কোরআনের ভাষার একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, عقل (আকল) শব্দের মূল ধাতু ع-ق-ل বহুবার ব্যবহৃত হলেও, "العقل" (বুদ্ধি) বিশেষ্য রূপটি কোরআনে একবারও আসেনি। বরং কোরআন বারবার ক্রিয়ারূপ ব্যবহার করেছে, যেমন يَعْقِلُونَ (তারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে), تَعْقِلُونَ (তোমরা কি বুদ্ধি প্রয়োগ করবে?), نَعْقِلُ (আমরা বুঝি/বুদ্ধি প্রয়োগ করি) ইত্যাদি।
উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ বলেন:
«أَفَلَا تَعْقِلُونَ
"তোমরা কি বুদ্ধি প্রয়োগ করবে না?"
(সূরা আল-বাকারা ২:৪৪)»
আবার বলেন,
«كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
"এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুদ্ধি প্রয়োগ কর।"
(সূরা আল-বাকারা ২:২৪২)»
লক্ষ্য করুন, কোরআন বলেনি "যাদের আকল আছে", বরং বলেছে "যারা আকল ব্যবহার করে"।
এটি একটি গভীর ভাষাতাত্ত্বিক দিক। বিশেষ্য (noun) সাধারণত একটি স্থির গুণ বা পরিচয় বোঝায়, কিন্তু ক্রিয়া (verb) বোঝায় কর্ম, প্রয়োগ ও সক্রিয়তা। কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা শুধু "বুদ্ধি থাকা" নয়, বরং সঠিক সময়ে সেই বুদ্ধিকে ব্যবহার করা।
অর্থাৎ, কোরআন মানুষের পরিচয়ের চেয়ে তার চিন্তা করার কর্মকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাই عقل-কে স্থির বিশেষ্য হিসেবে নয়, বরং সক্রিয় ক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আরবি ভাষাতত্ত্ব ও বালাগাহর দৃষ্টিতে এটি কোরআনের শব্দ নির্বাচনের এক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য, যেখানে ভাষার রূপই একটি গভীর শিক্ষা বহন করে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।