ফিরআউন নয়, কেন "রাজা"?
কোরআনের ভাষার অন্যতম বিস্ময়কর দিক হলো, এটি ইতিহাসের প্রতিটি যুগের শাসককে একই নামে উল্লেখ করেনি। বরং যে যুগে যে উপাধি প্রচলিত ছিল, কোরআন ঠিক সেই উপাধিই ব্যবহার করেছে।
অনেকেই জানেন, মিসরের সব শাসককেই "ফিরআউন" বলা হতো। কিন্তু কোরআন এ ধারণাকে অনুসরণ করেনি।
হযরত ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনিতে কোরআন কখনো শাসককে "ফিরআউন" বলেনি। বরং বলেছে:
> وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَىٰ سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ...
"রাজা বললেন, আমি স্বপ্নে সাতটি মোটা গাভী দেখেছি..."
(সূরা ইউসুফ ১২:৪৩)
এখানে ব্যবহৃত শব্দটি হলো الملك (আল-মালিক), যার অর্থ রাজা।
অন্যদিকে, হযরত মূসা (আ.)-এর যুগে কোরআন বারবার ব্যবহার করেছে فرعون (ফিরআউন)।
যেমন:
> اذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ
"ফিরআউনের কাছে যাও। নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন করেছে।"
(সূরা ত্বা-হা ২০:২৪)
কেন এই পার্থক্য?
আধুনিক মিসরবিদ্যা (Egyptology) থেকে জানা যায়, ইউসুফ (আ.)-এর সম্ভাব্য সময়ে মিসরের শাসকদের সাধারণভাবে King (রাজা) বলা হতো। পরে নতুন রাজবংশের সময় থেকে Pharaoh (ফিরআউন) উপাধি রাজাদের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
অর্থাৎ, ইউসুফ (আ.)-এর সময়ের জন্য "রাজা" এবং মূসা (আ.)-এর সময়ের জন্য "ফিরআউন" ব্যবহার ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ সপ্তম শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপে প্রাচীন মিসরের এই সূক্ষ্ম ঐতিহাসিক পার্থক্য জানা ছিল না। তবুও কোরআন দুই যুগের জন্য দুটি ভিন্ন উপাধি ব্যবহার করেছে।
এ কারণেই অনেক গবেষক এই শব্দচয়নকে কোরআনের ভাষাগত ও ঐতিহাসিক নির্ভুলতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
"এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ়ভাবে বিন্যস্ত এবং প্রজ্ঞাময় সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত।" — সূরা হূদ, ১১:১
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।