কোরআনে "ডাকা" বোঝাতে সব জায়গায় একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি। কখনো دعا (দা'আ), আবার কখনো نادى (নাদা) ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও উভয়ের সাধারণ অর্থ "ডাকা", কিন্তু আরবি ভাষায় এদের অর্থগত পার্থক্য রয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
«ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
"তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।"
(সূরা গাফির ৪০:৬০)»
এখানে ادعوني (دعا ধাতু থেকে) ব্যবহৃত হয়েছে। دعا-এর মূল অর্থ হলো আহ্বান করা, প্রার্থনা করা বা কাউকে নিজের দিকে ডাকা। তাই আল্লাহর কাছে দোয়ার ক্ষেত্রে কোরআনে প্রায়শই دعا ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে আল্লাহ বলেন:
«وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ
"আর নূহ তাঁর রবকে উচ্চস্বরে ডাকলেন।"
(সূরা হূদ ১১:৪৫)»
এখানে نادى ব্যবহৃত হয়েছে। نادى-এর মূল অর্থ হলো উচ্চস্বরে ডাকা, বিশেষত যখন দূরত্ব থাকে বা প্রবল আবেগের কারণে জোরে আহ্বান করা হয়।
আরও একটি উদাহরণ:
«وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ
"জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের উচ্চস্বরে ডাকবে।"
(সূরা আল-আ'রাফ ৭:৪৪)»
এখানেও نادى ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ এখানে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে এবং পরস্পরকে উচ্চস্বরে সম্বোধন করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, دعا সাধারণত আহ্বান, দোয়া বা কাউকে নিজের দিকে ডাকার অর্থ প্রকাশ করে, আর نادى বোঝায় উচ্চস্বরে, দূর থেকে বা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে কাউকে ডাকা। কোরআন এই দুটি ক্রিয়াকে কখনোই এলোমেলোভাবে ব্যবহার করেনি। প্রতিটি প্রসঙ্গে যে শব্দটি অর্থকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে, সেটিই নির্বাচন করা হয়েছে। এই সূক্ষ্ম শব্দচয়ন কোরআনের ভাষাগত অলংকার ও বালাগাহর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।