ভূঁইয়া-বাড়ির দুয়ার হতে লাজুকলতা এনে,
রোপণ করেছিলাম মোর ছোট্ট মালঞ্চ-বনে।
তুমুল যতনে জল সিঞ্চন করিতাম তার গায়ে,
আলতো স্পর্শের পর লজ্জায় যেত সে নুয়ে।
তেমনি ছিল এক লাজুকলতা-মেয়ে,
অধরে তাহার মৃদু নেশা ঝরে গান গেয়ে।
চিরচেনা সেই মুখখানি, চিরচেনা সেই হাসি,
দেখলেই কেন জানি মনে বাজত বাঁশি।
বাবলার ছায়া মাড়িয়ে সে যেত আঁকাবাঁকা পথে,
নূপুর তাহার ঝংকার তুলত নিঝুম দুপুর-রাতে।
আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম দূরে, নীরব পথের ধারে,
সে-ও যেন চাহিয়া দেখত আড়াল চোখের তারে।
লাজুকলতার পাতায় যেমন স্পর্শে নামে লাজ,
তেমনি তার চোখের পাতায় লুকাত কত সাজ।
কিছু বলা হয়নি কখনো, তবু কত কথা—
নীরবতার ভাঁজে ভাঁজে জমে ছিল ব্যথা।
আজও আমার মালঞ্চজুড়ে লাজুকলতা হাসে,
পুরোনো সেই দিনগুলো তার পাতার ফাঁকে ভাসে।
শুধু সেই লাজুক মেয়েটি নেই এই পথের ধারে—
নূপুরের সেই মৃদু ঝংকার হারিয়েছে কালের পারে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।