“ কী-যে হলো, এখন নতুন ক্যালেন্ডারে
চোখ পড়লেও বনবাদাড়ের ভীষণ দৃশ্যের
ছবি ফুটে ওঠে, কল্যাণের পলায়নে
হতাশায় ডুবে যেতে-যেতে রজ্জু ভেবে সর্পকেই তুলি হাতে।
আবার খুঁড়িয়ে হাঁটবো কি দীর্ঘ ভাঙাচোরা পথে,
যেখানে অনেক মোড়ে আচমকা অতি
ভয়ানক গহ্বর নিষ্ঠুর হাসি ছড়িয়ে তিমিরে
তুমুল লাফিয়ে ওঠে প্রাগৈতিহাসিক জন্তুদের
হিংস্রতায়।”
: বাংলার বিখ্যাত কবি শামসুর রহমানের
“ক্যালেন্ডার পাল্টে গেলে” কবিতা থেকে সংগৃহীত
এই কয়েকটি লাইন যেন আমার বুকের ভেতর
হৃদয় বিদারক চিহ্ন এঁকে দেয়।
সত্যি বলতে গেলে—
নিজের দুর্বল কলমে
মনোজগতের এমন অনুবাদ করতে আমি ব্যর্থ।
তবু বরেণ্যদের কাব্যপথে হেঁটে হেঁটেই
মনে হয়—যেন খানিকটা উপশম পাই,
পাই মনের নিজস্ব অনুবাদ।
—কি যে হলো আমার!
নতুন ক্যালেন্ডারের দিকে তাকাতে পারি না আর।
ভয়ানক এক দৃশ্য চোখে ভেসে ওঠে—
পঁচিশের সুদীর্ঘ এক অরণ্যে
কত চিল-শকুনের থাবায় থাবায়
মস্তিষ্কটা থেতলে গেছে—
যার ক্ষত আজও কুরে কুরে খায় আমায়।
তাই আলোর ঝলককেই
আধার ভেবে ফেলি কখনো কখনো।
প্রবৃত্তির বশে মঙ্গল থেকে ছিটকে গিয়ে
নর্দমার আস্তাকুঁড়ে গড়াগড়ি খাই।
আর ভীষণ মানসিক চাপে
অকিঞ্চিতকর অবহেলায় রুগ্ন হয়ে
কাতরাতে থাকি এক অকাল বৈধব্যের চিতায়।
হতাশার তীব্র আঁচড়ে
এবড়ো-খেবড়ো হয়ে পড়ে জীবনপাঠ।
ভাববার শক্তিটুকুও হারাই কখনো—
হালকা আঁধারের আধিপত্যে
রশি ভেবে সাপের সঙ্গেই
তুমুল কথোপকথনে লিপ্ত হই।
এ দৃশ্য দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে
ইতিহাস-পূর্ব যুগের জ্বিনসম্প্রদায়।
তবু ভুল সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়েই
খুঁজি সত্যের মহাগ্রন্থ!
—“আবার খুঁড়িয়ে হাঁটবো কি দীর্ঘ ভাঙাচোরা পথে?”
আবার কি পিচলে পড়বো
কোটি বছরের শ্যাওলা-ঢাকা
পথের পিচ্ছিলতায়?
নাকি এবার সত্যিই সজাগ হবো?
সজাগ হবো
তীব্র হাশিশের মাতাল উন্মাদনা থেকে?
নাকি তুমুল হ্যালুসিনেশনে হারিয়ে গিয়ে
বুদ হয়ে থাকবো কোনো অদৃশ্য সুহাসিনীর
নির্মম প্রেমের অতল আকুলতায়?
“আবার খুঁড়িয়ে হাঁটবো কি দীর্ঘ ভাঙাচোরা পথে,
যেখানে অনেক মোড়ে আচমকা অতি
ভয়ানক গহ্বর নিষ্ঠুর হাসি ছড়িয়ে তিমিরে
তুমুল লাফিয়ে ওঠে প্রাগৈতিহাসিক জন্তুদের
হিংস্রতায়।”
না, আর নয়!
এবার অন্তত চোখ মেলি
ছিন্নভিন্ন ঝোপঝাড়ের এই পৃথিবীতে।
একটু মুখ মিশাই
আত্মশুদ্ধির বিশুদ্ধ কোমলপ্রাণ জলে।
এবার অন্তত শৈত্যের বুক চিরে
নবজোয়ারের অনল প্রবাহ বৃদ্ধি করি—
যেন ছাইয়ের নিচে লুকানো অঙ্গার
জ্বলে ওঠে আবার,
আর অন্ধকারের বুকে
ফুটে ওঠে একটি ক্ষীণ—
তবু অটুট আলোর রেখা।
রফিক আতা
১.১.২০২৬ ইং
বৃহস্পতিবার
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।