গদ্যের শহরে
আমি একাই কবি হওয়ার
ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাই।
রাস্তায় রাস্তায় শুধু বাক্যের ভিড়,
চিহ্নিত দোকানের সাইনবোর্ড,
ট্রাফিক সিগন্যালের লাল-সবুজ নির্দেশ,
আর মানুষের মুখে খণ্ড খণ্ড বাক্যাংশ—
কোথাও একটি ছন্দও নেই।
তবু আমি লিখি।
কখনো দেওয়ালে, কখনো বাসের জানালায়,
কখনো ভিজে কাগজে যা বৃষ্টিতে মুছে যায়।
কেবল একজনের
মন স্পর্শ করাই আমার
মুখ্য উদ্দেশ্য।
সে কি কখনো পড়বে
এই অগোছালো লাইনগুলো?
কিংবা রাতের ট্রম ট্রেনে
কোনো ভাঁজ-করা কাগজে
আমার নামহীন কবিতা পেয়ে
চোখ তুলে তাকাবে আকাশের দিকে?
হয়তো!
হয়তো একদিন
বিগলিত হৃদয়ে
সে সামনে এসে দাঁড়াবে
আমার সব ব্যর্থতার মাঝে
এবং ধীরে ধীরে বলবে—
“আপনাকে আমি এতদিন
খুঁজে ফিরেছি
গদ্যের এই শহরে
যেখানে কেউ কবিতা পড়ে না।
আপনি লিখে যান,
আমি পড়তে থাকব
আর কখনো একা থাকব না।”
তখন আমার সব ব্যর্থতা
একটি মাত্র সার্থকতায়
রূপান্তরিত হবে।
রচনাকাল —
আটাশ, এগারো, পঁচিশ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।