কোরআনে সূর্য ও চাঁদের আলোকে একইভাবে বর্ণনা করা হয়নি। বরং তাদের জন্য ভিন্ন আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভাষাতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আল্লাহ বলেন:
«هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا
"তিনিই সূর্যকে করেছেন দিয়া (ضِيَاءً) এবং চাঁদকে করেছেন নূর (نُورًا)।"
(সূরা ইউনুস ১০:৫)»
এখানে ضياء (দিয়া) শব্দটি এমন আলোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যা নিজে থেকে তীব্রভাবে বিকিরিত হয়। আর نور (নূর) এমন আলো বোঝায়, যা কোমল, প্রতিফলিত বা আলোকিতকারী।
একই বিষয় আরেকটি আয়াতে এসেছে:
«وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا
"তিনি সেখানে চাঁদকে করেছেন আলো (নূর) এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ (সিরাজ)।"
(সূরা নূহ ৭১:১৬)»
এখানে সূর্যকে سِرَاجًا (সিরাজ) অর্থাৎ "প্রদীপ" বলা হয়েছে, যা নিজে থেকে আলো উৎপন্ন করে। কিন্তু চাঁদকে বলা হয়েছে نُورًا (নূর), "প্রদীপ" নয়।
আরবি ভাষার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কেবল শব্দের বৈচিত্র্য নয়। প্রতিটি শব্দ তার নিজস্ব অর্থ বহন করে এবং প্রসঙ্গ অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে। তাই কোরআনের ভাষায় সূর্য ও চাঁদের জন্য সমার্থক শব্দ ব্যবহার না করে ভিন্ন শব্দ বেছে নেওয়া ভাষার সূক্ষ্মতা ও অর্থগত নির্ভুলতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।