বাপজানের ভীষণ অসুখ করছে,
পাঁচদিন ধইরা হাসপাতালের বেডে পড়ে আছেন,
মা শিথানের পাশে বইসা নিঃশব্দে চুল আছড়াইয়া দিচ্ছেন—
আমি কাঁপা বিষাদ বুকে থুইয়া আনমনে বসে আছি
পায়ের দিকের কোনায়।
মনে পড়ে, এই হাতেই তো ধরছিলাম আঙুল,
এই কাঁধেই মাথা রাইখা কত ভয় ঘুমাইছে নির্ভয়ে,
আজ সেই হাত নিস্তেজ, সেই কাঁধ ক্লান্ত—
সময়টায় কেমন উল্টা হাওয়া বইতেছে।
প্রত্যেকটা বাবাই সন্তানের লাইগা বটবৃক্ষের মতন,
যে গাছের শীতল ছায়ায় মানুষ বড় হয়, স্বপ্ন গড়ে,
ঝড় আসলে বুক পেতে দাঁড়ায়, রোদ আসলে ছায়া দেয়।এই সত্তা নুয়ে পড়লে নুয়ে পড়ে মন,
আর ঘরের বাতাসও হঠাৎ কেমন জানি থমকে যায়,দেয়ালগুলোও যেন চুপচাপ কাঁদে।
আল্লাগো!
আমার বাপজান রে তুমি সুস্থ কইরা দাও।
তার কষ্টগুলা আমার বুকে দিয়া দাও,
তার শ্বাসটুকু আবার স্বাভাবিক কইরা দাও।
আমি চাই—
নুয়ে নুয়ে হলেও আর ক'টা দিন
বাপজান এই ভাঙা সংসারের হালটা ধরুক,
আর আমি দূর থেইকা না,
তার ছায়ার নিচেই আবার একটু দাঁড়াই।
—রফিক আতা
১৮.৪.২৬ | শনিবার।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।