কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ২১: ECHO প্রোটোকল
লাল আলো পুরো গবেষণাকক্ষকে রক্তিম করে তুলেছে।
দেয়ালের ভেতর থেকে মৃদু যান্ত্রিক শব্দ আসছে।
যেন বহু বছর ঘুমিয়ে থাকা কোনো বিশাল যন্ত্র আবার জেগে উঠেছে।
মেহেদী চারদিকে তাকাল।
"এটা বন্ধ করার উপায় কী?"
মাহির কিছুক্ষণ চুপ রইলেন।
তারপর বললেন,
"আছে।"
"কিন্তু..."
তিনি থেমে গেলেন।
মারুফ কঠিন গলায় বললেন,
"কিন্তু কী?"
মাহির নিচু স্বরে বললেন,
"এটা বন্ধ করতে হলে মূল সার্ভারে যেতে হবে।"
"আর মূল সার্ভার আছে..."
তিনি মেহেদীর দিকে তাকালেন।
"...পুরোনো LAB-7 ইউনিটে।"
---
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"কিন্তু LAB-7 তো কোনো জায়গা না।"
মাহির মাথা নাড়লেন।
"আমি সেটাই সবাইকে বিশ্বাস করিয়েছিলাম।"
"কারণ আসল জায়গাটা লুকিয়ে রাখতে হতো।"
মেহেদী বলল,
"তাহলে LAB-7 আসলে কী?"
মাহির উত্তর দিলেন,
"একটি ভূগর্ভস্থ গবেষণা কেন্দ্র।"
"এই কলেজের নিচে।"
---
কথাটা শুনে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল।
যে কলেজে তারা প্রতিদিন ক্লাস করে...
তার নিচেই লুকিয়ে আছে বিশ বছরের পুরোনো একটি গোপন গবেষণাগার।
---
মারুফ রাগের সঙ্গে বললেন,
"তুমি জানতেও আমাদের কিছু বলোনি?"
মাহির শান্তভাবে বললেন,
"কারণ আমি জানতাম না কাকে বিশ্বাস করব।"
"NEXUS-এর লোকেরা শুধু বাইরে নেই।"
"তারা প্রশাসনের ভেতরেও আছে।"
---
মেহেদী বলল,
"আর সেই কারণেই আপনি এত বছর লুকিয়ে ছিলেন?"
মাহির মাথা নাড়লেন।
"হ্যাঁ।"
"আমি ECHO বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম।"
"কিন্তু একা পারিনি।"
---
ঠিক তখনই মিতু কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।"
"কেন?"
"ECHO সিস্টেম সক্রিয় হওয়ার পর প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।"
"কোন ধাপ?"
"Memory Sync."
---
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
সেখানে শহরের একটি মানচিত্র।
শত শত ছোট ছোট বিন্দু জ্বলছে।
মিতু বলল,
"এগুলো কী?"
মাহিরের মুখ কঠিন হয়ে গেল।
"মানুষ।"
"যাদের ওপর ECHO পরীক্ষার প্রভাব পড়বে।"
---
শাহীনুর ভয় পেয়ে বলল,
"মানে পুরো শহরের মানুষ?"
মাহির মাথা নাড়লেন।
"হ্যাঁ।"
"তবে এটা সিনেমার মতো মুহূর্তের মধ্যে স্মৃতি বদলে দেবে না।"
"মানুষের মস্তিষ্ক এত সহজ নয়।"
"এটা ধীরে ধীরে কাজ করবে।"
---
মেহেদী বলল,
"কীভাবে?"
মাহির উত্তর দিলেন,
"মানুষের ভয়, সন্দেহ আর ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।"
"যাদের স্মৃতি দুর্বলভাবে সংরক্ষিত..."
"তাদের মনে নতুন ব্যাখ্যা তৈরি হবে।"
---
মেহেদী বুঝতে পারল।
এটাই ছিল NEXUS-এর আসল পরিকল্পনা।
তারা মানুষকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে না।
তারা শুধু এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে...
যেখানে মানুষ নিজেরাই ভুল সিদ্ধান্ত নেবে।
---
হঠাৎ ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
ঠাস!
সবাই চমকে উঠল।
মারুফ দরজা খুলতে চেষ্টা করলেন।
কাজ হলো না।
কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি নতুন বার্তা ভেসে উঠল।
> UNAUTHORIZED ACCESS DETECTED
> WELCOME BACK, SUBJECT M-7
---
মেহেদী স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
"আমাকে স্বাগত জানাচ্ছে..."
মাহির ধীরে বললেন,
"কারণ সিস্টেম তোমাকে চিনেছে।"
"তুমি এই প্রোগ্রামের অংশ ছিলে।"
---
হঠাৎ ঘরের আলো নিভে গেল।
অন্ধকারের মধ্যে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
"মেহেদী..."
সবাই থেমে গেল।
কণ্ঠটি পরিচিত।
কিন্তু এবার সেটা কোনো রেকর্ডিং নয়।
জীবন্ত।
---
আলো জ্বলে উঠতেই দেখা গেল...
দরজার ওপাশে একজন দাঁড়িয়ে আছে।
কালো পোশাক।
শান্ত মুখ।
সে ধীরে ধীরে বলল,
"মাহির, তুমি আবারও একই ভুল করছ।"
মাহিরের মুখ বদলে গেল।
"না..."
"তুমি এখানে কীভাবে?"
---
লোকটি মেহেদীর দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
"তুমি আমাকে খুঁজছিলে।"
"কিন্তু তুমি জানো না..."
"তোমাকে খুঁজতে গিয়ে তুমি আসলে নিজের কাছেই পৌঁছে গেছ।"
---
মেহেদী কঠিন গলায় বলল,
"তুমি কে?"
লোকটি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
"আমি সেই মানুষ..."
"যে তোমার প্রথম স্মৃতি তৈরি করেছিল।"
---
মাহির চিৎকার করে উঠলেন,
"অসম্ভব!"
লোকটি হালকা হাসল।
"কেন অসম্ভব?"
"তুমি তো জানো..."
"ড. আরিফ একা এই গবেষণা করেনি।"
---
তারপর সে মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলল,
"তোমার সত্য জানার অধিকার আছে।"
"কারণ..."
সে পকেট থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করল।
ছবিতে ছোট মেহেদী।
তার পাশে আরেকজন শিশু।
দুজনের হাতেই একই আয়না।
---
লোকটি বলল,
"Subject M-7 একা ছিল না।"
"আর তুমি..."
"...ছিলে দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা।"
মেহেদীর চোখ বড় হয়ে গেল।
"দ্বিতীয় পর্যায়?"
লোকটি ধীরে বলল,
"হ্যাঁ।"
"কারণ প্রথম M-7..."
"...ব্যর্থ হয়েছিল।"
---
মেহেদী ছবির অন্য শিশুটির দিকে তাকাল।
তারপর লোকটি শেষ কথাটি বলল—
"ওই শিশুটির নামও ছিল..."
"...মেহেদী হাসান।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।