কোরআনে কোনো ব্যক্তির স্ত্রীকে বোঝাতে কখনো زوج (যাওজ), আবার কখনো أهل (আহল) ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বাংলায় উভয় ক্ষেত্রেই অনেক সময় "স্ত্রী" অনুবাদ করা হয়, কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ মূসা (আ.) সম্পর্কে বলেন:
«فَلَمَّا قَضَىٰ مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ
"অতঃপর মূসা নির্ধারিত সময় পূর্ণ করে তাঁর পরিবার (আহল) নিয়ে রওনা হলেন।"
(সূরা আল-কাসাস ২৮:২৯)»
এখানে أهله ব্যবহৃত হয়েছে। প্রসঙ্গ থেকে বোঝা যায়, এখানে তাঁর স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে। তবে أهل শব্দটি কেবল স্ত্রী নয়, বরং পরিবারের সদস্য বা গৃহের আপনজনের ধারণাও বহন করে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ
"তুমি এবং তোমার স্ত্রী (যাওজ) জান্নাতে বসবাস কর।"
(সূরা আল-বাকারা ২:৩৫)»
এখানে زوج ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ককে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে।
আরেকটি উদাহরণ:
«قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا
"তিনি তাঁর পরিবারকে বললেন, 'তোমরা অপেক্ষা করো, আমি একটি আগুন দেখতে পেয়েছি।'"
(সূরা ত্বা-হা ২০:১০)»
এখানেও أهله এসেছে। কারণ এখানে পরিবারের সঙ্গে সফররত আপনজনদের সমষ্টিগত পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কেবল বৈবাহিক সম্পর্ককে নয়।
অর্থাৎ, زوج শব্দটি স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক যুগলত্বকে প্রকাশ করে, আর أهل শব্দটি পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা, গৃহের সদস্য বা আপনজনের পরিচয়কে প্রকাশ করে। তাই কোরআন প্রসঙ্গ অনুযায়ী কখন زوج, আবার কখন أهل ব্যবহার করেছে। এই সূক্ষ্ম শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর আরেকটি অনন্য উদাহরণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।