কাব্যলিপি:—
আজ কাব্যের ঘরে শতাব্দী
প্রাচীন অজানা ধূলোর আড়,
ধূলো সরিয়ে সামনে যাই —
চরণ রচনায় ইচ্ছে প্রগাঢ়।
হলে কবি! কবিতায় আঁকতাম
সুহাসিনী তোমার ধূসর ছবি,
প্রশান্তির প্রসবণে ভিজে গিয়ে
উঠতো হৃদয়ে প্রসন্ন রবি।
হলে কবি! কবিতায় লিখতাম
বেদনার শত মলিন চিহ্ন,
মুছে দিতাম হৃদয়ের কায়া
অবসন্ন অপরাহ্নের দুঃখবৃন্ত।
আজ বড়ো মননহীন সময়,
আজ বড়ো কবিত্বহীন ক্ষণ,
এযে দুঃসময়ের বধ্যভূমিতে
কাব্যচাষের এক কথোপকথন।
তবু লিখি—কারণ এই লেখা
মনে আনে নরম উজ্জ্বল ক্ষণ,
স্বপ্নরোপণ নিশীথ আঁধারে
আমারই কাব্য, আমারই জীবন।
গদ্যলিপি:—
আমি কবি নই, নই কবিদের সংশ্রবি। তবুও জানি না কেন, খুব ইচ্ছে জাগে কবিতা লিখতে—কবিতার ঘরে নিঃশব্দে জমিয়ে রাখতে কিছু অব্যক্ত কথা। কবিতার চরণে, বরণে, বর্ণে আঁকতে চাই বিষণ্ণ বিকাল ও অভিমানী আধারের না বলা কিছু গল্প। কবিতার বুকে রোপণ করতে চাই অর্ধলিখিত স্বপ্নের বিজ।
জানি—আমার শব্দভান্ডার সীমিত। জানি—আমার অভিধান ক্ষুদ্র। জানি—কবিতা লিখতে চাওয়াও যেন দুঃসাহস, কবি হওয়ার স্বপ্ন দেখা যেন অদৃশ্য কোনো আইনের লঙ্ঘন। তবুও এমন সাহস, তবুও এমন প্রত্যয়—সহস্র!
আমি আঁধার নিশীথে নিশাচর হয়ে খুঁজি চারপাশে এক ঝাঁক স্বর্ণশব্দ। টেবিল ল্যাম্পের নিওন আলোয় নিরবে খুঁজি দুটি চরণ রচনার বীজ, দুটি লাইন বপনের অঙ্কুর। মনে হয়—প্রতিটি শব্দ যেন ধীরে ধীরে বাতাসে ঝরে পড়ে, তারপর একে একে কাগজের বুকের সঙ্গে মিশে যায়। বলো—এ দৃষ্টতা কি প্রকৃতি সয়?
মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি, এই শব্দগুলো কি শুধুই শব্দ, নাকি আমার ভেতরের অপ্রকাশ্য অনুভূতির প্রতিচ্ছবি? রাতের নীরবতা গভীর হলে মনে হয়, শীতল বাতাসও যেন শব্দের সঙ্গে খেলছে, চুপচাপ শুনছে আমার অজানা কণ্ঠ।
আর তাই—আমি লিখে যাই, নিরব রাতে, টেবিলের আলোয়, অর্ধেক স্বপ্ন আর অর্ধেক বাস্তবের মধ্যে। যতোটা পারি, যেভাবে পারি, যেন কোনো দিন এই নিঃশব্দ চেষ্টার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাই, আর হয়তো, একদিন, কাগজের পৃষ্ঠাতেই আমার অপ্রকাশ্য কল্পনা আলো দেখবে।
দিনলিপি
ষোল, এক, পঁচিশ
মঙ্গলবার
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।