কোরআনে "বলা" বোঝাতে একই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। কখনো এসেছে قُلْ (কুল), আবার কখনো قَالَ (ক্বালা)। যদিও উভয়ই ق و ل (ক-ও-ল) ধাতু থেকে এসেছে, তবে তাদের ব্যাকরণগত রূপ ও উদ্দেশ্য ভিন্ন।
১. قُلْ (কুল) : আদেশসূচক (Imperative), অর্থ "বলুন" বা "বলো"।
«قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।"
(সূরা আল-ইখলাস ১১২:১)»
এখানে আল্লাহ সরাসরি রাসুল ﷺ-কে নির্দেশ দিচ্ছেন। তাই আদেশবাচক রূপ قُلْ ব্যবহৃত হয়েছে।
২. قَالَ (ক্বালা) : অতীতকাল, অর্থ "সে বলল"।
«قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
"তিনি বললেন, 'হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।'"
(সূরা ত্বা-হা ২০:২৫)»
এখানে মূসা (আ.)-এর একটি ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে। তাই অতীতকালের ক্রিয়া قَالَ ব্যবহৃত হয়েছে।
কোরআনে قُلْ প্রায় ৩৩০ বারেরও বেশি এসেছে। প্রতিবারই এটি রাসুল ﷺ-কে কোনো সত্য, জবাব বা ঘোষণা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সরাসরি নির্দেশ। অন্যদিকে قَالَ، قَالُوا، قُلْنَا ইত্যাদি রূপগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, নবী, ফেরেশতা বা জাতির বক্তব্য বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
এটি দেখায় যে কোরআনে শুধু শব্দ নয়, ক্রিয়ার রূপ (Verb Form)-ও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। কোথায় আদেশ, কোথায় বর্ণনা, কোথায় সংলাপ, আর কোথায় ইতিহাস, প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত রূপ অর্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নির্ভুলতাই কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।