী অনেকক্ষণ কাগজটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে সেটি ভাঁজ করে পকেটে রাখল।
সে জানে...
একজন তদন্তকারী হিসেবে কোনো প্রমাণ ছাড়া নিজের সঙ্গে এই রহস্যকে যুক্ত করা বিপজ্জনক।
কিন্তু একই সঙ্গে সে এটাও বুঝল...
খুনি এখন আর শুধু কেস নিয়ে খেলছে না।
সে সরাসরি মেহেদীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আর ঠিক সেই সময় মারুফের ফোন বেজে উঠল।
ওপাশ থেকে থানার এক অফিসার আতঙ্কিত গলায় বলল,
"স্যার!"
"আমরা ASTER-এর পুরোনো আর্কাইভে ঢুকেছি..."
"তারপর?"
"...একটা জন্মনিবন্ধনের ফাইল পেয়েছি।"
"কার?"
ওপাশের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
"...মেহেদী হাসান নামে।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।