মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প | ১৩-১১-২০২৫
অভিক আজ বাসায় একা। সারা দিন ঘুমে কেটেছে। সন্ধ্যায় কিছুই ভালো লাগছিল না। হঠাৎ বুঝল—পেটে খিদে। কী করবে, কিছু বুঝতে পারছে না।
একবার ভাবল, নিজে কিছু রাঁধবে। কিন্তু শরীরটা যেন বলছে, “না।” তাই ঠিক করল—নিচে নেমে কিছু কিনে আনবে।
বাসার নিচে নামতেই চোখে পড়ল দোকান। জিলাপি ভাজছে। গরম, টাটকা। একটা কাগজের ঠোঙ্গায় কয়েকটা নিয়ে ফিরল। কম্পিউটার খুলে বসল কাজে। গরম জিলাপি মুখে দিতে দিতে কাজ করতে খারাপ লাগছিল না।
খাওয়া শেষ। হাত ধুয়ে এসে দেখল—ঠোঙ্গাটায় গোটা গোটা হাতের লেখা। চিঠির মতো।
ভালো করে দেখল। কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকাকে লিখেছে।
লেখার ধরন দেখে মনে হল—অভিজ্ঞ হাত। প্রচণ্ড আবেগ, একরাশ অভিমান।
পরিপাটি লেখা। পুরোটা পড়া গেল। মিষ্টি রসে মাখা ঠোঙ্গাটা রেখে দিল অভিক।
কাজ শেষ। ঠোঙ্গা খুলল যত্নে। একটা চিঠি। যা কোনোদিন প্রকাশিত হবে না। অপ্রকাশিত প্রেমের সাক্ষী।
চিঠিটা ঠিক যেমন লেখা ছিল, তেমনই তুলে ধরল অভিক—
“পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা বাইরে রাগ দেখিয়ে ভেতরের কোমল মানুষটাকে লুকিয়ে রাখে।
বাইরে সাহস দেখিয়ে ভীতু মনটাকে আড়াল করে।
একাকীত্ব থেকে বাঁচতে চায়, প্রেমের কষ্ট থেকে পালাতে চায়।
নিশি তাদের একজন।
একজ মানুষ অন্যের সামনে অভিনয় করতে পারে, কিন্তু নিজের সঙ্গে অভিনয় করা খুব কঠিন।
নিশি প্রতিদিন নিজের সঙ্গে অভিনয় করে বেঁচে থাকে।
হয়তো কোনো বিশেষ কারণে পুরুষ মানুষের প্রতি তার সীমাহীন রাগ।
তাই হেয় করে, ছোট করে—সীমাহীন আনন্দ পায়।
নিশি জানে—একজনের দোষে সবাইকে দোষ দেওয়া যায় না।
এই বোধ আছে তার। শুধু উপলব্ধির অপেক্ষা।
হয়তো একদিন সেই দিন আসবে—
যেদিন ভেতরের সহজ-সরল নিশি
বাইরের রাগী, অভিমানী খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসবে।
আর সেদিন জন্ম হবে নতুন এক নিশির।”
চিঠি পড়া শেষ। অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। কম্পিউটারের যুগে এমন আবেগমাখা চিঠি! ধারণার বাইরে।
কাগজের অবস্থা বলছে—কিছুদিন আগে লেখা।
অভিক ভাবল, “চিঠিতে যে আবেগ, হৃদয়ের অব্যক্ত কথা—
তা বোধহয় অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না।”
সে ঠোঙ্গাটা তুলে রাখল ড্রয়ারে।
কোনোদিন হয়তো নিশি ফিরে আসবে।
আর সেদিন—সত্যিই জন্ম হবে নতুন এক নিশির।
#অপ্রকাশিত_প্রেম #নিশির_জন্ম #হৃদয়ের_চিঠি #অণু_গল্প #বাংলা_সাহিত্য #মানুষের_আবেগ #HumanStory
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।