বাংলায় আমরা সাধারণত "সৃষ্টি করা" শব্দটিই ব্যবহার করি। কিন্তু কোরআনে সৃষ্টি বোঝাতে একাধিক আরবি ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ক্রিয়া সৃষ্টির ভিন্ন দিককে প্রকাশ করে।
১. خَلَقَ (খালাকা) : অস্তিত্বহীন থেকে সৃষ্টি করা, নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি করা।
«اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ
"আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা।"
(সূরা আয-যুমার ৩৯:৬২)»
এটি কোরআনে সৃষ্টি বোঝাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ।
২. جَعَلَ (জা'আলা) : কোনো কিছুকে একটি নির্দিষ্ট অবস্থা, ভূমিকা বা বৈশিষ্ট্য প্রদান করা।
«وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا
"আমি রাতকে করেছি আবরণ এবং দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়।"
(সূরা আন-নাবা ৭৮:১০-১১)»
এখানে আল্লাহ রাত ও দিনকে নতুন করে সৃষ্টি করেননি, বরং তাদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নির্ধারণ করেছেন। তাই جعل ব্যবহার করা হয়েছে, خلق নয়।
৩. فَطَرَ (ফাতারা) : প্রথমবার অস্তিত্বে আনা, আদিতে উদ্ভাবন করা।
«الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
"সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রাথমিক স্রষ্টা।"
(সূরা ফাতির ৩৫:১)»
فاطر শব্দটি শুধু "স্রষ্টা" নয়, বরং "যিনি প্রথমবার অস্তিত্বে এনেছেন" এই অর্থও বহন করে।
অর্থাৎ, কোরআনে সব জায়গায় خلق ব্যবহার না করে প্রসঙ্গ অনুযায়ী خلق، جعل، فطر ইত্যাদি শব্দ নির্বাচন করা হয়েছে। কোথাও মূল সৃষ্টি, কোথাও ভূমিকা নির্ধারণ, আবার কোথাও প্রথমবার অস্তিত্বে আনার অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে। সমার্থক মনে হলেও প্রতিটি শব্দের নিজস্ব অর্থগত গভীরতা রয়েছে। এই সূক্ষ্ম শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।