কোরআনে জাহান্নামকে সব জায়গায় একই নামে ডাকা হয়নি। বরং বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শুধু ভাষার বৈচিত্র্য নয়, বরং প্রতিটি নাম জাহান্নামের একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা দিককে তুলে ধরে।
১. جَهَنَّم (জাহান্নাম) : জাহান্নামের সাধারণ নাম।
«إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا
"নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে রয়েছে।"
(সূরা আন-নাবা ৭৮:২১)»
২. سَعِير (সাঈর) : প্রজ্বলিত অগ্নি।
«وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ سَعِيرًا
"আর আমি তাদের জন্য প্রজ্বলিত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।"
(সূরা আল-ফুরকান ২৫:১১)»
এখানে سَعِير শব্দটি আগুনের তীব্র প্রজ্বলনকে প্রকাশ করে।
৩. لَظَىٰ (লাযা) : দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন।
«كَلَّا إِنَّهَا لَظَىٰ
"কখনোই নয়! নিশ্চয়ই তা দাউদাউ জ্বলন্ত আগুন।"
(সূরা আল-মাআরিজ ৭০:১৫)»
৪. الْحُطَمَة (আল-হুতামাহ) : চূর্ণবিচূর্ণকারী আগুন।
«وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ
"তুমি কি জানো, হুতামাহ কী? এটি আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন।"
(সূরা আল-হুমাযাহ ১০৪:৫-৬)»
الحطمة শব্দটি حطم ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ "চূর্ণ করা" বা "ভেঙে ফেলা"।
অর্থাৎ, কোরআনে জাহান্নামের জন্য একটিমাত্র শব্দ ব্যবহার না করে এমন শব্দ বেছে নেওয়া হয়েছে, যা কখনো তার আগুনের তীব্রতা, কখনো তার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা, আবার কখনো তার ভয়াবহ পরিণতিকে ফুটিয়ে তোলে। এই সূক্ষ্ম শব্দ নির্বাচন কোরআনের ভাষাশৈলীর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য, যেখানে প্রতিটি শব্দ নিজস্ব অর্থগত গভীরতা বহন করে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।