আমি একটি কাব্যগ্রন্থ লিখবো।
গ্রন্থটি মলাটবদ্ধ করবো একশো পৃষ্ঠায়।
পুরো গ্রন্থটিকে তিনভাবে বিভক্ত করবো।
প্রথম তেত্রিশ পৃষ্ঠা ভরিয়ে দেবো
শুধু তোমার হাসির সৌন্দর্য ও মাধুর্যের বর্ণনায়—
লাজুক হাসি, অভিমান ভাঙার হাসি,
মাঝে মাঝে অকারণ ফুটে ওঠা হাসি।
আসলে তোমার হাসি নিয়েই তো
লিখে ফেলা যায় শত শত কবিতা;
তবু থামবো তেত্রিশ পৃষ্ঠাতেই—
বইটি অত দীর্ঘ হয়ে যাক, তা আমি চাই না।
দ্বিতীয় তেত্রিশ পৃষ্ঠা পূর্ণ করবো
তোমার চোখের বিবশ নেশার তীব্র কাব্যে।
নীরবতা, অপেক্ষা, অশ্রু, অনুচ্চারিত কথা;
তৃতীয় তেত্রিশ পৃষ্ঠা জুড়ে লিখবো
তোমার মুখের উপর এলোমেলো উড়তে থাকা ভেজা চুলের কথা, আর তোমার কণ্ঠের মায়া।
এসব না লিখলে যে আমার প্রিয় কবিতারা
বাকি রইলো মাত্র একটি পৃষ্ঠা।
সে পৃষ্ঠায় আমি কিছুই লিখবো না।
আমি সেটি তোমার কদমের ধুলোয় উৎসর্গ করবো।
এই পৃষ্ঠাটি খালি রাখলে কেন?
পুরো গ্রন্থ তো তোমাকে নিয়েই লিখেছি,
তুমি হয়তো কিছুক্ষণ নীরব থাকবে,
তারপর খুব ছোট করে লিখবে—
“কিন্তু আমি তো তোমাকে কখনো ভালোবাসিনি।”
মানুষ তুমুল সমালোচনায় মেতে উঠবে—
এমন সমাপ্তি আমরা মানি না,
এভাবে কোনো প্রেমকাব্যের শেষ হতে পারে না।
তখন আমি শান্ত গলায় বলবো—
যে বইয়ে প্রিয়ার স্পর্শ আছে,
আছে আমায় নিয়ে লেখা এক মহাকাব্য,
কিন্তু এটাই পূর্ণতা, এটাই যে সমাপ্তি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।