কোরআনের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে মুসলিম পণ্ডিতরা এর ঐশী উৎসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। কোরআনের ভাষা প্রচলিত আরবি কবিতা নয়, আবার সাধারণ গদ্যও নয়; এটি নিজস্ব এক অনন্য ভাষাশৈলী, যা সপ্তম শতকের আরবের শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিকদেরও বিস্মিত করেছিল। কোরআন নিজেই মানুষকে চ্যালেঞ্জ জানায়, যদি তারা একে মানব রচনা মনে করে, তবে এর মতো একটি সূরা রচনা করে আনুক। চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই চ্যালেঞ্জ মুসলিম ঐতিহ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কোরআনের শব্দ নির্বাচন, বাক্যগঠন, অর্থের গভীরতা, ধ্বনি ও ছন্দের সামঞ্জস্য এবং অলঙ্কারিক সৌন্দর্য এমনভাবে বিন্যস্ত যে একটি শব্দ পরিবর্তন করলেও অর্থ, প্রভাব ও সৌন্দর্যে পরিবর্তন ঘটে। একই সঙ্গে প্রায় ২৩ বছরে বিভিন্ন সময়, স্থান ও পরিস্থিতিতে নাজিল হওয়া সত্ত্বেও এর ভাষাশৈলীর ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য অটুট রয়েছে। এই কারণেই আরবি ভাষাবিদ্যা, বালাগাহ (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় কোরআনকে একটি অনন্য সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এটিও সত্য যে ভাষাতত্ত্ব একটি গ্রন্থের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু কেবল ভাষাবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো গ্রন্থের ঐশী উৎস চূড়ান্তভাবে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা যায় না। মুসলিমদের দৃষ্টিতে এই ভাষাগত অনন্যতাই কোরআনের অলৌকিকতার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।