উত্তর দিও প্রিয় সুহাসিনী—
রফিক আতা
উত্তর দিও—
কোন স্বপ্নে কেউ তোমার পিছু ছুটত অষ্টপ্রহর, দিনের আলো, রাতের অন্ধকার ভুলে? কোন কারণে সহস্রবারেও তোমার প্রতি মিটত না কারো অবলা, নিথর দৃষ্টিক্ষুধা— চেয়ে থেকেও যে তৃষ্ণা শেষ হতো না? কোন প্রহরে তোমার চলার পথ কারো বুকের গভীর স্পন্দনে হঠাৎ কেঁপে উঠত, অকারণে?
উত্তর দিও—
কে সে জন—যে তোমার মুখোমুখি হলে ভুলে যেত দুনিয়ার সব ঘ্রাণ, সব শব্দ, সব হিসাব? কে সে জন—যে তোমার পদচিহ্ন চুমু খেত কল্পনার গোপন কক্ষপথে, যেখানে উচ্চারণের সাহস ছিল না, ছিল শুধু নীরব আরাধনা? কে সে জন—যে তোমায় কল্পিত শরাবের নেশায় মত্ত হতো, রাত-বিরাতে নিজের নাম ভুলে?
উত্তর দিও—
কি কারণ ছিল তাকে ইগনোর করার, যে তোমাকে হারাবার ভয়ে কখনো বলতে পারেনি— “তোমাকে মনের করে চাই, প্রিয় সুহাসিনী”? কি কারণ ছিল তাকে অবহেলা করার, যে নিজের ডিকশনারি থেকে মুছে দিয়েছিল ‘অবহেলা’ নামক শব্দটি, শুধু তোমার জন্য? কি কারণ ছিল তাকে এড়িয়ে চলার, যে তোমার জন্য নির্ঘুমে রাত পোহাত, চোখে ঘুম, বুকভর্তি নাম— তোমারই নাম?
উত্তর দিও—
তুমি তো তাকে কখনো নিষেধ করোনি— “ওহে প্রেমী, আমার পথ না ছুঁবি।” তবে কেন গল্পের শেষ দৃশ্য না রেখে হঠাৎ সমাপ্তি টেনে দিলে? কেন অর্ধেক কথায়, অর্ধেক ভালোবাসায় পর্দা নামালে?
তুমি তো কখনো— শেষ বাক্যটি বলোনি, শেষ দৃষ্টি রাখোনি।
নাকি উত্তরগুলো আজও তোমার নীরবতার ভেতরেই কাঁদতে কাঁদতে অপূর্ণ থেকে যায়?
১৫, ১২, ২০২৫ইং
সোমবার
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।